গোপালপুরে পাটি শিল্পের দুর্দিন

প্রয়োজনীয় উপকরণ, পুঁজি ও বাজারজাতকরণের অভাবে গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেঁত ও পাটি শিল্প বিলুপ্তির পথে। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় এ পেশার সাথে জড়িতরা পৈতৃক পেশা ছেড়ে যাচ্ছে। এ উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের বাইশকাইল গ্রামের বেঁতের তৈরি শীতল পাটি, কুশন ও ডোলের চাহিদা ছিল দেশ জুড়ে। ক্রেতারা খুচরা ও পাইকারি দরে এসব পণ্য কিনে নিয়ে যেত। গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার এ পেশার সাথে জড়িত ছিল। পাটির সুনামের জন্য এ গ্রামকে পাটিতা পাড়া বলে ডাকা হতো। কিন্তু প্রয়োজনীয় পুঁজি, উপকরণ ও বাজারজাতকরণের অভাব এবং প্লাস্টিক ও কৃত্রিম তন্তুর সামগ্রীর সাথে পাল্লা দিতে না পারায় এখানকার বেঁত ও পাটি শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। বেঁত শিল্পের প্রবীণ কারিগর নরেশ চন্দ্র জানায়, ৪/৫ হাত একটি সাধারণ পাটি বুনতে সময় লাগে দু’দিন। খরচ হয় দেড়-দুইশ’ টাকা। বিক্রি হয় ৪/৫শ’ টাকায়। কিন্তু অনেকের পুঁজি নেই। ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায় না। বেঁতের আবাদ কমে যাওয়ায় কাঁচা মাল দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।