ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট
খুলনার ঈদ বাজার
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৬
ঈদকে সামনে রেখে খুলনার বড় বড় শপিংমল ও বিপণি বিতানগুলো এখন জমজমাট। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা। বিক্রেতাদের যেন দম ফেলার সময় নেই। এই কেনা-বেচা জানিয়ে দিচ্ছে মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদ। নগরীর অভিজাত বিপণি বিতান নিউ মার্কেট, ওয়েস্টার্ন প্লাজা, সেভ এন্ড সেভ, জলিল টাওয়ার, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, আক্তার চেম্বার, এশা চেম্বার, হাজি মালেক চেম্বার, দরবেশ চেম্বার, খানজাহান আলী সুপার মার্কেট, এস এম এ রব শপিং কমপ্লেক্স, সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, রেলওয়ে বিপণি বিতান ও নিক্সন মার্কেটসহ ছোট-বড় শপিংমলগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। ক্রেতাদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে তরুণী ও মহিলাদের সংখ্যাই বেশি।
নগরীর অধিকাংশ বিপণি বিতান ও শপিংমল ঘুরে দেখা যায় প্রতি বছরের মত এবারো দোকানগুলোতে ভারতীয় ছিট কাপড় ও তৈরি পোশাকে ঠাসা। এবার বর্ষার সময় ঈদ হওয়ায় পোশাকে সব ধরনের রঙই প্রাধান্য পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সবুজ, আকাশী, লাল, মেরুন, অলিভ, জামরং, অরেঞ্জ, নেভি ব্লু, অফ-হোয়াইট। তবে উজ্জ্বল রঙই পছন্দ করছেন তরুণ-তরুণীরা।
দোকানগুলোতে এক্সক্লুসিভ কালেকশনের মধ্যে আছে এন্ডিকর্টন, বলাকা সিল্ক, বিভিন্ন ধরনের সুতি কাপড়ের পোশাকের মধ্যে চুমকি, পুঁতি, কুন্দন, লেইস,এ্যামব্রয়ডারি, ব্লক ও হাতের কাজের তৈরি সালোয়ার-কামিজ। এর সঙ্গে আছে মসলিনের কিংবা রকমারী দোপাট্টার বাহার। কিন্তু এবার তরুণীদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের পোশাক ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের নামে থ্রি-পিস রাধিকা, অর্চনা, বিপাশা, ক্যাটরিনা, আশিকি-২, জারা, তিয়ারী বাহার, মেরি ভাবী, আবিরতা, সোহানা, পাকিস্তানি সানাসাদি ইত্যাদি। এক একটা থ্রি-পিস সাড়ে ১১শ টাকা থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। থ্রি-পিস ছাড়াও এ বছর তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে থান কাপড় আনারকলি, হিম্মতওয়ালা, চায়না কটন, কাতান, দুলারী, ও লিলেন লেস প্রভৃতি। শপিংমলগুলোতে এসব ছিট কাপড় ৩০০ টাকা থেকে ১৩৫০ টাকা পর্যন্ত গজ বিক্রি হচ্ছে। আর শাড়ির মধ্যে পছন্দের তালিকায় আছে ভারতীয় ইস্টিকুটুম, বাহা, ঊষশী, টাপুর-টুপুর, জলনূপুর, কিরণমালা, টুসু, ফুলকি, ঝিলিক, রাশি প্রভৃতি।
অন্যদিকে ঈদ উপলক্ষে খুলনার মার্কেটগুলোতে ব্যবসায়ীরা জামদানি, মসলিন, কাতান, সিল্ক, তসর, তাঁত, জর্জেট, বেনারশি, টিস্যু কাতান, ফুলপরী, টাঙ্গাইল, রাজশাহী সিল্ক ও বালুচরিসহ রকমারি শাড়ি তুলেছেন। এগুলোর মূল্য ৫৫০ টাকা থেকে ৪৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সাধারণ সুতির শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকায়। খুলনার নিউ মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ঘুরে জানা যায়, তাদের সংগ্রহে দামি পোশাকের মধ্যে রয়েছে তরুণীদের জন্য রিডার থ্রি-পিস তিয়ারী বাহার, মেরি ভাবী, পাঙখুরী, মেহুতেরা, লং ফ্রক, সফট সিল্ক, সুতির থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, স্কার্ট ও নকশি কাঁথা।
এছাড়া তরুণদের জন্য টি-শার্ট কটন ক্লাব, গিফিনি, হ্যাজার্ট, জিকিউ ও জংল্যান্ডফোর্ড এবং বৈচিত্র্যময় গেঞ্জি ও পাঞ্জাবিসহ জিন্স প্যান্ট। রাজধানীর মতো এ বছর খুলনাতেও খাটো ঝুল, সেমি লং কিংবা লং পাঞ্জাবির ফ্যাশন চলছে। তবে সেমি লং, গাঢ় রংয়ের প্রতি আগ্রহ তরুণদের। শেরওয়ানি কলারের মধ্যে সুতার কাজ ও বুকের সুতার কাজের ভেতর কাঠের ও স্টোনের বোতাম চলছে বেশি। আর তরুণদের আগ্রহের কথা বিবেচনায় রেখে দোকানগুলো তাদের পাঞ্জাবির কালেকশন সাজিয়েছে।
এছাড়া পুরুষদের জন্যও রয়েছে আকর্ষণীয় টি-শার্ট ও জিন্স। তাছাড়া ৩ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক্স ও গিফট আইটেম বিক্রি হচ্ছে। এদিকে নগরীর খানজাহান আলী সুপার মার্কেট, সোহরাওয়ার্দী মার্কেট ও রেলওয়ে মার্কেটে মূলত নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরাই মূল ক্রেতা। দোকানিরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর তাদের বিক্রি অনেক ভালো। তারা আশা করছেন, ঈদের দিন এগিয়ে আসার সাথে সাথে বিক্রি আরো ভালো হবে।