পাকিস্তানের কারাগারে তালেবান হামলায় নিহত ১২
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২১:১৮
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ডেরা ইসমাইল খান শহরে পুলিশের বেশ ধরে তালেবান জঙ্গিরা শহরটির কেন্দ্রীয় কারাগারে হামলা চালিয়ে ৩০০ জন বন্দীকে মুক্ত করে নিয়ে গেছে। এ হামলায় ৬ পুলিশসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার মধ্যরাতে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই- তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর জঙ্গিরা বিভিন্ন পাশ থেকে একযোগে কারাগারটিতে হামলা শুরু করে বলে জানিয়েছে ডন অনলাইন। খবর বিবিসি ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
প্রায় ২৫টি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কারাগারটিতে হামলা শুরু করে তারা। এরপর রকেট চালিত গ্রেনেড নিক্ষেপ ও মেশিনগানের গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে শহরের সরকারি ডিগ্রি কলেজের পাশের সবজি বাজারের দিক থেকে কারাগারে ঢোকার পথ করে নেয়। হামলার সময় জঙ্গিরা “আল্লাহু আকবর” ও “তালেবান দীর্ঘজীবী হোক” শ্লোগান দেয়।
পাকিস্তান সেনাবহিনীর সহায়তায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্যরা কারাগারটিকে ঘিরে রেখে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কারাগারের ভিতরে থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি বিনিময় চলছিল। হামলার দায় স্বীকার করে টিটিপির মুখপাত্র শহিদুল্লাহ শহিদ জানিয়েছেন, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ প্রায় ১শ’ জঙ্গি হামলায় অংশ নিয়েছে। হামলা সফল হয়েছে এবং তাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কারাগারটিতে কয়েকশ’ তালেবান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত অন্যান্য দলের জঙ্গি বন্দীরা ছিল। কারাগার কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী এখানে প্রায় পাঁচ হাজার কয়েদি ছিল। ডেরা ইসমাইল খান শহরটি দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ট্যাঙ্ক শহরের অনেকটা কাছাকাছি। ট্যাঙ্কে টিটিপি ও আল কায়েদার সদর দপ্তর। কারাগারটিতে অন্তত ৪৫ জন শীর্ষ জঙ্গি নেতা বন্দী ছিলেন বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গেছে।
প্রাদেশিক কারা অধিদপ্তরের প্রধান বার্তা সংস্থাকে জানান, কারাগারে হামলার হুমকি সম্বলিত একটি চিঠি এর আগেই কর্তৃপক্ষের হাতে এসে পৌঁছেছিল। কিন্তু সেই হামলা এত দ্রুত হতে পারে সেটি তারা ভাবেননি। গত বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানে উত্তরাঞ্চলীয় বানু এলাকায় একইরকম একটি হামলার পর শত শত বন্দী পালিয়ে যায়।
দেরা ইসমাইল খান শহরটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মূল শহর। পাহাড়ঘেরা এই উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাটি পাকিস্তানের একটি অন্যতম সহিংসতা-সঙ্কুল অঞ্চল।