ভাঙন আতঙ্কে ঈদ আনন্দ নেই নদী তীরবর্তী মানুষের
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২১:১৪
নাগেশ্বরীতে ভাঙ্গন আতঙ্কে ঈদ আনন্দ নেই নদী তীরবর্তী মানুষের। নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় কাটছে নির্ঘুম রাত। ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ক্রমান্বয়ে আগ্রাসী হয়ে উঠছে ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, দুধকুমার। পানি যত কমছে ভাঙ্গন তত বাড়ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালাচ্ছে নুনখাওয়া ইউনিয়নের চরকাপনা, ব্যাপারীর চর, ফকিরগঞ্জ, কাটগীরি, কালিকাপুর, নুনখাওয়া বাজার, নারায়ণপুরের অধিকাংশ এলাকায়। গঙ্গাধরের শিকার বল্লভের খাসের মাদারগঞ্জ বাজারের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। বাজারের সামান্যই অবশিষ্ট আছে। হুমকির মুখে মাদারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়. কচাকাটা থানা, বিজিবি ক্যাম্প। দুধকুমার গিলে খাচ্ছে বামনডাঙ্গার পানাতিটারী, পাঁচমাথা, মিনা বাজার, তেলিয়ানী, লুচনি, নতুন বাজার, মুড়িয়া ঘাট, বেরুবাড়ীর খেলারভিটা, চররহমানের কুটি, রায়গঞ্জের দামালগ্রাম, ওয়াবদা বাজার, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজার হুমকির মুখে। ভাঙ্গনের শিকার এ এলাকার মানুষগুলো ঘর-বাড়ি সরিয়ে চলে যাচ্ছে অন্যত্র। বসতভিটা হারিয়ে অনেকের মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে গেছে চিরতরে।
আড়িয়াল খাঁর ভাঙ্গনে একশত
ভিটেবাড়ি নদীগর্ভে
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, গত কয়েকদিন ধরে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ৬টি গ্রামে আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গনে ১শ পরিবারের ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারেরা খোলা আকাশের নিচে অর্ধহারে দিনাতিপাত করা সত্ত্বেও সরকারি কোন সাহায্য-সহানুভূতি তারা পায়নি।
সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের গুপ্তেরচর গ্রামের নদীগর্ভে বিলীন হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আনোয়ার চৌকিদার জানান, সরকার আমাদের এ পর্যন্ত কোন সাহায্যই দেয়নি। আমার ভিটে বাড়ি ও ৬ বিঘা ফসলী জমি আড়িয়াল খাঁ গ্রাস করেছে। আমার পরিবার এখন সর্বস্বান্ত। শুধু আনোয়ার চৌকিদার নয়, শত শত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সরকারি সাহায্য-সহানুভূতির প্রতীক্ষায় বসে আছে। এ ব্যাপারে সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রব হাওলাদার জানান, নদীগর্ভে বিলীন, ভিটেমাটি, ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়া লোকজন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইকবাল হোসাইন। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বাস দেন, খুব শীঘ্রই সরকারি ত্রাণ-সাহায্য পৌঁছাবে।