ঈদের পূর্ণদৈর্ঘ্য নায়িকা
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৩, ২০:৩৩
কথায় আছে বাঙালি দর্শক নাকি নায়িকা দেখতেই হলে ঢোকেন। সেই হিসেব মতেই এবারের ঈদে দুই নায়িকার প্রতিযোগিতা আর যুদ্ধ চলবে যেমন হল পর্দায়, তেমনি দর্শকের চায়ের কাপের আড্ডায়। তারই ক্ষুদ্র বিশ্লেষণ এবং হিসেব সংক্ষেপ জানানোর চেষ্টায় এই প্রতিবেদন ঈদের পূর্ণদৈর্ঘ্য নায়িকা। লিখেছেন রবি হাসান
শোবিজ চলচ্চিত্রে এ সময়ে আলোচিত নায়িকা বলতে এ দুটি নামই ঘুরে ফিরে আসে। একজন শাকিব খানের জুটি অপু বিশ্বাস, অন্যজন অনন্তের জুটি বর্ষা। অপু বিশ্বাসের এক নম্বর আসনটা কিছুটা হলেও টালমাটাল হয়ে যায়, যখন শাকিব খান আর অপু বিশ্বাসের ব্যক্তিগত কেমিস্ট্রিতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলে শাকিব খান অন্য নায়িকার সাথে অভিনয় শুরু করেন। আর সেই সব কথা তুলতেই অপু বিশ্বাস এক গাল হেসে বললেন, ‘কই পারল না তো আপনাদের হিরো অন্য কারও সাথে হিট হতে। আসলে জুটি আমি-আপনি চাইলেও গড়তে পারব না, যদি দর্শকেরা না চায়। এমনই আত্মবিশ্বাসী মেয়ে অপু বিশ্বাস।
অন্যদিকে যত মান-অভিমান আর হূদয়ের কেমিস্ট্রির জটিলতা থাকুক না কেন, রিল লাইফ আর রিয়েল লাইফ দুটিতেই চিরদিনের বাঁধনে জড়িয়ে আছেন অনন্ত-বর্ষা। নিজেকে দেশের সবচেয়ে বড় বাজেটের ছবির নায়িকা হিসেবে সব সময়ই বলেন, ‘অন্য প্রযোজনায় আমি যে ছবি করতে যাব তারা তো আমার এখনকার মানের কোনো ছবিই তৈরি করতে পারবে না।’
এই দুই নায়িকার ভেতরে যেমন স্নায়ুযুদ্ধ বিদ্যমান তেমনি দুই হিরোর ভেতরেও প্রতিযোগিতা বেদম। তবে বিভিন্ন টকশোতে কাটাকাটি খেলা খেললেও অনন্ত আর শাকিবের ভেতরকার মূল্যায়ন প্রায় একই। তা হলো দুজনই এ সময়ের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে আলোচিত জুটি। শুধু তাই নয়, আমাদের সিনে সাংবাদিকদের ভেতরেও এই দুই জুটির ভেতরে ঘরানা তৈরি হয়ে আছে। কেউ শাকিব-অপুর কোনো নতুন খবর বা কোনো নতুন সাইনিং নিয়ে, কেউ অনন্ত-বর্ষা জুটি নিয়ে পত্রিকায় মাতামাতি করছে। তবে সবকিছুই চলচ্চিত্রকেই আলোকিত করে। অনেকদিন পরে হলেও চলচ্চিত্রের এই মন্দা মৌসুমকে যেকোনোভাবে ফিরিয়েছেন এই দুই জুটি। আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন এই দুই নায়িকা। ঈদের এই পূর্ণদৈর্ঘ্য দুই নায়িকাই তাই এবারের ঈদের রেসের মূল দুই দৌড়বিদ। একজন জিতবে হয়তো আরেকজন হারবে, তবে এই সুস্থ রেসে জয় হবে এ সময়ের চলচ্চিত্রের।
অপু অনেক সাহসী মেয়ে। নিজের ক্যারিয়ারের অনেক চড়াই উত্রাই একাই লড়েছেন। অন্যদিকে বর্ষার সে পথ মাড়াতে হয়নি। তবে দু’জনই পারফর্মিং যোগ্যতায় আমি সমান ভোটই দেব। আর ক্যারিয়ার ভাগ্যের ক্ষেত্রে অনেক খানিই এগিয়ে বর্ষা, যার কারণ এম এ জলিল অনন্ত।
এফ আই দীপু
অপু এক কথায় সাহসী আত্মবিশ্বাসী। দুজনই সমানে সমান পারফর্মার।
আমার কাছে অপু ভীষণ আত্মপ্রত্যয়ী। বর্ষা বড় বাজেটের নায়িকা। তবে তা অনন্তের কল্যাণে। দুজনই তুখোড় পারফর্মার। নাচেন ভালো। অভিনয়ও। অপু নিজের প্রতিকূলতাকে জয় করে টিকে থাকে। আর বর্ষাকে কোনো ঝড় পোহাতে হয় না। রিল লাইফে দুজনার এটুকুনই পার্থক্য।
নিপু বড়ুয়া
অপু বিশ্বাস সম্পর্কে অনন্ত
আমি আগেই বলেছি শাকিব খানের সাথে আমার কোনো বিরোধ নেই। বারবারই বলেছি সে চাইলেও আমার বাজেটের ছবিতে কাজ করতে পারবে না। তাই বলে আমি তাকে কটাক্ষ করি না। বরং চলচ্চিত্রের ভালো করতে হলে সবাইকে একসাথেই হাঁটতে হবে। সেই হিসেবে আমার কাছেও শাকিব-অপুর অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি ভালো লাগে। অপুকে পারফর্মার হিসেবে ভালো রিমার্কসই দেবো। কারণ আমার ভেতরে কোনো হীনম্মন্যতা কখনও কাজ করেনি, করবেও না। হয়তো এই ঈদে বা আগামী ঈদগুলোতেও আমাদের এই দুই জুটির একসাথে ছবি রিলিজ হবে। তবে যাই হোক, দর্শকরা হলে এসে ছবি দেখুন। এটাই প্রত্যাশা।
বর্ষা সম্পর্কে শাকিব খান
আমি তো মনে করি চলচ্চিত্রের ক্রান্তিকালে অনন্তের মতো একজন হিরো বা পরিচালক খুবই প্রয়োজন ছিল। সেই হিসেবে অনন্ত-বর্ষা জুটি আমার কাছে পারফেক্ট মনে হয়। মনে হয়, ওরা আলাদাভাবে কোথাও কাজ করলে তা বেমানান লাগবে। আর আসল কথা তারা দুজন স্বামী-স্ত্রী হলেও তাদের এই জুটিতে রায় দিয়েছে দর্শক। তাই তারা ভীষণ লাকি। কারণ এর আগে স্বামী-স্ত্রী সফল জুটি খুব কমই হয়েছে। বর্ষার জন্য শুভ কামনা।