মাছ বিক্রির ১৬ লাখ টাকা বণ্টন হয়নি

সরকারের ‘ভবদহ অঞ্চলে মত্স্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের’ আওতায় কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের জলাবদ্ধ বিলে অবমুক্ত করা মাছ বিক্রির প্রায় ১৬ লাখ টাকা উপকারভোগীদের মাঝে গত ৫ মাসেও বণ্টন না হওয়ায় উপকারভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর টাকা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন উপকারভোগী সদস্যরা। জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কাস্তা, বাঁশবাড়িয়া, ফতেপুর, ধর্মপুর গ্রামের মাঝে অবস্থিত ফতেপুর বিলে ‘ভবদহ অঞ্চলে মত্স্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের’ আওতায় সরকারী পর্যায়ে ২০১২ সালের আগস্ট মাসে ৪৫৮০ কেজি (১১৪.৫ মণ) মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। বিল সংলগ্ন বাঁশবাড়িয়া-ধর্মপুর গ্রামের ২শ’ জন ও কাস্তা-ফতেপুর গ্রামের ২শ’ জন নিয়ে দুটি পৃথক সুফলভোগী সমিতি গঠন করা হয়। এ সমিতিতে একই পরিবারের মা, বাবা, ছেলে, ছেলের বউদের সদস্য করে সুফলভোগী কমিটি গঠন করায় বিলসংলগ্ন এলাকার জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত ৯ জানুয়ারি উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন, নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম, মত্স্য অফিসার আলমগীর হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানিকভাবে এ মাছ ধরা শুরু হয় আর শেষ হয় ২ মার্চ। সুফলভোগী সমিতির কতিপয় নেতা প্রায় দু’মাস ধরে রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১৪ হাজার ৫৩৩ কেজি মাছ ধরে ১৫লাখ ৯৫ হাজার ৭৪০ টাকা বাজারে বিক্রয় করে। এ ব্যাপারে কাস্তা-ফতেপুর গ্রামের সুফলভোগী সমিতির সভাপতি মেম্বার আনোয়ার হোসেন টিটো জানান, মাছ বিক্রির টাকা সুফলভোগীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়নি, এমনকি আজ পর্যন্ত মাছ বিক্রির কোন হিসেবও তিনি পাননি। বাঁশবাড়িয়া-ধর্মপুর গ্রামের সুফলভোগী সমিতি সভাপতি মেম্বার আঃ মজিদ জানান, ঈদের পরে বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান বসবেন বলে তাকে জানিয়েছেন। এব্যাপারে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মত্স্য অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, ফতেপুর বিল থেকে মাছ ধরে সমিতি কর্তৃপক্ষ ১৫লাখ ৯৫ হাজার ৭৪০টাকা বিক্রি করেছে। গত ৫ মাসেও মাছ বিক্রির টাকা বণ্টন না করায় সুফলভোগীরা টাকা পাওয়ার জন্য গত ১লা আগস্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন।