রাজনীতিতে জয়ের অভিষেক?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে যাচ্ছেন- এমন গুঞ্জন গত কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। বুধবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাড়ম্বরে রংপুরে তাঁর পৈতৃক গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে যে বক্তৃতা দিয়েছেন তাতে এমন গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। সেখানে তিনি হাজির হন আওয়ামী লীগের দলীয় পোশাক মুজিব কোট পরে এবং সামনের নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেয়ারও আহ্বান জানান। রংপুরের অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই কি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অভিষেক হলো? রংপুরের পীরগঞ্জের জনসভায় অবশ্য সজীব ওয়াজেদ জয় রাজনীতিতে তাঁর জড়ানোর প্রশ্নে নিজে কিছুই বলেননি। তাঁর মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যেও সে প্রসঙ্গ আসেনি। কিন্তু সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর বক্তৃতায় বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন, বিরোধী দলের সমালোচনা করেন এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার পক্ষে ভোট চান। তিনি বলেন, ‘আমি ওয়াদা করেছিলাম, আওয়ামী লীগ সরকার পীরগঞ্জের উন্নয়ন করবে। আমরা সেই ওয়াদা রেখেছি। দেশ থেকে আমরা মঙ্গা মুছে ফেলেছি। আমি আমার ওয়াদা আপনাদের কাছে রেখেছি। নির্বাচন সামনে রেখে আমি আপনাদের ওয়াদা চাই। নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়নের কাজ চলতে থাকবে। আর ধানের শীষে ভোট দিলে উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে। সেটা ঠেকাতে নৌকায় ভোট দিন।’ তিনি রংপুরের আঞ্চলিক ভাষাও ব্যবহারের চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘মুই ফির আসিম।’ জনসভার মঞ্চে সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওভারমায়ারও উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের বেশ কয়েক বছর পর এই প্রথম তিনি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পিতৃভূমিতে যান। ফলে তাদের বরণ করার জন্যও ছিল ব্যাপক আয়োজন। সজীব ওয়াজেদ জয় বিগত সংসদ নির্বাচনের আগেও পীরগঞ্জে এক জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন। স্থানীয় একজন সাংবাদিক শাহ মো: সাদা মিয়া বলছিলেন, এবার সজীব ওয়াজেদ জয়ের পীরগঞ্জে যাওয়া এবং জনসভায় বক্তৃতায় একটা ভিন্ন বার্তা ছিল বলে তাঁর মনে হয়েছে। তিনি বলেন,‘গত সংসদ নির্বাচনের আগে পীরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সমাবেশে যখন সজীব ওয়াজেদ জয় বক্তব্য দিয়েছিলেন, তখন তাতে ছিল সৌজন্যমূলক কিছু কথাবার্তা। এবার তাঁর বক্তব্যে ছিল মূলত রাজনৈতিক বিষয়। সাংবাদিক শাহ মো: সাদা মিয়া জানিয়েছেন, জনসভায় অংশ নেয়া হাজার হাজার মানুষের মধ্যেও ছিল সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে ব্যাপক উত্সাহ। জনসভাস্থল ছাপিয়ে গোটা পীরগঞ্জ শহরেই ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরে আওয়ামী লীগের হাল কে ধরবেন, সেটা এখনো একটা বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন হিসেবে ঝুলে আছে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সামনে। জয় আদৌ কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসবেন কিনা তা নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যেও সন্দেহ ছিল। তবে এখন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন,পীরগঞ্জের জনসভায় বক্তব্য দেয়ার মাধ্যমে সজীব ওয়াজেদ জয়ের রাজনীতিতে অভিষেক হলো। ‘অনেকদিন আগে থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের একটা চাপ ছিল, সজীব ওয়াজেদ জয় যেনো রাজনীতিতে আসেন। কিন্তু আগে তিনি আগ্রহ দেখাননি। এখন জনসভার মাধ্যমে তাঁর আগ্রহে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হলো।’