গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে মানিকগঞ্জ
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২০:১৫
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মানিকগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ আপামর জনসাধারণ পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে ইতিহাসে স্মরণীয় অধ্যায় সৃষ্টি করেছিলেন। মানিকগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের স্মরণীয় অধ্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চেই। ২৫শে মার্চ ঢাকার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার সংবাদ মানিকগঞ্জে প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথেই মানিকগঞ্জে যুদ্ধ পরিচালনা কাউন্সিল গঠন করা হয়। এই কমান্ডো কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ ছিলেন মোসলেম উদ্দিন খান হাবু মিয়া, ক্যাপ্টেন (অবঃ) আব্দুল হালিম চৌধুরী, মাজহারুল ইসলাম চান মিয়া, ডাঃ মীর আবুল খায়ের ঘটু (নির্বাচিত প্রাদেশিক সংসদ সদস্য) ,খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, সৈয়দ আনোয়ার আলী চৌধুরী ও মফিজুল ইসলাম খান কামাল। ২৫শে মার্চ রাত এগারটায় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানিকগঞ্জের ট্রেজারীতে গচ্ছিত সকল রাইফেল (প্রায় ছয়শত টি) হস্তগত করে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে মানিকগঞ্জে পাকবাহিনী কর্তৃক গণহত্যার আংশকা বিবেচনা করে মাত্র ছত্রিশটি রাইফেল রেখে বাকী রাইফেল ট্রেজারীতে ফেরত্ দেওয়া হয়। ৮ই এপ্রিল মানিকগঞ্জ শহর পাকবাহিনীর করতলগত হওয়ার পর কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যবর্গ বিচ্ছিন্ন পয়ে পড়েন। ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরী ও মোসলেম উদ্দিন হাবু মিয়া চলে যান হরিরামপুরের সুতালড়ি গ্রামে। সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের প্রস্ত্ততি শুরু করেন। মফিজুল ইসলাম খান কামাল কিছুদিন মানিকগঞ্জের অভ্যন্তরে অবস্থান করে সীমান্তের ওপারে চলে যান মে মাসের দিকে। পরবর্তীতে তিনি মুজিব বাহিনীর লীডার হিসাবে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। ডাঃ মীর আবুল খায়ের ঘটুও ভারতে চলে যান। মোসলেম উদ্দিন খানও পরবর্তীতে ভারতে চলে যান। এইভাবে কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যবর্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের তাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকে। মানিকগঞ্জের ইতিহাসকে তাই নিম্নোক্তভাবে ভাগ করে দেখা যেতে পারে।
মানিকগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় ছিল ২রা মার্চ থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২৬শে মার্চ থেকে জুন ১৯৭১। এই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত গিয়ে ট্রেনিং গ্রহণ ও ট্রেনিং শেষে অস্ত্রসহ দেশের অভ্যন্তরে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ। তৃতীয় পর্যায়টি আসে ৫ই জুলাই ১৯৭১ হতে ডিসেম্বর ১৯৭১ পূর্ণাঙ্গ মুক্তিবাহিনী সংগঠিত ও পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ পরিচালনা।
মানিকগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ক হিসাবে বীরত্বপূর্ন অবদান রাখেন ক্যাপ্টেন (অবঃ) আব্দুল হালিম চৌধুরী (সমগ্র মানিকগঞ্জ জেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ যথা নবাবগঞ্জ দোহার থানাসহ ঢাকা পশ্চিম অঞ্চলের ২২ টি থানা।সহ অধিনায়ক আব্দুল মতিন চৌধুরী (সেকেন্ড ইন কমান্ড) অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ চান মিয়া (সেকেন্ড ইন কমান্ড) আব্দুর রশীদ খান- সদস্য।সংগঠক বা অধিনায়ক হিসাবে ছিলেন সিঙ্গাইর-মানিকগঞ্জ অঞ্চলঃতোবারক হোসেন লুডু, আবুল হক (বেঙ্গল রেজিমেন্ট) সিদ্দিক মাষ্টার বি এল এফ।