বিন্দুর স্বপ্নের সিন্ধু
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২০:০৬
‘বিন্দু’ নামটির অর্থ ক্ষুদ্রতম। জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল আফসানা আরা বিন্দু নামের মতো নিজেকে সীমিত রাখেননি। ছোটবেলা থেকে তাই স্বপ্নকে প্রসারিত হতে দিয়েছেন। বড় হয়ে স্বপ্ন পূরণের জন্য এগিয়েছেন ধাপে ধাপে। নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী হিসেবে দাঁড় করানোর সেই স্বপ্ন আজ অনেকটাই সার্থক। এই সময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রীদের মধ্যে বিন্দু অন্যতম। এই গ্ল্যামার গার্লের ‘বিন্দু বিন্দু করে স্বপ্নের সিন্ধু’-তে উঠে আসার গল্প নিয়ে এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার
শুরু থেকেই অভিনয় করছেন নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। প্রতিটি চরিত্রেই নিজেকে ভেঙে আবার গড়েছেন, এর মাধ্যমেই চরিত্রের সঠিক তত্ত্ব তুলে ধরেছেন দর্শকদের সামনে। বলছিলাম মেধাবী অভিনয়শিল্পী বিন্দুর কথা। বাদামের টুকরি গলায় ঝুলিয়ে ‘এই বাদাম চিনা বাদাম’ বলে শহরের অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতে, কখনও বাস-ট্রাকের ড্রাইভার হয়ে ঘুরে বেড়ানোর মতো অদ্ভুত ইচ্ছেও ছিল বিন্দুর ছেলেবেলায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইচ্ছেগুলোর রঙও বদলাতে শুরু করে। শৈশবের দুরন্তপনার কথা মনে করিয়ে দিতেই বিন্দু হেসে বলেন, ‘আমার ছেলেবেলার ইচ্ছেগুলো ছিল অনেকটাই অদ্ভুত। বড় হয়েও ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কথা কখনও ভাবিনি আর শোবিজে কাজ করার কথা তো কল্পনাও করিনি কখনও। নিজের এলোমেলো স্বপ্নের জন্য বাবা-মা কোনোদিন বকা দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। আমি সব সময় তাদের ভালোবাসা ও স্নেহের প্রশ্রয় পেয়ে এসেছি।’ বাবা আফসার আলী ও মা রওশন আরার ইচ্ছে ছিল মেয়ে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। এক মেয়ে এক ছেলের মধ্যে বিন্দুই প্রথম। ছোট ভাই আপনের সাথে ঝগড়াঝাটি আর দুরন্তপনা করেই কাটিয়ে দিতেন বেলা। বিন্দুর ছোটবেলার ডানপিটে স্বভাবের স্মৃতি আজও রয়ে গেছে তার কপালের কাটা দাগে। শোবিজের প্রতি বিন্দুর তেমন একটা আগ্রহ ছিল না। প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ’কে তার খুব ভালো লাগত। তার ছবি-নাটক দেখতে দেখতেই মিডিয়ার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। তবে এই আকর্ষণটা তৈরির পেছনে বাবা-মায়ের অবদানও কম নয়। এ প্রসঙ্গে বিন্দু বললেন, ‘আমার বাবা একসময় মঞ্চ নাটকের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের হয়ে কাজ করতেন। বাবাই প্রথম লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারে আমাকে অংশ নিতে বলেন। এন্ট্রির একদম শেষ সময়ে মা আমাকে রেজিস্ট্রেশন করান। আমি আসলে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় আজ এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি।’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হওয়ার পর তার অভিষেক হয় মিডিয়ায়। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘দারুচিনির দ্বীপ’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন বিন্দু। এই চলচ্চিত্রটির পর বিন্দু অভিনীত ২টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ছবি দুটো হলো খিজির হায়াত্ পরিচালিত ‘জাগো’ ও পিএ কাজল পরিচালিত ‘পিরিতির আগুন জ্বলে দ্বিগুণ’। অভিনয় করছেন সোহেল আরমান পরিচালিত ‘এই তো প্রেম’ ছবিতে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ ছবিতে ‘মাধবী’ চরিত্রে অভিনয় করছেন বিন্দু। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে আছেন শাকিব খান। বিজ্ঞাপনেও সাফল্যের দেখা পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। শুরুর দিকে বাংলালিংকের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে মডেলিংয়েও তৈরি করেন নতুন এক ক্রেজ। তারপর একে একে লাক্স, একটেল, ফিনলে চাসহ অনেকগুলো বিজ্ঞাপন চিত্রের মডেল হন তিনি। ‘দারুচিনির দ্বীপ’ ছবিতে অভিনয়ের পর থেকেই একের পর এক কাজের অফার বিন্দুর পিছু নেয়। কিন্তু তার পক্ষে তখন এতোটা সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র ছাত্রী বিন্দু পড়ালেখা শেষ করার জন্য সময় নেন। চলতে থাকেন ধীরে ধীরে। তবে পরীক্ষার পরপরই পুরো দমে তিনি কাজ শুরু করেন। প্রথম থেকে এখন অবধি একঘণ্টার নাটককেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন বিন্দু। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মূলত আমার পড়াশোনাকে প্রাধান্য দিতে গিয়েই শুরুতে ধারাবাহিক নাটকে সময় দিইনি। এখন পড়াশোনার চাপ কমার পর একঘণ্টার নাটকের পাশাপাশি ধারাবাহিক নাটকেও কাজ করছি। তবে এ কথা সত্যি, ধারাবাহিক নাটকের চেয়ে একঘণ্টার নাটকে কাজ করে আমি বেশি তৃপ্ত হই।’ ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। তাই ঈদের নাটক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই থাকছে শুটিং। এরই মধ্যে ঈদের ডজন খানেক নাটকে অভিনয় করে ফেলেছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি আশুতোষ সুজনের পরিচালনায় ‘আহ সমুদ্র’ নামে একটি নাটকে শুটিং করছেন। সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন শিরোনামহীন ব্যান্ডের ভোকাল তুহিন।