অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি চায় ফোরাম!
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২২:০৪
আগের দিন বৈঠক শেষেই জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ বলেছিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন প্রসঙ্গে তাদের দাবি নিয়ে সমঝোতা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাবে ‘ফোরাম’ নামে পরিচিত এই সংগঠনটি। সে আন্দোলনের আগেই গতকাল ‘নির্বাচনকালীন বিসিবির সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনার’ অনুরোধ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি! ফোরামের সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিসিবির এডহক কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। তাই তারা চান, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিসিবির সব কাজ এনএসসিই পরিচালনা করুক।
এদিকে ফোরামের এসব আন্দোলন, হুমকিকে খুব একটা পাত্তা দিতে রাজী নয় বিসিবির এডহক কমিটি। কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরিচালক বলছেন, নির্বাচনটা বিসিবির, তাই বিসিবির গঠনতন্ত্র মোতাবেকই হবে। এই কথার সাথে একমত হয়ে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের এসব দাবি তোলার সুযোগই দেখছেন না তারা। বিসিবির এডহক কমিটির পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক অবশ্য মনেই করছেন না যে ফোরাম আসলে সব জেলা ও বিভাগীয় সংগঠকদের প্রতিনিধিত্ব করে, ‘এটা তো বিসিবির নির্বাচন, ফোরামের নয়। তাই বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই করা হবে নির্বাচনটা। আমরা অবশ্যই চাই দেশের সব সংগঠকের মতামতকে গুরুত্ব দিতে। কিন্তু এই ফোরাম কী সব জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে? আমার মনে হয় না। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সংগঠকরা বিসিবি সভাপতির সঙ্গে দেখা করে বা কথা বলে নির্বাচনের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানিয়ে গেছেন।’
যদিও বিসিবির কর্মকর্তারা ফোরামকে প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন মনে করছেন না; তারপরও ফোরাম বসে নেই। তারা একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালানো এবং আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি কাউন্সিলরশিপ ঘোষণা হয়ে গেলে তারা ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ কথা বলে আদালতে যাওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেল।
এসবের একটা ধাপ হিসেবে গতকাল ফোরাম চিঠি দিয়েছে এনএসসি চেয়ারম্যান, মানে ক্রীড়াপ্রতিমন্ত্রী বরাবর চিঠিটি দিয়েছে তারা। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘উক্ত নির্বাচন (বিসিবির নির্বাচন) আদৌ প্রভাবমুক্ত হবে কিনা তা নিয়ে আমাদের মধ্যে সংশয়ের সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান এ্যাডহক কমিটির খোদ সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ; সামপ্রতিক সময়ে তাদের প্রদত্ত বিভিন্ন বক্তব্য ও বিবৃতির মাধ্যমে। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে নির্বাচন আয়োজন সময় পর্যন্ত আপনার অধীনস্থ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা জরুরি বলে আমরা মনে করি।’
এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু আরও পরিষ্কার করে বললেন, ‘আমরা মনে করি একটা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি করে নির্বাচন পর্যন্ত এনএসসির কাজ চালানো উচিত। কারণ নানাভাবেই এই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেই আমরা বুঝতে পারছি।’
কিন্তু বিসিবির গঠনতন্ত্র এনএসসিকে এরকম নির্বাচনকালীন কমিটি করার এখতিয়ার আদৌ দেয় কি না, সে বিষয়ে কথা বলতে চাইলেন না মিকু। তিনি বরং আরেকটি প্রশ্ন দিয়ে এই বিষয়ের জবাব দিতে চাইলেন, ‘গঠনন্ত্রে আছে সাধারণ পরিষদে পাস না করে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা যাবে না। সেটাই যখন করলেন ওনারা, এই সামান্য ব্যাপার করতে সমস্যা কী?’
এদিকে আগের রাতেই ফোরাম প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত্ চেয়ে তার দপ্তরে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। তারা এখন প্রধানমন্ত্রীকে বর্তমান পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলে তারও হস্তক্ষেপ চাইছেন। শেষ পর্যন্ত এর কোনো উপায় সমাধান না হলে নানামুখী আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে ফোরাম। সে সব আন্দোলন সম্পর্কে বলতে গিয়ে ফোরামের এ বিষয়ক বিশেষ কমিটির প্রধান মিকু বললেন, ‘আমরা কোনো ভাবেই খেলাধুলা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, এমন কিছু চাই না। তবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। কোনোভাবেই সমঝোতা না হলে আমরা বিসিবির অধীনে সব ধরনের খেলা বর্জন করবো, জেলায় জেলায় মানববন্ধন করবো; নানারকম পরিকল্পনা আছে আমাদের।’