মির্জাপুরে পুলিশের আবাসিক ভবনগুলো জরাজীর্ণ

জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে মির্জাপুরের পুলিশ। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনগুলোর অবস্থা এতই জরাজীর্ণ যে তা বসবাসের পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষার জন্য ভবনের ছাদের ওপর বিছানো হয়েছে পলিথিন। কিন্তু তাতেও রক্ষা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্টার, ইট ও রড। ভবনগুলো ধসে পড়ে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা গেছে। সমপ্রতি মির্জাপুর থানা কমপ্লেক্সে পুলিশের আবাসিক ভবন ঘুরে এই জরাজীর্ণ অবস্থা দেখা গেছে। জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের ২৩১টি গ্রামের প্রায় ৫ লক্ষাধিক জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ১৩৫ জন পুলিশ। কিন্ত এই পুলিশ সদস্যদের বসবাসের জন্য থানা কমপ্লেক্সের ভেতরে তেমন কোন ভবন নেই। পুরনো আমলের ২/১টি ভবন থাকলেও সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়েছে অনেক পূর্বেই। রাতে ও দিনে ডিউটি পালন করে পুলিশ সদস্যরা যে ভাল জায়গায় ঘুমাবে সে ব্যবস্থাও নেই। বিশেষ করে হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যদের আরও করুণ অবস্থা। ভাঙ্গা-চোরা ভবনের মধ্যে দু’পাশে বেড়াও নেই। এরই মধ্যে মাথায় ইট দিয়ে তারা কোন রকমে ঘুমিয়ে থাকে। আর মির্জাপুর থানার পুলিশ সদস্যরা ভবনে থাকতে না পেরে উপজেলা শিক্ষক সমিতির ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াইতে অবস্থিত ফাঁড়ি পুলিশদের আরও করুণ চিত্র দেখা গেছে। জানা গেছে, ৭০ দশকে ভবনগুলো নির্মিত হলেও অর্থাভাবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনগুলোর এখন করুণ দশা। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ইন্সপেক্টর (ওসি) মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, ভবনগুলো সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। ভবনগুলো সংস্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানানো হলেও আজ পর্যন্ত তেমন কোন বরাদ্দ আসেনি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যেই মানবেতরভাবে বাস করছে পুলিশ সদস্যরা।