আশাবাদ নিয়ে আজ ইংল্যান্ড যাচ্ছে ‘এ’ দল
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৯
ইংল্যান্ড লায়ন্স নামের ‘এ’ দলের সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরটার কারণেই বাংলাদেশের ওপর এবার চাপটা একটু বেড়ে গেছে। সে সফরে বাংলাদেশ সিরিজে হারিয়ে দিয়েছিল শক্তিশালী লায়ন্সকে। ফলে এবার বাংলাদেশ সেরকম একটা ফলাফল ইংল্যান্ড থেকে নিয়ে ফিরবে, এমন একটা প্রত্যাশার চাপ তৈরি হয়েছে। এই চাপ পূরণ করতে ‘এ’ দল নামে প্রায় জাতীয় দলই পাঠানো হচ্ছে দীর্ঘ ইংল্যান্ড সফরে। আজ সেই সফরে রওনা দেওয়ার আগে ‘এ’ দলের অধিনায়ক জহুরুল ইসলাম অমি অবশ্য বললেন, তারা কোন চাপ নিচ্ছেন না; স্বাভাবিক খেলাটা খেলেই ভালো ফল নিয়ে ফিরতে চান।
এই সফরে বাংলাদেশ ৬ আগস্ট প্রথম ম্যাচ খেলবে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে। এরপর ৯, ১১, ১৪ ও ১৬ তারিখ যথাক্রমে ইয়র্কশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার, নটিংহ্যামশায়ার ও উরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে খেলবে একটি করে একদিনের ম্যাচ। এই টানা পাঁচটি অনুশীলন ম্যাচের পর ২০ আগস্ট থেকে শুরু হবে লায়ন্সের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ। ব্রিস্টলে প্রথম ম্যাচ খেলবে দু দল। এরপর ২২ ও ২৪ তারিখ দুটি ম্যাচ খেলবে তারা টনটনে। এই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে যোগ দিতে মাশরাফি বিন মুর্তজার ইংল্যান্ডে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে।
তবে দলে মাশরাফি যোগ দেন আর নাই দেন, দলের বর্তমান স্কোয়াড নিয়েই খুব খুশি অধিনায়ক অমি। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের পেস সহায়ক কন্ডিশনের জন্য তার দলটা খুব ভালো হয়েছে বলেই মনে করছেন তিনি। গতকাল দলের আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনে এসে বললেন, ‘আল আমিন ছাড়া এই দলের সবার জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। ফলে গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যে ‘এ’ দল গিয়েছিল, তার চেয়ে এটা অনেক শক্তিশালী দল। আমাদের পেস বোলিং ইউনিট খুবই বৈচিত্র্যপূর্ণ। শিপলু আছে, দারুণ সুইং বোলার। আর আলআমিন ভালো অতিরিক্ত বাউন্স করতে পারে।’
অধিনায়ক হিসেবে যেমনটা উচিত, অমি সেরকমই আশাবাদী তার দলের সবকিছু নিয়ে। বলছেন, অনুশীলনও চমত্কার হয়েছে তাদের, ‘আমাদের প্র্যাকটিস খুবই ভালো হয়েছে। প্রথমে চার সপ্তাহ ফিটনেস ক্যাম্প হয়েছে। এরপর স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্যাম্প করেছি আমরা। হ্যা, কয়েকদিন হরতাল ও বৃষ্টির কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে সবাই যার যার স্কিল বাড়ানোর জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে। বিশেষ করে বোলিং মেশিনে আমরা বাউন্সি বল খেলার অনেক অনুশীলন করেছি। ফলে আমরা ইংল্যান্ডের উইকেটে ভালো করার ব্যাপারেই আশাবাদী।’
তবে একটা জায়গায় বেশ ঘাটতি আছে বলে মানছেন অমি। এই এতোকিছুর মধ্যে ফিল্ডিং প্র্যাকটিসটা ভালো হয়নি বলেই স্বীকার করছেন তিনি। তবে ইংল্যান্ডে গিয়ে এই ঘাটতিটা পুষিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি, ‘এটা ঠিক যে আমরা ফিল্ডিং প্র্যাকটিসটা খুব একটা করতে পারিনি। এই ডিপার্টমেন্টে ভালো অনুশীলন ছাড়া ভালো কিছু করা কঠিন। আজকেও (গতকাল) আমি কোচের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি। ইংল্যান্ডে আমরা গিয়ে যে দুদিন প্রথমে অনুশীলন করবো, তার মূল ফোকাস থাকবে ফিল্ডিং। ফলে এটার উন্নতি হবে বলেই মনে হয়।’
শুধু ফিল্ডিংয়ের জন্য নয়, ইংল্যান্ডে গিয়ে পাঁচটি কাউন্টি দলের বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচ খেলাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অমি, ‘আমাদের কাউন্টি দলগুলোর বিপক্ষে পাঁচটি অনুশীলন ম্যাচ আছে। এই দলগুলোর শক্তি লায়ন্সের চেয়ে কম নয়। ফলে এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।’