ঝালকাঠিতে উত্পাদিত লবণে
আয়োডিনের অভাব
কফিউল ইসলাম সৈকত, ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৩
ঝালকাঠির অধিকাংশ মিলের উত্পাদিত ভোজ্য লবনে সঠিক মাত্রায় আয়োডিন থাকছেনা। প্রতিমাসের আয়োডিন লবনের পরীক্ষামূলক নমূনা রিপোর্টে এ চিত্র ফুটে উঠেছে। অল্প কিছু মিল ছাড়া অপর মিলগুলোতে হাতে স্প্রে করে লবনে আয়োডিন মেশানো হচ্ছে। মালিক পক্ষের মাধ্যমে ‘ম্যানেজ’ হয়ে ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষ এ অনিয়মের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মানুষের মাঝে আয়োডিনের অভাবজনিত রোগের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। ঝুঁকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। এমআই (মাইক্রোনিউট্রিয়েন ইনেসিয়েটি) এবং সিআইডিডি (কন্ট্রোল অব আয়োডিন ডেফিসিয়েনসি ডিজঅর্ডার) ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষ আয়োডিন পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছে।
২০১৩ সনের জুন মাসের সিআইডিডি ল্যাবরেটরী ও ঝালকাঠি বিসিক কর্তৃক ১০টি মিলে উত্পাদিত লবনে আয়োডিন নমূনা পরীক্ষায় ৪টি মিলের লবণে নিচে ১৪ এবং উপরে ৫৪ পিপিএম আয়োডিনের মাত্রা পাওয়া গেছে যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কর্তৃপক্ষ বলছে ভোজ্য লবনে নিচে ৩০ পিপিএম এবং উপরে ৫০ পিপিএম আয়োডিন থাকতে হবে। অধিকাংশ মিলে এসআইপি মেশিন ব্যবহার না করায় এবং আয়োডিনের অধিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে লবনে পরিমাণ মতো আয়োডিন মেশানো হচ্ছে না। এক্ষেত্রে কিভাবে অপর ৬টি মিলের লবনে আয়োডিনের সহনশীল মাত্রার কথা পরীক্ষা রিপোর্টে উল্লেখ করা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে মেসার্স গাজী সল্ট ইন্ডাষ্ট্রি ম্যানেজার নিরোধ ভূষন দাস জানান, প্রথমে সরকার আয়োডিন ফ্রি দিয়ে এখন ৪ হাজার টাকা কেজি দরে বিসিকের মাধ্যমে বিক্রি করছে। এত দামের আয়োডিন খরচ করে আমাদের লাভ খরচ সমান থাকে। তবে এ মিলে হাতে স্প্রে করার দায়িত্বে নিয়োজিত এক শ্রমিক জানান, আমাদের মূল সমস্যা বিদ্যুত্ বিভ্রাট। তাই দ্রুত মাল ডেলিভারি দেয়ার জন্য হাতে স্প্রে না করে উপায় নেই। এতে লবনে মেশিনের মত আয়োডিন মেশেনা। মালিক আমাদের যেভাবে বলবে আমরা সেভাবে কাজ করতে বাধ্য।
পরিমাণমত আয়োডিন লবনে না থাকলে কি ক্ষতি হয় এমন প্রশ্নের জবাবে ঝালকাঠি বিসিকের ল্যাব সহকারি জাকিরুল ইসলাম জানান, ১ কেজি লবনে ৯০ গ্রাম আয়োডিন মেশাতে হয়। কিন্তু এর পরিমাণ কম বা বেশি হলে বমি, বুকজালা, চর্মরোগ, অনিদ্রা এমনকি যকৃতের ক্যানসার হতে পারে। বিসিক সূত্র জানায়, এসআইপি মেশিন ব্যবহার করে লবনে সঠিক মাত্রায় আয়োডিন রাখার লক্ষ্যে বিসিক ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন মিলে মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট বসানো হয়। গত বছর ৪টি মিল মালিককে লবনে সঠিক মাত্রার আয়োডিন না মেশানোর অপরাধে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সরকার আয়োডিনের অভাব পূরণে প্রতিটি মিলে ৬ লাখ টাকার একটি করে আয়োডাইজড মিকচার মেশিন (আইসিপি) বিনা মূল্যে বিতরণ করেছে। এ মেশিনগুলো বিদ্যুত্ বিভ্রাটের কারণে প্রায় সময়ই চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আয়োডিনের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে ঝালকাঠি লবন মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফজলুল হক জানান, ফ্রি মেশিন পেলেও আয়োডিনের দাম চড়া হওয়ায় অনেকেই তা ব্যবহার করে কম। মেশিনের চেয়ে হাতে স্প্রে করায় আয়োডিন কম লাগে।
এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি বিসিক পরিদর্শক মোতাহার হোসেন বলেন, অনেক মিলে হাতে স্প্রে করায় পরিমাণ মত আয়োডিন লবনে মিকচার হয় না। এ কারণে জুন মাসের রিপোর্টে উল্লেখিত মিলের লবনে পিপিএম সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি। এসআইপি থাকতে কেন স্প্রে করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি লবন মালিক পক্ষের সাথে সূর মিলিয়ে বলেন, আসলে অনেক সময় বিদ্যুত্ থাকেনা, মেশিন খারাপ থাকে। তাই কিছু মিলে এটা করা হয়। ঝালকাঠি বিসিক উপ-ব্যবস্থাপক আশরাফুজ্জামান বলেন, এসআইপি মেশিন ব্যবহারের ব্যাপারে মালিকদের উত্সাহিত করতে আমরা বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও কিছু মালিক হাতে স্প্রে করায় লবনে আয়োডিনের পিপিএম খুব কম নতুবা খুব বেশি থাকছে।