হিরোশিমা দিবস উপলক্ষে স্বপ্নদলের ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ উদযাপন

নাট্যসংগঠন স্বপ্নদল ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর যৌথ আয়োজনে আজ এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে হিরোশিমা-নাগাসাকির রিয়োগান্তক ঘটনা অবলম্বনে স্বপ্নদলের দর্শকনন্দিত প্রযোজনা ‘ত্রিংশ শতাব্দী’-এর মঞ্চায়ন এবং নানা আনুষ্ঠানিকতায় ‘হিরোশিমা দিবস-২০১৩’ উদ্যাপন করা হবে। বাদল সরকারের মূল রচনা অবলম্বনে আলোচিত প্রযোজনা ‘ত্রিংশ শতাব্দী’-এর রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। এ দিন বিকাল ৫টা থেকে চলবে যুদ্ধবিরোধী পোস্টার-আলোকচিত্র-চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যুদ্ধযন্ত্রণার প্রতীক জাপনি শিশু সাদাকো সাসাকি স্মরণে কাগজের সরস বিতরণ ও সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরোধী আলোচনা অনুষ্ঠান। শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যকলা বিভাগের পরিচালক বেগম সারা আরা মাহমুদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশস্থ জাপান দূতাবাসের মিনিস্টার হিরোইউকি মিনামি এবং গণসংযোগ ও সাংস্কৃতিক বিভাগের পরিচালক রিওজি সুগে। এরপর থাকবে ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনার বিশেষ মঞ্চায়ন। ‘হিরোশিমা দিবস’ উপলক্ষে নাট্যপ্রদর্শনীসহ সকল অনুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। স্বপ্নদল জাপানের বাইরের একমাত্র নাট্যদল হিসেবে গত ১২ বছর যাবত্ নিয়মিতভবে শান্তির সপক্ষে ও যুদ্ধবিরোধী প্রচারণাসহ ‘হিরোশিমা দিবস’ পালন করে আসছে এবং ২০১১ থেকে এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী। এ ছাড়া দিবসটি পালনে সহযোগিতা করছে ‘জাপান-বাংলা পিস ফাউন্ডেশন’। প্রসঙ্গত, ‘হিরোশিমা দিবস’ মূলত ৬ আগস্ট হলেও এ বছর অনিবার্য ধর্মীয় উত্সব শবে কদর ও ঈদের কারণে দিবসটি স্মরণে ১ আগস্ট অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। যুদ্ধোন্মাদনার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ ‘ত্রিংশ শতাব্দী’-র মূল কাহিনী পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকির আণবিক বোমা বিস্ফোরণের বিষাদময় পরিণতি। এর সমান্তরালে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বসনিয়া-ফিলিস্তিন, আফগানিস্থান, পাকিস্তান-ভারত, ইরাকে আগ্রাসন প্রভৃতি প্রসঙ্গ। ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনায় নানাবিধ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবাজ-যুদ্ধাপরাধী-অশান্তিকামীদের স্বরূপ এবং তাদের কর্মের তাত্ক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী বিভত্সতার চিত্র উদ্ঘাটিত হয়েছে। সভ্যতা ধ্বংসকারী মানবসৃষ্ট যুদ্ধ-গণহত্যা-অনাচারের বিপরীতে মানুষ হিসেবে আমাদের বর্তমান কর্তব্য অনুধাবন এবং এ ক্ষেত্রে দর্শককে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুখোমুখি স্থাপনই ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনার অভীষ্ট। ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনার গ্রন্থিকেরা হলেন—হাসান রেজাউল, সোনালি রহমান জুলি, ফজলে রাব্বী সুকর্ণ, শিশির সিকদার, শাখাওয়াত শ্যামল, রাকিব হোসেন, আমজাদ শরীফ, সামাদ ভূঞা, জেবুন্নেসা আলো, আল-আমিন, মোস্তাফিজুর রহমান, জাহিদ রিপন প্রমুখ।