দো দিল-এক জান

প্রেমের নতুন গল্প

ছোটপর্দায় হিন্দি সিরিয়ালগুলোতে আজকাল প্রেমের গল্পের প্রতি বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। গতানুগতিক পুরোনো ভঙ্গিতে নায়ক-নায়িকার প্রেম আসছে কোথাও, আবার অনেক ক্ষেত্রে নাটকীয়তার অবতারণা করা হচ্ছে এই প্রেম দেখানোর ক্ষেত্রে। লাইফ ওকে চ্যানেলের ‘দো দিল—এক জান’ সিরিয়ালের নামটি শুনেই ধারণা করে নেওয়া যায় প্রেমকাহিনীনির্ভর এটি। আগামী সপ্তাহে ৫০ এপিসোড পূর্ণ হবে সিরিয়ালটির। অথচ এর মধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘দো দিল-এক জান’। নতুন অথচ দর্শকপ্রিয় এই হিন্দি টিভি সিরিয়ালটির নানা বিষয় তুলে ধরেছেন রেজাউল কামে খোকন ‘দো দিল-একজান’ সিরিয়ালের গল্প বিপরীতমুখী অবস্থানের এক জোড়া নরনারীর প্রেমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। প্রেমের গল্প হলেও সিরিয়ালটিতে অনেক অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে। পরিস্থিতির চাপে কাশ্মির ছেড়ে মুম্বাই আসা এক তরুণী অন্তরা এবং মুম্বাই শহরের এক গ্যাংস্টার যুবক রঘুর মধ্যেকার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়টি এই সিরিয়ালে অপূর্বভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কাশ্মিরে অন্তরাদের পরিবার সুখে দুঃখে আনন্দ বেদনায় বেশ ভালোই ছিল। অন্তরার বাবা ছিলেন একজন ডাক্তার। কিন্তু সন্ত্রাসবাদীদের নৃশংস বোমা হামলায় অন্তরার বাবার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শক্ড হয়ে অন্তরার মা স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। অন্তরা ও তার পরিবার কাশ্মির ছেড়ে মুম্বাই চলে আসে। তারা এসে ওঠে এক চাচার বাসায়। ছোট্ট বাসায় একসঙ্গে এতগুলো মানুষ থাকতে গিয়ে জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। অন্তরা তার মায়ের দিকে তাকিয়ে অতীতের সব বেদনাদায়ক স্মৃতি ভুলে নতুনভাবে বাঁচতে চায়। মুম্বাই শহরের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। কিন্তু অন্তরার ছোট ভাই মুম্বাই শহরের পরিবেশে হাঁপিয়ে ওঠে। অস্বস্তিবোধ করে চাচার ছোট্টবাসায় একসঙ্গে থাকতে। একদিন রাস্তায় গুণ্ডা বখাটেদের কবলে পড়ে অন্তরা। কিন্তু কিভাবে তাদের কবল থেকে উদ্ধার পাবে ভেবে কুল পায় না। তেমনি পরিস্থিতিতে হঠাত্ করে সেখানে ত্রাণকর্তা হিসেবে রঘুর উদয় হয়। গুণ্ডাদের পিটিয়ে অন্তরাকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করে। কৃতজ্ঞতা জানায় অন্তরা, কিন্তু পরে জানতে পারে গুণ্ডাদের কবল থেকে রক্ষাকারী রঘু নিজেও একজন মাস্তান গুণ্ডা। অন্তরা রঘুকে অপমান করে। রাগে দুঃখে অপমানে যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসে রঘু। ঢিল মেরে তাদের বাড়ির কাঁচ ভেঙে দেয়। অন্তরা প্রতিবাদ জানায় এ ঘটনার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করে। এতে আরও ক্ষেপে যায় রঘু। সে অন্তরাদের বাড়ির দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে, বাড়ির পানি সরবরাহের লাইন বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে এলাকার বিশিষ্টজনদের কাছে বিচার দেয় অন্তরা। রঘুর শাস্তি দাবি করে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয় না। রঘুর ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না। উল্টো অন্তরাদের পরিবার অপমানিত হয় পদে পদে। এসব ঘটনায় অন্তরার মা আরও বেশি অস্থির ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। রঘুর কারণে অন্তরাদের পরিবারে একের পর এক বিপর্যয় নেমে আসে। কিন্তু আবার একদিন বিপদে পড়লে নিজের জীবন বাজি রেখে অন্তরাকে ভয়ঙ্কর গুণ্ডাদলের হাত থেকে উদ্ধার করে রঘু। এভাবে অনেক ঘটনার পর অবশেষে রঘুর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে অন্তরা। রঘুর গুণ্ডা স্বভাবের কথা জেনেও তাকে ভালোবাসে অন্তরা। কিন্তু এক সময় রঘুর আশ্রয়দাতা গডমাদার দয়াময়ী রঘুর সঙ্গে অন্তরার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার কথা জানতে পারেন। তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না অন্তরা-রঘুর ভালোবাসা। যেকোনো মূল্যে তাদের ভালোবাসা ব্যর্থ করতে উঠে পড়ে লাগেন গডমাদার দয়াময়ী। গল্পে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছে যায়। তেমন গল্প নিয়ে আবর্তিত হচ্ছে ‘দো দিল-এক জান’ সিরিয়ালটি। এখানে অন্তরা চরিত্রে রূপদান করেছেন নতুন মুখ দিল্লির মেয়ে নিকিতা শর্মা। এই নবাগত অভিনেত্রী প্রথম অভিনীত সিরিয়ালেই দারুণ বাজিমাত করেছেন। অন্তরা চরিত্রে এর মধ্যে সবাই তাকে গ্রহণ করেছে। গুণ্ডা মাস্তান স্বভাবের নায়ক রঘু চরিত্রে অভিনয় করছেন আয়াজ আহমেদ। তরুণ বয়সী এই অভিনেতা রাফ অ্যান্ড টাফ যুবক রঘু চরিত্রটিকে যথাযথভাবে উপস্থাপনে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। লাইফ ওকে চ্যানেলে ‘দো দিল-এক জান’ সিরিয়ালটি সপ্তাহে প্রতি সোম থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় দেখানো হয়।