ক্যারিবিয় সাগরতীরে সাকিবের আলো

ব্যাট হাতে ছয় বলে ১ রান, বল হাতে ১৬ রানে ১ উইকেট; এই পরিসংখ্যান দেখার পর একটা কথাই মনে হবে—আরেকটা ফ্লপ পারফরম্যান্স। কিন্তু সেই যে কথা—পরিসংখ্যানকে বিশ্বাস করতে নেই। সেই কথা সত্যি বলেই এই পরিসংখ্যান নিয়ে গতকাল বারবাডোজ ট্রাইডেন্টসকে জেতানো ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় আমাদের সাকিব আল হাসান! হ্যা, সাকিব আল হাসান বল হাতে অন্তত দুরন্ত নিয়ন্ত্রণ দেখানো ফর্মে ফিরেছেন। আর তার এই ফর্মে ভর করেই ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে বাংলাদেশ সময় গতকাল (ক্যারিবিয় সময় বৃহস্পতিবার) টানা দ্বিতীয় জয় পেল বারবাডোজ। শোয়েব মালিক ও উমর আকমলের মাঝারি দুটো ইনিংস, অ্যাশলি নার্সের ২৮ রানে ৪ উইকেটে ভর করে অ্যান্টিগা হকসবিলসের বিপক্ষে হারতে বসা ম্যাচে ১২ রানের জয় পেয়েছে বারবাডোজ। ব্যাট হাতে টি-টোয়েন্টি মাচ জেতার মতো রান আসলে করতে পারেনি বারবাডোজ। অ্যান্টিগার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৬ রানে থেমে যায় তাদের ইনিংস। বারবাডোজের স্থানীয় খেলোয়াড় জনাথন কার্টার ৩১, শোয়েব মালিক ৩৩ ও উমর আকমল ৩০ রান করেন। সাকিব ৬ বল খেলে ১ রান করে মারল স্যামুয়েলসের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন। রিকি পন্টিং, মারলন স্যামুয়েলস, ডেভন থমাস, জাস্টিন কেম্প, কাইরন পাওয়েলদের সামনে বারবাডোজের রানটা মামুলিই ছিল। হোল্ডারের প্রথম ওভারে চার্লস আট রান তুলে নিয়ে সেটাই প্রমাণ করেছিলেন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় সাকিবের ম্যাজিক। পাওয়ার প্লেতে, একেবারে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই নতুন বল হাতে তুলে নেন বাংলাদেশি এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। প্রথম ওভারে ৩ বাইরানসহ দিলেন ৬ রান। পরের ওভারে আবার ৭ রান নিয়ে অ্যান্টিগা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু সাকিব নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসেই মেডেন তুলে নিলেন। আর এই ওভারটাই বলা যায় বারবাডোজকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দিল। আবার তৃতীয় ওভার বল করতে এসে সাকিব ফিরিয়ে দিলেন কাউন্টিতে দারুণ ফর্মে থাকা সাবেক অস্ট্রেলিয় কিংবদন্তী রিকিং পন্টিংকে! সবমিলিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৩ ওভারে সাকিব ১২ রান দিয়ে তুলে দিলেন পন্টিংয়ের উইকেট। ম্যাচসেরা হতে আর কিছু লাগে! এরপরও করলেন। আবার বল করতে এলেন ১৪তম ওভারে। তখন অ্যান্টিগার জয়ের জন্য ১৯.৪২ করে ওভারপ্রতি রান চাই। সেই সময়ে সাকিব এসে রান দিলেন ৪। এরপর আর বিচারকদের সমস্যা হয়নি ম্যাচসেরাকে খুঁজে পেতে। অ্যান্টিগার হয়ে ৪৪ রান করা চার্লস বা বারবাডোজের হয়ে ৪ উইকেট নেওয়া নার্সও সাকিবের এই কৃপণ বোলিংয়ের কাছে পিছিয়ে পড়লেন। ফলে দিন শেষে সর্বকালের সেরা গ্যারফিল্ড সোবার্সের হাত থেকে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা নেওয়ার সুযোগ হল আজকের দিনের ‘সেরা’ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের!