‘এটা তো ফোরামের নির্বাচন না’

উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর নির্বাচনমুখী হয়ে উঠেছে ক্রিকেট অঙ্গন। আর নির্বাচন নিয়ে আছে নানান মতানৈক্যও। গতকাল মিরপুরে নির্বাচন, প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএল নিয়ে কথা বললেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সংবাদ সম্মেলনের নির্বাচিত অংশ— নির্বাচনে আপনার প্যানেল কেমন হচ্ছে? প্যানেল তো এখনও ঠিক করিনি। কাউন্সিলরদের তালিকা না পেলে প্যানেল তৈরি করা যায় না। ফোরাম বলছে, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ তারা মানবে না.... কারা এরা? এটা তো ওদের নির্বাচন না। আমরা তো ওদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করি না। ওরা কেন আমাদের এখানে হস্তক্ষেপ করবে? গঠনতন্ত্রে যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবেই নির্বাচন করা হবে। এটা তো ওরা বলতে পারে না যে, আমরা কিভাবে নির্বাচন করব। জেলা-বিভাগ থেকে কাউন্সিলরশিপ আসার ব্যাপারটা আপনারা প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। জেলা থেকে কিভাবে কাউন্সিলর আসবে, সেটা গঠনতন্ত্রে চিরকাল যা ছিল, তাই-ই আছে। কোনো পরিবর্তন নেই। আমি বুঝতে পারছি না, ওনারা এখন হঠাত্ কেন চিন্তিত হয়ে পড়লেন? বর্তমান সংশোধনের ফলে সরকারি হস্তক্ষেপের সুযোগ বেড়েছে বলেও তো বলা হচ্ছে। বরং উল্টো আমি বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর দেখেছি; এনএসসি পাঁচ জন ডিরেক্টর দিতে চেয়েছেন। তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব। আমি বলেছি, এটা হতে পারবে না। এটা তো সরকারি হস্তক্ষেপ হয়ে যাবে। কাউন্সিলরদের মধ্যে থেকেই পরিচালক করতে হবে। ওনারা সেটা মেনে নিয়েছেন। আমরা আইসিসি গাইডলাইন মেনেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনে আপনার কোনো চাওয়া থাকবে? আমি শুধু চাই যারা ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত, যারা অবদান রাখছেন; তাদের ভোটে যারা নির্বাচিত হবেন, তারাই বোর্ড চালাবেন। যাদের ওখানে খেলাই হয় না, তারা কেন? আমি টিভিতে সেদিন দু’ জনকে কথা বলতে দেখলাম, ওনারা ফোরামের বড় পদে আছেন; ওনাদের ওখানে খেলাই হয় না। তাহলে? ওনারা আমাদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা নেবেন। খেলা চালাতে পারবেন না। তাহলে তারা বোর্ডে এসে কী গঠন করবেন, এরা শুধু ধ্বংস করতে পারবেন। এতোসব জটিলতা অবসানে কোনো ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা? আমি বলি, আমরা নির্বাচনের পর তো ইজিএম ডাকব। গঠনতন্ত্রে তো সংশোধন আনতেই হবে। ত্রুটি যা আছে, সব সংশোধন হবে। আধুনিক একটা গঠনতন্ত্রে যা থাকে, তাই করা হবে। জেলা ক্রিকেট সংস্থা নেই বলে আজ এইসব কাণ্ড হচ্ছে। আমি জেলা ক্রিকেট সংস্থা করে ফেলবো। গঠনতন্ত্রে শুরু থেকেই এটা আছে, কেউ করে না। আমি এটা করতে চাই, সে জন্য নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। যাদে এসব না করতে পারি, তাই বাধা দেয়া হচ্ছে। যেসব ব্যাখ্যা তারা দিচ্ছে, মিথ্যা ও অযৌক্তিক। প্রিমিয়ার লিগ কী হবে সেপ্টেম্বরে? প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু সেটা না হলে মহাভারত অশুদ্ধ তো হবে না। পত্রপত্রিকায় দেখলাম, বলা হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের চেয়ে বিশ্বকাপকে কেন বেশি প্রায়োরিটি দেয়া হচ্ছে? শোনেন, প্রিমিয়ার লিগ করে যদি বিশ্বকাপ না করতে পারি, তাহলে আপনারাই আমাকে ছাড়বেন না। বিপিএল হঠাত্ জানুয়ারিতেই কেন করতে চাচ্ছেন? আমার কাছে বিপিএলের চেয়ে প্রিমিয়ারের প্রায়োরিটি অবশ্যই বেশি। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে বলেই বিপিএল খেলার চিন্তা করছি। বিপিএল নিয়ে জটিলতাগুলো কী শেষ হচ্ছে? আমি আগেও বলেছি, আমার সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট করেছে এই বিপিএল। কারণ, এর আগে যারা এসব অন্যায় করছে, নিয়ম মানছে না; তাদের ধরতে পারছিলাম না। কারণ চুক্তি ছিল না। এখন আমরা ওদের বিপক্ষে ব্যবস্থা নিতে পারবো। তবে আমি দল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে একটা সুযোগ দেব। শেষ পর্যন্ত কেউ টাকা না দিলে ফ্রাঞ্চাইজি বাতিল করে দেব। আর ভবিষ্যতে আগে টাকা দিতে হবে, তারপর খেলা।