বিদ্যুত্ যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সিলেটবাসী
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২১:৪১
রমজানের প্রথম দিকে বিদ্যুত্ সরবরাহ থাকলেও ১৫ রোজার পর থেকে নগরীতে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে রমজানে ঘন ঘন বিদ্যুত্ চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে ইফতারের ঠিক আগে বা পরের মুহূর্তে বিদ্যুত্ চলে যাওয়ার বিষয়টি একেবারেই অসহনীয়। নগরীর বিদ্যুত্ যন্ত্রণার চেয়ে বেশি যন্ত্রণা ভোগ করছেন উপজেলা ও অন্যান্য জেলাবাসী। ঘন ঘন লোডশেডিং যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ তারা।
সিলেটের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিদ্যুত্ বিপর্যয় বাড়ছে। ঝড়-বজ্রপাত, বৃষ্টি হলে লাইন ট্রিপ করে, ট্রান্সফরমার বিকলসহ নান কারণে বিদ্যুত্ বিভ্রাট ঘটে। আবার বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রেখেই তিনটি ডিভিশনে সংস্কার কাজ চলে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। গত রবিবার সুনামগঞ্জ জেলা শহরে বিদ্যুতের জন্য মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে শনিবার রাতে নগরীর অদূরে খাদিমপাড়ার ভুক্তভোগী গ্রাহকরা সিলেট-তামাবিল সড়কে খাদিমপাড়ার হযরত শাহপরাণ (র.) এর গেইটের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের বিদ্যুত্ সরবরাহের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
সিলেট অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি মোট ৭৪০ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হয়ে থাকে। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালে নগরীর চাহিদা ৩২০-৩৩০ মেগাওয়াট। শীতকালে চাহিদা ২১০-২২৫ মেগাওয়াট। অবশিষ্ট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সূত্র জানায়, অনেক সময় চাহিদার তুলনায় সরবরাহও কম থাকে।
বিদ্যুতের সিলেটস্থ প্রধান প্রকৌশলী সোলেমান খান ইত্তেফাককে বলেন, সীমিত জনবল ও সম্পদ দিয়ে সরবরাহ ঠিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সিস্টেম লসও অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ও হচ্ছে অতীতের চেয়ে অনেক বেশি। তবে মেরামতের জন্য অনেক সময় লাইন বন্ধ রাখতে হয়।
বৃহত্তর সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে এ অঞ্চলের বিদ্যুত্ ব্যবস্থার উন্নয়নে এক হাজার ৪৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন’ নামে চলমান প্রকল্পের কাজ ২০১৫ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি ২০১২ সালে শুরু হয়ে ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সিলেটে ভূমি পাওয়ার ব্যাপারে দীর্ঘসূত্রতাসহ নানা কারণে এর কাজ পিছিয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট অঞ্চলে ১ম ও ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তার অনুমোদিত ১৩৪ পদের মধ্যে ৫৯টি পদশূন্য। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৯৫৪টি পদের মধ্যে ৪৯৭টি পদশূন্য আছে দীর্ঘদিন থেকে। অর্থাত্ সিলেটের বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডেও মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর অর্ধেক পদশূন্য রয়েছে।