ঈদ বাজার
জমে উঠেছে রাজধানীর অভিজাত ফ্যাশন হাউজ
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৯
ঈদের কেনাকাটা বেশ জমে উঠেছে রাজধানীর অভিজাত ফ্যাশন হাউজগুলোয়। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ভিড় তত বাড়ছে। ফ্যাশন হাউসগুলো তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতার বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছে ঈদ আয়োজনে। প্রত্যেকেরই রয়েছে বৈচিত্র্যময় কালেকশন। সারাদিন ক্রেতাদের কমবেশি উপস্থিতি থাকে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতাদের আনাগোনায় জমজমাট হয়ে উঠে শো-রুমগুলো।
ধানমন্ডি পুরাতন-২৭ নম্বর সড়কে রয়েছে নামকরা দেশীয় ব্র্যান্ডের বেশ কয়েকটি শো-রুম। বিবি প্রডাকশন, যাত্রা, অরণ্য, টেক্সমার্ট, নীলাঞ্জনা পল্লী, ট্রেন্ডজ এর মধ্যে অন্যতম। গতকাল বুধবার ধানমন্ডির ফ্যাশন হাউজগুলো ঘুরে দেখা যায়, তাদের এক্সক্লুসিভ সব শাড়ি, পোশাক আর পাঞ্জাবির কালেকশন। ঈদ উপলক্ষে এসব শো-রুমে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও পাঞ্জাবির সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে ঘর সাজানোর রকমারি সব পণ্য সামগ্রী।
চলতি ট্রেন্ড অনুযায়ী ঈদে ফ্যাশন সচেতন মেয়েরা শুধু একটি পোশাক কেনেন না। তারা সময় ও পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক নির্বাচন করেন। তাই সকালে পরার জন্য হালকা ছিমছাম ডিজাইনের পোশাক কিনলেও বন্ধুদের সঙ্গে বেড়ানোর জন্য থাকে উজ্জ্বল রংয়ের পোশাক। আবার রাতের কোন অনুষ্ঠানের জন্য থাকে ভারি ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ। ফ্যাশন হাউসগুলোও ক্রেতাদের এই পছন্দের দিক বিবেচনা করে নানা আঙ্গিক ও ডিজাইনের পোশাক রেখেছেন তাদের কালেকশনে। প্রতিটি ফ্যাশন হাউজের রয়েছে নিজস্ব ডিজাইনার দিয়ে তৈরি কিছু এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের শাড়ি ও পোশাক। অনেকে মনে করেন, অভিজাত এসব ফ্যাশন হাউজের শাড়ি-পোশাকের মূল্য হয়তো অনেক বেশি; বাস্তবে কিন্তু সে রকম নয়। অনেকেই মনে করেন এসব ফ্যাশন হাউজের শাড়ি-পোশাকের মূল্য সাধ্যের মধ্যেই আছে।
ঈদে তরুণীদের প্রধান আকর্ষণ থাকে সালোয়ার কামিজকে ঘিরে। সে কারণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ঈদে সালোয়ার কামিজের বিশেষ কালেকশন নিয়ে হাজির হয়। সালোয়ার কামিজ কেনার জন্য ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ থাকে দেশের নামিদামি ফ্যাশন হাউসগুলোর প্রতি। কারণ তারা সময়, উত্সব ও ঋতুকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক তৈরি করে থাকে। এবার সুতি কাপড়ে হালকা ডিজাইনের পাশাপাশি ফ্যাশন হাউসগুলো পোশাকে ব্যবহার করেছে উজ্জ্বল রঙের কাপড়। উজ্জ্বল রঙের সুতো বা জরির নকশার কাজকেও প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। অনেক ফ্যাশন হাউস সুতি কাপড়ের চাইতে এন্ডি সুতি, এন্ডি সিল্ক, তসর ও সিল্কের কাপড়কে প্রাধান্য দিয়েছে।
বিবি প্রোডাকসনের ম্যানেজার জাকির হোসেন বললেন, আমাদের এখানে রয়েছে নিজস্ব ডিজাইনের কিছু এক্সক্লুসিভ কালেকশন যা অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। রয়েছে ঈদের স্পেশাল গামছা, শাড়ি, নিউ প্যান্টস, কোর্তা, ঈদ কটন পাঞ্জাবি, পাটিওয়াল সালোয়ার, টপস, গামছা ওড়না। যাত্রা ও অরণ্য ফ্যাশন হাউজে রয়েছে শাড়ি, থ্রি-পীস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, পায়জামা, বিছানার চাদর, সিডি, বই, অর্নামেন্টস ও ঘর সাজানোর নানা পণ্য সামগ্রী। শাড়ির মধ্যে রয়েছে সিল্ক, কটন, তসর, ক্রেপ, সিল্ক, কাঁথা সিল্ক, এন্ডি সিল্ক, এন্ডি কটন, তাঁতের শাড়ি ও জামদানি শাড়ি। এসব শাড়ির দাম পড়বে দুই হাজার ৫৫০ টাকা থেকে ৪০ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। থ্রি-পীসের মধ্যে রয়েছে কটন, সিল্ক প্রিন্ট, কটন কাঁথা ইত্যাদি। দাম পড়বে এক হাজার ৪২৫ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। অরণ্যক’র ম্যানেজার মো. মনির হোসেন বলেন, আমাদের কাপড়গুলো সবই ব্লক প্রিন্ট, ব্রাক প্রিন্ট ও ভেজিটেবল কালার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।