অন্য তৃতীয় শক্তির আবির্ভাবের আশংকা
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৫
বিরাজমান সংকটের সুযোগে দেশে রাজনৈতিক তৃতীয় শক্তির পরিবর্তে অন্য কোনো তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরের কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক। তারা বলেছেন, দেশে যেন অসাংবিধানিক কোনো শক্তির উত্থান ঘটতে না পারে, সেজন্য প্রধান দুটি দলের বিকল্প হিসেবে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থান প্রয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তারা এ প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
‘দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় বিকল্পধার প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে ভয় দেখাতে ও উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনকে যদি ভ্যানেটি ব্যাগে বন্দী করা হয়, তাহলে কোনো নির্বাচনই হবে না। কষ্ট করে ওই নির্বাচন না করলেই হয়। এবার তত্ত্বাবধায়ক এলে তারা ১০ বছরেও নির্বাচন দেবে না; প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য সম্পর্কে বি. চৌধুরী বলেন, তিনি এ ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেন কোথায়?—জানতে চাই। মনে হচ্ছে, তিনি তাদের দাওয়াত দিয়ে আনছেন।
এরশাদের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট ক্রমান্বয়ে দানবীয় রূপ নিচ্ছে। নির্বাচন যদি না হয় তাহলে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি আবির্ভূত হোক, তা দেশের সুশীল সমাজ, নাগরিক সমাজ সবার কামনা। কিন্তু তা যদি না হয়, তাহলে অন্য কোনো তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব ঘটবে না তো?
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশের মানুষ দুই স্রোতে বিভক্ত। এ সময় যদি আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষকে একটা ঠিকানা দেয়া যায়, তাহলে মানুষ তা গ্রহণ করবে। মানুষ বিকল্প ঠিকানা সন্ধান করছে। কিন্তু দ্বিধান্বিত মন নিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায় না। বর্তমান সরকারকে রাজতন্ত্রের চেয়েও অধম, স্বৈরাচারের চেয়েও নিকৃষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গোলটেবিল আলোচনার সঞ্চালক জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব বলেন, সরকার দলীয় স্বার্থে দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করেছে। এর মধ্য দিয়ে কোনো অসাংবিধানিক সরকার আসে কিনা, তা নিয়ে মানুষ আতঙ্কিত ও শঙ্কিত। এর থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থান।
গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা ডা. জাফর উল্যাহ বলেন, তৃতীয় শক্তি বলতে সেনাশাসন নয়, গণতান্ত্রিক শক্তি বোঝানো হচ্ছে। দেশ পরিচালনার সুবিধার্থে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ হতে পারে বা প্রদেশ হিসেবে ভাগ করা যেতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের ব্যাপারে আমি উত্সাহী। এটি ব্রিটেন থেকে ধার করতে হবে না, আমাদের ইতিহাসেই এটি ছিল। আর বিকল্প হিসেবে তৃতীয় শক্তি এখনো তেমন শক্তিশালী হয়ে গড়ে ওঠেনি।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, শেখ হাসিনা যদি একা নির্বাচন করতে চান, তাহলে ১৮ দলীয় জোট তা বানচাল করতে পথে নামবে। তখন তৃতীয় শক্তি কী করবে, এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি নির্বাচন না হয়, তাহলে অসাংবিধানিক সরকার আসার পথ তৈরি হবে। আর দুই দলই যদি নির্বাচনে অংশ নেয়, তখন তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি কী করবে, তা-ও এখনই ঠিক করতে হবে।
মূল প্রবন্ধে জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন বর্তমান সংকট নিরসনে সংবিধান সংশোধন করে অদলীয়ভাবে নির্বাচিত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠনসহ দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন করা এবং নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সংসদের উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান করার প্রস্তাব করেন।