‘ব্যবসা নয়, সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করছি’

স্কিন অ্যান্ড হেয়ার এক্সপার্ট স্বত্ত্বাধিকারী গ্লোরিয়াস বিউটি কেয়ার অ্যান্ড স্পা এ সময়ে স্কিন অ্যান্ড হেয়ার এক্সপার্টদের মধ্যে গ্লোরিয়াস বিউটি কেয়ার এন্ড স্পা-এর স্বত্তাধিকারী স্কিন অ্যান্ড হেয়ার এক্সপার্ট শান্তনা রহমান অন্যতম। তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। তাকে নিয়ে লিখেছেন আফরিন জাহান। পরিবারের সহযোগিতা, শিক্ষা আর নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে সব অসাধ্যকে সাধন করতে পারে একজন নারী। আর কাজটাকে শুধু কাজ ভাবলে হবে না, কাজটা নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে—নিজের সফলতার কথা বলতে গিয়ে এভাবেই বলছিলেন স্কিন অ্যান্ড হেয়ার এক্সপার্ট গ্লোরিয়াস-এর স্বত্তাধিকারী শান্তনা রহমান। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় নিজেকেই নিজেকে নানাভাবে সাজাতাম। আর ওখান থেকেই সাজের প্রতি একটা ভালবাসা জন্মায়। ছোটবেলায় যখন সবাই ডাক্তার, ইঞ্জিয়ার হওয়ার কথা ভাবে, তখন আমিও ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু একটু বড় হতেই আবার আমার ভাবনায় ঘুরপাক খেতে থাকে এমন কিছু একটা করব, যার মাধ্যমে মানুষকে আনেক বেশি সুন্দর আর সুখি করে তুলতে পারব। আর এই ভাবনা থেকেই এসএসসি পাশ করার পর পড়াশুনার পাশাপাশি নারীকে সুন্দর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করি।’ ২০০১ সালে পুরোপুরি সুন্দর্য পেশায় মনোযোগ দেন তিনি। এই সময় তিনি সৌন্দর্য বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার জন্য দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং নিতে শুরু করেন। এর পর এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করেন গ্লোরিয়াসের। শান্তনা বলেন, ‘প্রথমে অনেক বাঁধা এসেছে; পড়াশুনা করে পার্লার খুলব, এটা অনেকেই ভালো চোখে দেখেনি। কিন্তু আমি আমার ধৈর্য, মনোবল, একাগ্র ইচ্ছা সর্বোপরি পরিবারের সাহায্যের কারণে আজ আমি সফল হতে পেরেছি।’ গার্মেন্টস ব্যাসায়ী স্বামী আর এক মেয়ে নিয়ে ছোট সংসার শান্তনা রহমানের। অবসরে কবিতা লেখেন, নাচেন, গান গান। তার মতে, অনেকে মনে করেন পার্লারে শুধু চুল কাটা, ভ্রু প্লাগ ও মেকআপই করা যায়। তবে প্রকৃত অর্থে এর বাইরেও পার্লারে অনেক কাজ থাকে। তিনি বলেন, ‘মানুষের বিউটি রিলেটেড প্রবলেম দূর করাই আমার পার্লারের মূল লক্ষ্য। গ্লোরিয়াস বিউটি কেয়ার অ্যান্ড স্পাতে ২০০২ সাল থেকে বিউটিফিকেশন নিয়ে কাজ শুরু করি। আর পার্লার করার পেছনে আমার খালার নিউইয়র্কের নিউ লুক সেলুনের বিউটি এক্সপার্ট শাহিদা অবদান রয়েছে অনেক বেশি।’ মুখে ব্রণ, মেসতা, চুল পরা, দাগ, চামড়ায় ভাঁজ পড়া ইত্যাদি সমস্যা চিকিত্সার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে ঠিক করা সম্ভব বলে জানান শান্তনা। তিনি বলেন, ‘গ্লোরিয়াসে সব বয়সী ও সব শ্রেণির নারীদের সৌন্দর্য সেবা দেওয়া হয়। এটি ইতোমধ্যেই মেয়েদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। এখানে এখন প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসছেন প্রায় একশত নারী।’ ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে শান্তনা জানান, ‘দেশের প্রতিটি শহরে-গ্রামে একটি করে শাখা করতে চাই যেন সবাই গ্লোরিয়াসের সেবা নিতে পারে। একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে চাই, যেখানে স্বল্প প্রশিক্ষিত মেয়েদের যারা পার্লার খুলেছে তারা যেন প্রশিক্ষণ নিয়ে মানসম্মত সেবা দিতে পারে। ভলো কাজ করলে ভলো কজের স্বীকৃতি পাওয়া যায়, আমি ভালো উদ্যোক্তা কি না, জানিনা। তবে প্রতিটি নারীর সৌন্দর্য সমস্যা নিয়ে আমি ভাবি এবং তা দূর করার চেষ্টা করি। আর সব সময় ব্যবসা নয়, সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করছি। আর এভাবেই কাজ করে যেতে চাই সারা জীবন।’