এলোমেলো মানিকগঞ্জ আমাদের লজ্জা
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২০:১৭
সাতটি উপজেলা ও ২টি পৌরসভা নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা। ঢাকা আরিচা মহাসড়কের মুখ হতে অর্থাত্ মূল জেলা শহরের ঢুকতে গেলে ঢাকা-আরিচা মাহাসড়কের মুখ দিয়ে অর্থাত্ বাসস্ট্যান্ড দিয়ে মানিকগঞ্জ শহরে ঢুকতে হয়। শহরের ভিতরে রয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, দেবেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বালক-বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক স্কুলসহ প্রায় ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জজ কোর্টসহ অন্য জেলা অফিসগুলো রয়েছে। বাসস্ট্যান্ডে ঢুকতে গেলে মনে হয় মানিকগঞ্জে কোন আইন-শৃঙ্খলা নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে রিক্সাওয়ালা, ভ্যান চালক, হ্যালোবাইক, ট্রাক চালকরা আইনের প্রতি তেমন শ্রদ্ধাশীল নয়।
ওরা বলে বেড়ায় আমরা মাশোয়ারা দিয়ে চলি। এ মাশোয়ারা কে বা কাহারা নেয় আমরা বুঝেও যেন বুঝি না। কিন্তু এসব প্রশ্নের অবসান ঘটালো সদ্য যোগদানকারী মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। এখন বাসস্ট্যান্ডে অনেকটা আরামেই ঢোকা যায়। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে ছাত্র/ছাত্রী, বয়স্কদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ক্রস করা ঝুঁকিপুর্ণ হয়। এখানে প্রয়োজন জনস্বার্থে ওভার ব্রীজ। এ ওভার ব্রীজ কে করবে জানি না? কথায় আছে যার মুখ দেখতে সুন্দর লাগে না সেখানে মন বসতে চায় না। বাসস্ট্যান্ড হতে জেলাশহরে ঢোকার জন্য বিভাজন সড়ক প্রয়োজন। কিন্তু মানিকগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যেখানে যার খালি জায়গা পায় সেখানেই মার্কেট তৈরি করে ব্যবসা করে। টাউনের সুন্দর কে দেখবে? জানজট কে কমাবে? হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবনের মত সড়ক ও জনপদের জায়গায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার সুপার মার্কেট বিভাজন এবং সুন্দর সড়ক তৈরি করতে একটি বিষফোড়া। পৌরসভা এলাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের নাই কোন ড্রেনের ব্যবস্থা। বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের নাই কোন সুন্দর বসার মত কোন যাত্রীছাউনি। অতিথিরা আসলে আমরা পাই তাদের কাছে লজ্জা।
অথচ শোনা যায় পরিবহন সেক্টরে হয় কোটি টাকার চাঁদাবাজি। রাজধানীর যোগাযোগে বি.আর.টি.সি বাসগুলির বেহাল অবস্থা দেখে মনে হয় কে এর মালিক। কে এই সমস্যা এখন নিরসন করবে এটাই এখন ভাববার বিষয়। বর্তমান মটর সাইকেল চোরের ব্যাধি মানিকগঞ্জ জেলায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যার নিয়ন্ত্রণে বর্তমান ডিবি পুলিশ। বর্তমান পুলিশ সুপারের নির্দেশে কিঞ্চিত শান্তি এসেছে। রাজধানীর সন্নিকটে মানিকগঞ্জ জেলা শহর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান রাজধানীর চেয়ে অনেক পিছিয়ে। স্বাস্থ্য সেবায় হাসপাতালগুলির সেবার চেয়ে ক্লিনিক ব্যবসা রয়েছে রমরমা। জাতীয় পার্টি জেপি কোন ক্ষমতায় এলে এসব সমস্যা নিরসনে উদ্যোগী হবে।