জগন্নাথপুরে লন্ডনী মহিলাকে কুপিয়ে হত্যা

জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের পাটলী ফরিদপুর গ্রামে শুক্রবার দুপুর ১টায় ভাসুরের পুত্রদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন লন্ডন প্রবাসী রেহেনা বেগম (৪০)। একই সময়ে ১৩ বছরের কিশোরী সুনিয়া বেগম খালার প্রাণ বাঁচাতে ছুটে আসলে তাকেও সারা শরীরে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখমসহ বাম হাতের কবজি কেটে ফেলেছে খুনীরা। এ সময় উভয়ের চিত্কারে নিহত রেহেনা বেগমের আপন বোন রাবিয়া বেগম (৪৮) ও রুপিয়া বেগম (৪৫) ছুটে এলে তাদেরকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। সিটিজেন কন্যাকে বিয়ে করতে না পেরে দীর্ঘ বিরোধের জের ধরে দিন দুপুরে লন্ডন প্রবাসী আপন চাচী রেহেনা বেগমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খবর পেয়ে ওসি মাকছুদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের অভিযান চালিয়েছে। খুনীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম সুনিয়া বেগম, রাবিয়া বেগম ও রুপিয়া বেগমকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩ জনই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এলাকাবাসী সূত্র জানায়, পাটলী ফরিদপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী আব্দুল কাদিরের স্ত্রী লন্ডন প্রবাসী রেহেনা বেগমের সাথে আপন ভাসুর আশিক মিয়ার পুত্র শামীম আহমদের সিটিজেন কন্যার বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত্ বিরোধ চলছিল। গত ৭ রমজানে নিহত রেহেনা বেগম স্বামী সন্তানসহ লন্ডন থেকে দেশে আসেন। শামীম ও তার ভাইয়েরা তাদের চাচী রেহেনা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা নেয়। ২/৩ দিন পূর্বে নিহত রেহেনা বেগম একই পাড়ার বাসিন্দা আপন বোন রাবিয়া বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সুযোগে গতকাল শুক্রবার হত্যাকারী শামীম ও তার ভাই সুহেল, রুহেল, সেলিমকে নিয়ে পুকুর পাড়ে তাদের চাচী রেহেনা বেগমকে একা পেয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পুলিশ নিহত রেহেনা বেগমের লাশ ও হত্যাকাণ্ডের সাথে ব্যবহূত ধারালো দাটি উদ্ধার করেছে।