নতুন জামা জুতার সাথে ঈদে চাই নতুন টাকা
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৩
ঈদে আনন্দ বাড়িয়ে দিতে জুড়ি নেই নতুন জামা, পাঞ্জাবী কিংবা জুতার। এরসঙ্গে যদি হাতে থাকে নতুন কচকচে টাকা তাহলে ছোটদের ঈদের আনন্দ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। শুধু ছোটরা কেন, নতুন টাকা থাকলে বড়দেরও মন ভাল থাকে। ঈদ সালামি হিসেবে ছোট-বড় সবার কাছেই এক অন্যরকম আবেদন সৃষ্টি করে নতুন টাকা। এজন্য ঈদ এলেই কদর বেড়ে যায় নতুন টাকার।
ঈদে নতুন টাকার প্রচলন ঠিক কবে থেকে বা কীভাবে শুরু হয় সেটার দিনক্ষণ লিখিত আকারে পাওয়া যায় না। এই উপমহাদেশে মুসলিম শাসকরা ঈদের আগে প্রজাদের বিশেষ সালামি দিতেন। আর সেটা দিতেন চকচকে নতুন মুদ্রা দিয়ে। প্রজারা সে মুদ্রা স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করতেন। এর থেকেই মুসলিম সমাজে সবচেয়ে বড় উত্সব ঈদে সালামির প্রচলন। বর্তমানে নতুন টাকা ছাড়া সালামি যেন জমেই না।
ঈদে নতুন টাকা সরবরাহ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছরই প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত এক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের কাউন্টারে নতুন টাকার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে অনেককে। ঈদ যতই এগিয়ে আসছে ব্যাংকের কাউন্টারে বাড়ছে দীর্ঘ লাইন। নতুন টাকার চাহিদা বাড়ায় রাজধানীর বিভিন্নস্থানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী নতুন টাকা বিকিকিনির দোকান। টাকার পসরা সাজিয়ে বিক্রেতারা বসে আছেন। ক্রেতাদের ভীড়ও চোখে পড়ার মতো। ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে যারা সময় নষ্ট করতে চান না অথবা অফিস সময়ের পরে ঝামেলামুক্তভাবে নতুন টাকা নিতে চান মূলত তারাই এসব অস্থায়ী দোকানের ক্রেতা। তবে সেক্ষেত্রে বান্ডিল (১০০ পিস নোট) প্রতি নোটভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। অস্থায়ী বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নতুন নোটের চাহিদা বেশি। এছাড়া এক ও দুই টাকার কয়েন এবং ১০০, ৫০০ ও এক হাজার টাকার নোটের চাহিদাও বেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনের অস্থায়ী নতুন টাকা বিক্রেতাদের কাছ থেকে গতকাল ছয় হাজার ৬০ টাকা দিয়ে ২০ টাকার নোটের তিন বাল্ডিল টাকা কিনেছেন মহাখালীর সাইদুল ইসলাম। রিয়েলস্টেট কোম্পানিতে চাকরিরত এ ক্রেতা জানালেন, কয়েকদিন পরে বাড়ি যাব। বাড়িতে ছোট ভাই-বোন ও প্রতিবেশিদের জন্য নতুন টাকার প্রয়োজন হবে এজন্য নতুন টাকা কিনলাম।
ঈদে নতুন টাকার আবেদন সম্পর্কে স্কুল শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার ঝুমুর বলেন, ঈদে নতুন টাকার আবেদন ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটি অন্যরকম অনুভূতি। যখন ছোট ছিলাম তখন মা-বাবা, চাচা-মামাদের কাছ থেকে নতুন নোট উপহার পেতাম। এখন ছেলে-মেয়ে, ভাই- বোনসহ অন্য আত্মীয়-স্বজনকে টাকা দিয়ে থাকি। ছোটরা অন্যান্য উপহারের চেয়ে ঈদের দিন নতুন টাকা পেতেই বেশি পছন্দ করে। ঈদে নতুন টাকার আবেদন ও কদর সবটাই অনেক বেশি। তাই যে করেই হোক নতুন নোট ঈদে চা-ই চাই।
নতুন টাকা যাতে সাধারণ মানুষ সহজে পেতে পারেন সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখা অফিসগুলোতে কাউন্টার খোলা হয়েছে। পহেলা রমজান থেকে এসব কাউন্টারে টাকা দেয়া শুরু হয়েছে। সাংবাদিকসহ অন্য পেশাজীবীদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আগামী সপ্তাহে পৃথক একটি কাউন্টার চালু করা হবে বলে তিনি জানান।