দ্য ব্লিং লিং
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২০:০৮
‘হ্যারি পটার’ খ্যাত ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা ওয়াটসন ‘হ্যারি পটার’ সিরিজে অভিনয়ের পর চিত্রজগতকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পাল্টেছেন তিনি। এমা-প্রেমীদের জন্য এটা সত্যিই সুখবর। আর আর কিছুদিনের মধ্যেই জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী তার নতুন সিনেমা ‘দ্য ব্লিং লিং’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন রুপালি পর্দায়। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক ‘দ্য ব্লিং লিং’ নিয়ে কিছু কথা
এমার নতুন সিনেমা ‘দ্য ব্লিং লিং’ মুক্তি পাচ্ছে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি। টিনেজার রেবেকা, মার্ক, নিকি, স্যাম ও কোল মিলে একটি গ্যাং তৈরি করেন, নাম দেন ‘দ্য ব্লিং লিং।’
এখানে তাকে দেখা যাবে একজন উচ্ছৃঙ্খল টিনএজারের ভূমিকায়। এমা ও তার বন্ধুরা মিলে ইন্টারনেটে হলিউডি সব সেলিব্রেটিদের ফলো করে নিয়মিত। তাদের সম্পর্কে সবকিছু জানার পর তারা সেসব সেলিব্রেটিদের বাসায় গিয়ে জিনিসপত্র চুরি করে। যেসব তারকাদের বাসায় গিয়ে তারা চুরি করেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন প্যারিস হিলটন, লিন্ডসে লোহান, মেগান ফক্স, র্যাচেল বিলসন, অড্রিনা প্যাট্রিজ, ওরল্যান্ডো ব্লুম এবং মিরান্ডা কের-এর মতো বিখ্যাত বিখ্যাত কিছু আর্টিস্ট। এই রকম নানা ঘটনার জন্ম দিয়ে এগিয়ে চলে সিনেমার গল্প।
কিছুদিন আগেই শোনা গিয়েছিল ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের শেষ পর্বে অভিনয় করার পর অভিনয় ছাড়বেন এমা। এই বিষয়ে এমা বলেন, ‘ব্যাপারটা খুব মজার যে এখরও মানুষ হ্যারি পটার সিরিজের সিনেমা দেখে কিন্তু আমার জন্য এর কাজ শেষ হয়েছে তিন থেকে চার বছর আগেই। মূলত আমি দু বছর বিরতি নিয়েছিলাম এবং অভিনয়জগত্ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থেকেছি। মানে, ওই সময় হ্যারি পটার সিরিজের সিনেমাগুলো মুক্তি পাচ্ছিল। কিন্তু আমাদের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় আমি কিছুটা সময় নিয়েছিলাম জীবনে কী করব তা ভাবার জন্য। এমনকি আমি অভিনয় ছেড়ে দেব এমনটাও ভেবেছিলাম।’ জানা যায়, ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা ওয়াটসন আমেরিকার প্রেমে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ার জন্য নিজ দেশ যুক্তরাজ্য ছেড়ে আসেন এমা ওয়াটসন। এসেই আমেরিকার সৌন্দর্যের প্রেমে পড়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেমে মুগ্ধ এমা বলেন, ‘আমি যতটা সম্ভব আমেরিকায় জীবন উপভোগ করতে চাই। এই বিশাল দেশে আমি পড়তে এসেছি, এটা আমাকে বিস্মিত করেছে। তবে আমি কিছুটা শঙ্কিতও বটে। কারণ চাকরির জন্য আমাকে পড়াশোনা ত্যাগ করতে হবে।’ জীবনে বই ও সিনেমা এই দুটি বিষয়ে তার প্যাশন কাজ করেও বলে সবাইকে টুইটার বার্তায় জানিয়ে দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘বড় হওয়া সত্যিই কষ্টের। কারণ আজকের সমাজ তরুণদের জিজ্ঞাসার কোনো উত্তর না দিয়েই তাদেরকে প্রশ্ন করে থাকে। তবে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যমেই সত্যিকারের মানুষ হিসেবে বড় হওয়া যায়।’
এমার পরিচিতি
এমা শার্লট ডিউয়ার ওয়াটসন পেশায় একজন ব্রিটিশ অভিনেত্রী এবং মডেল। তিনি ‘হ্যারি পটার’ চলচ্চিত্রে হারমায়োনি গ্রেঞ্জারের চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন। ওয়াটসন নয় বছর বয়সে এই চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। এর আগে তিনি বিদ্যালয়ের মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ওয়াটসন ছয়টি হ্যারি পটার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এসব চলচ্চিত্রে তার সহকর্মী ছিলেন ড্যানিয়েল রেডক্লিফ এবং রুপার্ট গ্রিন্ট। ১৯৯০ সালের ৪ এপ্রিল প্যারিসে এমা ওয়াটসন জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম জ্যাকলিন লুসবি এবং মায়ের নাম ক্রিস ওয়াটসন। তারা উভয়ই ব্রিটিশ আইনজীবী। এমা ওয়াটসনের দাদী একজন ফ্রেঞ্চ, তিনি ওয়াটসনের ৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্যারিসে ছিলেন। পরবর্তীতে এমা ওয়াটসনের বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হলে তিনি তার মা এবং ছোট ভাইসহ যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডশায়ারে স্থানান্তরিত হন। ছয় বছর বয়স হতে ওয়াটসন অভিনেত্রী হতে চাইতেন। স্টেজকোচ থিয়েটার আর্টস-এর অক্সফোর্ড শাখায় তিনি কয়েক বছর সংগীত, নাচ ও অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন। ২০০৯-এর মার্চে ফোর্বস ম্যাগাজিন ওয়াটসনকে বিশ্বের ষষ্ঠ মূল্যবান তরুণ তারকার মর্যাদা দেয়। ২০১০-এর ফেব্রুয়ারিতে তিনি হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত নারী তারকা হন। এর আগে ২০০৯-এ তিনি প্রায় ১৯ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছিলেন।