ব্যাপক নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জামায়াতের
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৭
জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায় প্রকাশের পর দেশজুড়ে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জামায়াতে ইসলামীর। গোয়েন্দারা এ তথ্য জানতে পেরে আগে থেকেই সর্বোচ্চ সতর্ক ছিল। একই সাথে গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল জামায়াতের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ দিন ধরে দেশজুড়ে জেলা পর্যায়ের জামায়াতের আমীর ও জামায়াতের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেফতার অভিযানে নামে পুলিশ। গত ১০ দিনে পুলিশ জামায়াতের জেলা পর্যায়ের অন্তত অর্ধশত শীর্ষ নেতাকে আটক করে। এসব নেতাকর্মী আটক থাকায় রায়ের পর নাশকতার পরিকল্পনা থাকলেও একযোগে মাঠে নামতে পারেনি জামায়াত কর্মীরা। তবে জামায়াত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী রবিবার এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এই আপিলের রায় জামায়াতের পক্ষে না আসলে জামায়াত কঠোর অবস্থানে যাবে।
এর আগে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ করে সারাদেশে জামায়াত ইসলামী ও শিবিরের প্রায় ৪ হাজার নেতা-কর্মী গ্রেফতার রয়েছেন কারাগারে। নতুন করে নাশকতার পরিকল্পনার জন্য জামায়াত ইসলামী তাদের ছাত্রসংগঠন শিবিরকে দায়িত্ব দেয়। বিষয়টি পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) জানার পর ছাত্রশিবিরের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া শুরু করে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। জামায়াত-শিবিরে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিটি থানায় একজন সাব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে একটি পৃথক সেল গঠন করা হয়। শিবিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ আরো কয়েকজন শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরাই পুলিশের কাছে হাইকোর্টে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের রায়কে কেন্দ করে নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য ফাঁস করে। পুলিশের বিশেষ শাখার আরো একটি সূত্র জানায়, রায়কে কেন্দ করে জামায়াত-শিবির নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড না চালানোর জন্য বুধবার রাতেই জামায়াতের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কয়েক নেতার সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থা যোগাযোগ করে।
পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সূত্রে জানা গেছে, শিবিরের অনেক তরুণ কর্মী এখন এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে চাইছে। তারা বিচ্ছিন্নভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে অনেকে গ্রেফতার হচ্ছেন। এ কারণে শিবিরের অপেক্ষাকৃত তরুণ কর্মীদের মধ্যে মনোবল অনেকটা ভেঙ্গে যায়। বিশেষ শাখার একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, শিবিরের মূল টার্গেট রাজধানী। তবে রমজান ও সামনে ঈদের কারণে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে না চালিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে চালানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়। এই পরিকল্পনার তথ্য পুলিশ জানতে পেরে সারাদেশ পুলিশ অর্ধশত জামায়াত ও শিবিরের নেতাকে গ্রেফতার করে।
র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক লে.কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, রায়কে কেন্দ করে শিবির কর্মীরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে এমন তথ্য ছিল। এ ব্যাপারে র্যাবকে আগে থেকেই সতর্ক করে দেয়া ছিল।