বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিদ্যা চর্চায় ব্রতী হতে হবে

প্রফেসর মো. আবুল কাশেম চেয়ারম্যান বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড,ঢাকা সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, মানবিক সকল উন্নয়নের একমাত্র শর্ত জ্ঞান। জাগতিক ও পরলৌকিক সকল মুক্তিরও প্রধান উপাদান জ্ঞান। আর এ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা। প্রত্যুষে ঘুম থেকে ওঠে নিদ্রার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত শিক্ষা দ্ধারা চালনা করতে হবে নিজেকে। আত্মমর্যাদায়, আত্মবিশ্বাসে সৃজনশীল কর্মে মন-প্রাণ নিবেদন করতে হবে। শিক্ষার বিষয় বস্তুকে প্রয়োগ ঘটাতে হবে কর্মক্ষেত্রে। শিক্ষার প্রধান দুটি উদ্দেশ্য হচ্ছে জৈবিক চাহিদা বিষয়ক আর অন্যটি হলো মানবিক উত্কর্ষতা বিষয়ক। প্রথমটি পূরন না করতে পারলে দ্বিতীয়টির প্রত্যাশা অনেকাংশে কঠিন। যেমনটি বলেছেন ‘ ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়‘। “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে“ আমাদের এখন এই কথাটির তাত্পর্যতার বিশ্লেষন ও গবেষনার সময় এসেছে। কাজের ক্ষেত্র, কাজের পরিধি সব নিয়ে ভাবতে হবে। অধিক মনোযোগী হতে হবে কর্মমুখী শিক্ষা নিয়ে। উত্পাদনমুখিতায় অগ্রসর হতে হবে। বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিদ্যা চর্চায় ব্রতি হতে হবে। দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান জ্ঞান বিজ্ঞান যুগে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় প্রবেশ করতে হবে। এজন্যে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী, প্রত্যয়ি ও উদ্যমী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। কর্ম যুগে যেমন কর্মক্ষেত্র জরুরী তেমনি প্রশিক্ষিত জনশক্তিও একান্ত আবশ্যক। এরূপ একটি পরিবেশ গঠনে পূর্ব প্রজন্ম ও উত্তর প্রজন্মের দায়িত্বের বিষয়টি চলে আসে। দায়িত্ব বিষয়টি যদি পরিমাপের বিবেচনায় নিয়ে আসি তবে পূর্ব প্রজন্মের দিকটিই ভারী হবে। আগে কাজ সৃষ্টি করতে হবে তারপর আসে কাজ পরিমাপের বিষয়টি ১৯৬৭ সনে কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড গঠিত হয় এবং দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মান প্রণয়ন, নিয়ন্ত্রন ও উন্নয়নের দায়িত্ব এ বোর্ডের উপর ন্যস্ত হয়। বর্তমানে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে ৬৪২০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ২৫টি শিক্ষাক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লক্ষ। সাধারণ শিক্ষার তুলনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার হার বর্তমানে মাত্র শতকরা ৪-৫ ভাগ। ২০২১ সনের মধ্যে এই হার ২০ ভাগের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই বোর্ড কাজ করে যাচ্ছে। কর্মমুখী শিক্ষার নানামাত্রিক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিজ্ঞানের এই যুগে জীবনের চাহিদা মেটানোর জন্য কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। একমাত্র এ শিক্ষাই দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে। আগামীতে বিশ্বচ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমেই।