যুবলীগ নেতা চঞ্চলকে ধরতে র্যাবের অভিযান

ঢাকা মহানগর যুবলীগের (উত্তর) সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চলকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একাধিক সূত্রের ভাষ্যমতে, ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিলকীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় চঞ্চল ও আরেক যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিকের মাধ্যমে। র্যাব রফিককেও খুঁজছে। তাকে গ্রেফতার করতে র্যাব গতকাল তেজগাঁও বিজি প্রেস এলাকায় রংধনু ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার একটি সূত্র জানায়, চঞ্চলের ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলাম যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। রংধনু ক্লাব চঞ্চল, রফিক ও দুই দিন আগে বন্দুকযুদ্ধে নিহত আরেক যুবলীগ নেতা জাহিদ সিদ্দিক তারেকের টেন্ডারবাজির টর্চার সেল হিসাবে ব্যবহার হয়। র্যাব ধারণা করছে মিলকী খুনের আগে রংধনু ক্লাবে ওই তিন নেতা বৈঠক করেছিলেন। গত মাসে চঞ্চল-রফিকের নির্দেশে কারওয়ানবাজার ওয়াসা ভবনের সামনে থেকে ১০ লাখ টাকাসহ এক ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়। পরে ১০ লাখ টাকা রেখে ও নির্যাতন করে ওই ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়া হয়। এর আগে ওয়াসার ঠিকাদার সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন মিন্টুকে প্রকাশ্যে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রংধনু ক্লাবে নিয়ে যায় রফিক ও তারেক বাহিনী। পরে র্যাবের সহায়তায় ছাড়া পান ওই দুই ঠিকাদার। এর আগে সড়ক ভবনে শামীম শাহরিয়ারকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোলাগুলিতে নেতৃত্ব দেয় রফিক-তারেক-চঞ্চল গ্রুপ। তারা সড়ক ভবনে গোলাগুলির পর রংধনু ক্লাবে এসে অবস্থান নেয়। কিছু দিন আগে তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে না আনতে পেরে অস্ত্রের মুখে রংধনু ক্লাবে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে রফিকের ক্যাডাররা। পরে নাজমুল হাসান ও নাসিরুল হাসান নামের দুই ছাত্রলীগ নেতা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুুলিশ প্রশাসনের সহায়তা মুক্ত হন। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ৮০ কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে গোলাগুলিতেও নেতৃত্ব দেয় রফিক-তারেক। মিলকী খুনের ঘটনার পর যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক নেতাই আত্মগোপন করেছেন। এদিকে মতিঝিল এলাকায় যুবলীগের মিলকী গ্রুপ ও তারেক গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, মিলকী খুনের সঙ্গে তারেকসহ যুবলীগের অন্তত ৮/১০ জন নেতা জড়িত রয়েছে। টেন্ডার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই তারা মিলকীকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়। র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তারেক নিহত হওয়ার আগে এসব তথ্য দিয়ে গেছে। মিলকীকে খুনের দৃশ্য দেখা সাক্ষী গাড়ি চালক মারুফ রেজা সাগরও র্যাবের কাছে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য অনুসারে এই খুনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের তালিকা করে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। চঞ্চল, রফিক, কানী সোহেল ও রবিনকে গ্রেফতারের জন্য গতকাল গুলশান, বাড্ডা, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও মতিঝিল এলাকায় র্যাব অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে এসব যুবলীগ নেতা আটক হয়েছেন কিনা—এ ব্যাপারে গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। ভোররাতে লাশ গ্রহণ: বিমান বন্দর সড়কের কাওলা এলাকায় র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জাহিদ সিদ্দিক তারেকের সঙ্গে নিহত শাহ আলমের লাশ গতকাল ভোর রাতে নিয়ে গেছেন তার স্বজনরা। শাহ আলমের ভাই নুরুন্নবী জানিয়েছেন, শাহ আলম পেশায় টেক্সিক্যাব চালক। শাহআলমের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর থানার শিবপুরে। পিতা আকরাম হোসেন। র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবার ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে শাহ আলমের স্বজনরা থানায় যোগাযোগ করে। রাতেই তাদেরকে লাশ গ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়। রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে শাহ আলমের লাশ গ্রহণ করে স্বজনরা। শাহ আলমের ভাই নুরুন্নবী জানান, গতকাল লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। মামলা বুঝে নিল র্যাব: যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিলকী খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার র্যাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল গুলশান থানা থেকে এই মামলার ডকেট র্যাব-১-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হাতে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে রিমান্ডে থাকা ৬ আসামিকেও র্যাব-১ বুঝে নিয়েছে।