বিএনপি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয় :ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয়। রাজনীতিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা উচিত। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ৭২-৭৫ সালেও সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল। এবারো তারা ভিন্নভাবে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছে। কিন্তু এভাবে কেউ বিজয় লাভ করতে পারেনি। জনগণ সব ষড়যন্ত্র ভোটের মাধ্যমে ধূলিসাত্ করে দেবে। ৫৮নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক জসীম উদ্দিনের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সরকার নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিরোধী দলকে স্তব্ধ করে দিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করার জন্যই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে । অপরদিকে, ফখরুল এক বিবৃতিতে বলেন, রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড সীমিত বা রদ করা দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করে বিএনপি। হাইকোর্টে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার পর গতকাল শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি তার এ অবস্থান তুলে ধরে। মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে ভয়াবহ দুঃশাসন চালিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে সংকুচিত করছে। গণতন্ত্রে ডালাপালা ছেঁটে ফেলে এরা এখন শিকড়ে আঘাত করছে। বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন। তাই বিএনপি বহু দলীয় গণতন্ত্রের অনুসারী। রাষ্ট্রীয় সংবিধানেও বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিধান স্বীকৃত। তিনি বলেন, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতা বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল আইনি প্রক্রিয়ায় বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হওয়া সংগত নয় বলে বিএনপি মনে করে। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও সংবিধান বর্ণিত বিধানকে মান্যকারী রাজনৈতিক সংগঠনের অস্তিত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার ওপর। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী যে কোন রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও রাজনৈতিক অভিমত ব্যক্ত করতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলাম আপিল করেছে। বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন তাই এ বিষয়ে বিএনপির কোনো বক্তব্য নেই। এদিকে, ঈদের পর বিএনপির আন্দোলনের তোপের মুখে ১৪ দল ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সাদেক হোসেন খোকা। ঈদের পর বিএনপির আন্দোলনকে রুখতে ১৪ দল মাঠে নামবে আওয়ামী লীগের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে খোকা বলেন, সে সময় দেশে যে নৈরাজ্যের সৃষ্টি হবে তার দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে।