এশিয়া কাপ নিয়ে এখনো সংশয়ে এসিসি
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২২:২২
ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ; এসব ডামাডোলে এশিয়া কাপের আগমনী সুর যেন হারিয়েই যেতে বসেছে। অথচ সব ঠিক থাকলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই আবার ঢাকায় বসছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ওয়ানডে টুর্নামেন্ট এশিয়া কাপ।
অবশ্য এশিয়া কাপের দ্বাদশ আসরটি এখনও পুরোপুরি সংশয়মুক্ত নয়। এখনও টুর্নামেন্ট নিয়ে কিছু সংশয় আয়োজক সংস্থা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলেরই (এসিসি) আছে। অন্তত ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তেমনটাই বললেন ঢাকা সফররত এসিসি প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হক। এমনিতে এশিয়া কাপের পরবর্তী আসর নিয়ে খুবই আশাবাদী তিনি। তবে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা, সেটা পুরোপুরি কাটেনি বলেই বলছেন তিনি, ‘এশিয়া কাপের প্রস্তুতি ঠিকঠাক মতোই চলছে। আমরা আরেকটা দারুণ টুর্নামেন্ট আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা এখনও আছে। আশা করছি, এটা খুব দ্রুতই কেটে যাবে।’
সৈয়দ আশরাফুল হক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাছে একজন ডাকসাইটে সংগঠক; কিন্তু বাংলাদেশে তার বড় পরিচয়, জাতীয় দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার। এক সময়ের দাপুটে এই ক্রিকেটারকে দেশে এলে তাই বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতেই হয়। কিন্তু দেশের ক্রিকেটে এখন যে সব জটিলতা চলছে, তা নিয়ে কথা বলতে খুব একটা উত্সাহ দেখালেন না আশরাফুল হক। তিনি এইসব জটিলতার ব্যাপার ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে যেতে চাইলেন।
কিন্তু একজন বাংলাদেশি হিসেবে এইসব নির্বাচন, গ্রুপিংয়ের বাইরে থেকেই তার কিছু প্রত্যাশা আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট কাঠামোর কাছে। সে কথা বলতে অবশ্য দ্বিধা করলেন না, ‘আসলে এই নির্বাচন নিয়ে কী হচ্ছে, আমি ঠিকমতো জানিই না। তবে আমি মনে করি, বেশি বেশি সাবেক খেলোয়াড়দের নানাভাবে ক্রিকেট কাঠামোতে আশা উচিত। সেটা যতো হবে ক্রিকেটের জন্য ততোই মঙ্গল।’
সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনের একটা প্রবণতার অন্তত সমালোচনা করলেন আশরাফুল হক। দেশে সরকার পরিবর্তিত হলেই ক্রিকেট বোর্ডে তার প্রভাব পড়ে। ক্রিকেট বোর্ডে রাজনৈতিক দলগুলোর এবং বাইরের লোকদের হস্তক্ষেপ করার এই প্রবণতাই সবচেয়ে ক্ষতিকর ব্যাপার বলে মনে করছেন এসিসির এই সাধারণ সম্পাদক, ‘এই ধরনের হস্তক্ষেপ খুবই খারাপ একটা ব্যাপার। এ রকমটা আসলে একদমই হওয়া উচিত না। ক্রিকেট বোর্ড একটা প্রফেশনাল ব্যাপার এখন; সেটা অবশ্যই প্রফেশনাল লোকজনের চালানো উচিত। এই যে পলিটিক্যাল পার্টিগুলো প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, যে খুশি বোর্ড চালানোর চেষ্টা করে; এটা হওয়া উচিত না। একটা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি তো ইতিহাসের ছাত্র দিয়ে চালানো যায় না। আবার একটা কেমিক্যাল কোম্পানি ওই বিশেষজ্ঞ দিয়েই চালাতে হবে। এখন ক্রিকেটকেও এ রকম একটা ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে দেখতে শিখতে হবে।’