ডাস্টবিনের ময়লায়
সয়লাব রাজপথ
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৩, ২১:২৩
একদিন, এক সপ্তাহ কিংবা এক মাস নয়। দেখতে দেখতে যুগ পেরিয়ে গেলেও শান্তিনগরের ঘাড়ে চেপে বসা পরিবেশ দূষণের অশান্তি দূর হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তাতে যেন গুরুত্ব দেয়ার সময় কর্তৃপক্ষের নেই। বিষয়টি হচ্ছে আবর্জনা। প্রধান সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল স্থানে এক পাশ দখল করে আবর্জনা ফেলার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে। শান্তিনগরের মত রাজধানীর প্রায় এলাকায় এ সমস্যাটি বিরাজ করছে। সাধারণ লোকদের চলাচলে যেমন মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপর।
শান্তিনগর সাব পোস্ট অফিসে প্রবেশের প্রধান ও একমাত্র গেইটের সামনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বসিয়েছে আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন। আবার শান্তিনগর বাজারে প্রবেশমুখেও রয়েছে ডাস্টবিন। এ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কি কারণে ডাস্টবিন বসানো হয়েছে তা স্থানীয়রা জানে না। তারা বছরের পর বছর ধরে এর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে বর্তমান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দরজায় ধর্না দিয়েও কোন আশারবাণী শুনতে পাননি। সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার আগেও স্থানীয়রা বার বার এ সমস্যার সমাধান চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন সুফল পায়নি। কর্তৃপক্ষের সোজা সাফটা জবাব ডাস্টবিন কোথাও সরানো সম্ভব নয়’।
ডাস্টবিন কি সমস্যার সৃষ্টি করেছে? এ প্রশ্নের জবাব মিলে ডাস্টবিনের স্থানটি সরাসরি দেখলে। ময়লা-আবর্জনা ডাস্টবিনের ভিতরে ফেলার নিয়ম। কিন্তু এ নিয়ম উপেক্ষা করে ডাস্টবিনের বাইরে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় তা চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। ডাস্টবিনের বাইরে অনেক জায়গাজুড়ে আবর্জনা ফেলার কারনে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তাছাড়া বৃষ্টি হলে হেঁটে চলাচল করার কোন উপায় থাকে না।
শুধু শান্তিনগর সাব পোস্ট অফিস কিংবা শান্তিনগর বাজারের প্রবেশমুখ নয়। এ সমস্যা রাজধানীর প্রায় সর্বত্র। বিশেষ করে সিটি সার্ভিসের বাস স্টপেজের সাথেই বসানো হয়েছে ডাস্টবিন। আর ডাস্টবিনের সামনেই বাস-মিনিবাস থামে। নাকে হাত বা রুমাল চেপে যাত্রীরা উঠানামা করেন। মগবাজার ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জের বিপরীত দিকে বাস স্টপেজের পাশেই ডাস্টবিন। এর পাশে রয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল। বাস স্টপেজে কেন ডাস্টবিন? দুই সিটি করপোরেশনের নিকট এর সঠিক জবাব হচ্ছে বিকল্প কোন ব্যবস্থা বা স্থান নেই। যেখানেই ডাস্টবিন বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয় সেখানেই বাধা আসে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের আপত্তির কারণে ডাস্টবিন বসানো যায় না। প্রায় প্রতিটি এলাকার লোকদের এক ও অভিন্ন অভিযোগটি হচ্ছে দু্ই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাসা-বাড়ির সামনে কোন ডাস্টবিন নেই।
বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর কারণে রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক হিসাবে চিহ্নিত রামপুরা-বাড্ডা-খিলক্ষেত। মালিবাগ রেলগেট থেকে রামপুরা হয়ে খিলক্ষেত পর্যন্ত পুরো সড়কের দু’পাশে প্রতিটি বাস স্টপেজের সাথে বসানো হয়েছে ডাস্টবিন। মালিবাগ সুপার মার্কেটের আগেই বাম দিকে, রামপুরা ওয়াপদা রোড বাস স্টপেজ ও উলন বাজার রোডের প্রবেশমুখে রয়েছে ডাস্টবিন। বাতাস দূষিত হয়ে চারদিকে দুর্গন্ধ ছাড়ানো অনেকটা স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে গেছে। শান্তিনগর ও উলন বাজারে নিয়মিত বাজার করতে আসা অনেকেই অভিযোগ করেন আবর্জনার কারণে পরিবেশের সাথে জনস্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হচ্ছে তা বুঝতে কর্তৃপক্ষের আর কতদিন লাগবে?