আত্মাহুতির চেষ্টা এক আন্দোলনকারীর

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫-এ উন্নীত করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। আন্দোলনরতদের একজন গত বুধবার রাতে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুরুতর আহত ওই আন্দোলনকারী বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। পুলিশ ও আন্দোলনকারী সূত্র জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি মশাল মিছিল বের করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ। শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের বিপরীত দিকের রাস্তায় তারা দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবস্থান করে। রাত সোয়া নয়টার দিকে আন্দোলনরত কামাল হোসেন নিজ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তার দুই হাত, ঘাড়, পেট ও পিঠ গুরুতরভাবে পুড়ে যায়। কামাল ঢাকা কলেজের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের ছাত্র। গতকাল শুক্রবার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কামাল হোসেন চাকরির বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। আন্দোলনরতরা জানান, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে নামে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ। মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, শিক্ষামন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে স্মারকলিপি পেশ, সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল এবং আমরণ অনশনে নামে তারা। গত ৭ জুলাই শহীদ মিনারে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তাদের অনশন ভাঙেন এবং তাদের দাবি মেনে নিতে সরকার আন্তরিক বলে আশ্বাস দেন। পরিষদের সভাপতি মো. ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, আমাদের গড় আয়ু বাড়ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৪-০৫ সেশনের ছাত্র-ছাত্রীদের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ হওয়ার কথা ২০০৮ সালে। কিন্তু তা সম্পন্ন হয়েছে ২০১২ সালে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ কিংবা লেখালেখি হলেও কোনো প্রতিকার হয়নি। আবার চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমাও বেড়েছে। অথচ চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০-ই রাখা হয়েছে। এর ফলে যেসকল শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন শেষ করতে ২৮ বছর কিংবা তার বেশি প্রয়োজন হয়, তারা বিসিএসসহ সরকারি চাকরির জন্য প্রতিযোগিতায় পর্যাপ্ত সময় পান না। তাই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।