মাল্টিমিডিয়া ও ক্রিয়েটিভ আর্টসে পেশা গড়তে
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২০:৫৩
বর্ণ, শব্দ এবং ছবি—এ তিনের সমন্বয়ে যে মাধ্যম, তাকেই আমরা মাল্টিমিডিয়া বলে সংজ্ঞায়িত করতে পারি। আর কল্পিত কাহিনীর শৈল্পিক প্রকাশই হচ্ছে অ্যানিমেশন। প্রযুক্তির উত্কর্ষ অ্যানিমেশন নির্মাণকে করেছে সহজ। পাশপাশি নান্দনিকতা এবং বৈচিত্র্যও এনেছে। সংবাদপত্রের পাতা থেকে রেডিও, টিভি, কম্পিউটার গেম, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, চলচিত্র ও স্পেশাল ইফেক্টের মতো সব জায়গাতেই রয়েছে মাল্টিমিডিয়া আর অ্যানিমেশনের ব্যবহার। বিশ্বব্যাপী এই শাখাগুলোয় কাজ করেন হাজার হাজার প্রশিক্ষিত কর্মী।
স্টিভেন স্পিলবার্গ বা জেমস ক্যামেরনের মতো বিখ্যাত সব চলচ্চিত্র নির্মাতা তাদের চলচ্চিত্রে (যেমন, জুরাসিক পার্ক, অ্যাভাটার) মাল্টিমিডিয়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছেন প্রযুক্তির সাথে তাদের সৃষ্টিশীলতা যোগ করে। শুধুমাত্র বিনোদন নয়, এখন জটিল সব চিকিত্সা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তির প্রয়োগ হয়। যেমন, একটি জটিল সার্জারির পূর্বে সার্জন মাল্টিমিডিয়া চর্চিত একটি কৃত্রিম পরিবেশে নিজের হাত পাকিয়ে নিতে পারেন যতবার খুশি। সেক্ষেত্রে রোগীর উপর পরীক্ষা-নীরিক্ষার ঝুঁকি অনেক কমে আসে। আজকাল মাল্টিমিডিয়া সিমুলেটেড বিভিন্ন কৃত্রিম প্রতিকূল পরিবেশের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৈমানিকরা হয়ত বুঝতেই পারেন না তারা আসল না নকল উড়োজাহাজ চালাচ্ছেন।
বর্তমানে মিডিয়া জগতে যারা প্রতিষ্ঠিত, তাদের নিজস্ব অবস্থান তৈরিতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। কারণ এই বিষয়ে আমাদের দেশে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ ছিল না কিছুদিন আগেও। শুরুতে স্বশিক্ষিতরাই মাল্টিমিডিয়া শিল্পের সূচনা করেছেন। তবে বর্তমান সময়ের চাহিদা পূরণে এসব বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
মাল্টিমিডিয়ার বিভিন্ন কাজের সুযোগ এখন আগের চাইতে অনেক বেশি। বিজ্ঞাপনী সংস্থা, পোস্ট প্রোডাকশন হাউজ, টিভি চ্যানেল, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, আর্কিটেকচারাল ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন ফার্ম, অ্যানিমেশন ও কার্টুন ইন্ডাস্ট্রি, সিমুলেশন ইন্ডাস্ট্রি, সফটওয়্যার ফার্ম প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন এই বিষয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিতদের চাহিদা রয়েছে।
আমাদের দেশে মাল্টিমিডিয়া বা অ্যানিমেশনের মতো বিষয়সমূহ সরাসরি শিক্ষাব্যবস্থার সাথে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় গতানুগতিক কিছু বিষয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করতে হয়। আমাদের বর্তমান মাল্টিমিডিয়া শিল্পে যারা কাজ করেন তারা সিনিয়রদের কাছে থেকে কিছু প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং বাকিটা হাতে-কলমে কাজ করতে করতে শিখছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে এই সেক্টরে পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে হলে সৃষ্টিশীলতার পাশাপাশি প্রয়োজন হবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। ভবিষ্যত্ মাল্টিমিডিয়া গ্র্যাজুয়েটরা এই শিল্পসংশ্লিষ্ট যেসব ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পাবে তার মধ্যে রয়েছে থ্রিডি মডেলিং, টুডি ও থ্রিডি অ্যানিমেশন, মোশান গ্রাফিক্স, মাল্টিমিডিয়া নির্মাতা, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, ভিডিও এডিটর, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ডেভেলাপার, স্পেশাল ইফেক্ট ডেভেলাপার ও মাল্টিমিডিয়া কনসালটেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, লেভেল ডিজাইনার (গেইম), টুডি/থ্রিডি আর্টিস্ট, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন নির্মাতা, অ্যানিমেটেড লার্নিং টুল ডেভেলপার, মিডিয়া বিষয়ক লেখক ইত্যাদি। ০১৭১৩৪৯৩০৫০, ০১৭১৩৪৯৩২৫১ নম্বরে ফোন করে মাল্টিমিডিয়া সংক্রান্ত ক্যারিয়ারের সুযোগ ও পড়ালেখা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
আগে আমাদের দেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থীই ভারত থেকে মাল্টিমিডিয়া ও ক্রিয়েটিভ আর্টস বিষয়ে পড়তে যেত। তবে তাতে খরচ হত প্রায় ৯-১০ লক্ষ টাকা। সেখানে এখন আমাদের দেশেই ৫-৬ লক্ষ টাকা খরচ এসব বিষয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচুর চাহিদা থাকার কারণেই এই বিষয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ তৈরি দিয়েছে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, তার মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অন্যতম। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদন নিয়ে স্প্রিং সেমিস্টার ২০১২ থেকে মাল্টিমিডিয়া টেকনোলজি ও ক্রিয়েটিভ আর্টস বিষয়ে চার বছর মেয়াদী বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ও একমাত্র অনার্স কোর্স চালু করেছে তারা।
মাল্টিমিডিয়া ভুবনের সম্ভবনার কথা চিন্তা করে দীর্ঘ দেড় বছর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রি, মাল্টিমিডিয়া, সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি খাত ও সংবাদমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে এই কোর্স চালিয়ে যাচ্ছে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডি ও উত্তরা অফিসে গেলেই এসব কোর্সের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।