বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বেশ কয়টি সীমান্ত হাট রয়েছে। দুই দেশের সীমান্তে বসবাসকারী নাগরিকরা সাধারণত এই হাটের ক্রেতা-বিক্রেতা। তবে দূরদূরান্তের ক্রেতাও সীমান্ত হাটে ছুটে আসেন। আমার জন্মজেলা কুমিল্লার অংশ ছিল কসবা, যা বর্তমানে কুমিল্লা থেকে বেরিয়ে আলাদা জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি উপজেলা। এই কসবা অঞ্চল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত ছুঁয়ে আছে। কসবা উপজেলা পরিষদ থেকে ৩০ টাকার প্রবেশ পাস কিনে একদিন ঢুকেছিলাম সীমান্ত হাটে। পূর্বপাশে ভারতীয় বাজারঘর, পশ্চিমাংশে বাংলাদেশি বাজারঘর। পাকাভিট শক্ত মজবুত লোহার এঙ্গেলে টিনের ছাউনি, খোলামেলা দেয়ালহীন। শুধুই লোহার খুঁটির ঘর। হাটের চারদিক লোহার জালে আবৃত। পূর্ব-দক্ষিণ পাশের গেইটে বিএসএফ দাঁড়িয়ে। ও গেইট দিয়ে ভারতীয়রা ঢোকে ও বেরোয়। পশ্চিম-দক্ষিণ পাশের গেইটে বিজিবি দাঁড়িয়ে। এই গেইট দিয়ে বাংলাদেশিরা ঢোকে ও বেরোয়। হাটের ভিতর দুই দেশিরাই স্বতন্ত্র। এক কথায় ‘খাঁচা বাজার’ বলা যেতে পারে। খাঁচার ভেতর দুই দেশীয়দের মিলনমেলা।
প্রতি রবিবারে বসে এই হাট—সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত। এই হাটে প্রবেশে স্থানীয় ভারতীয়দের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ যেমন ছিল, কেনাকাটাও করেছি কোনোরকম ট্যাক্স ভ্যাট ছাড়াই। শুধুই রুপির মূল্যনির্ধারিত বিনিময় টাকা দিয়ে। ভীষণ ভালো লেগেছে এই সীমান্ত হাট। তবে একটি সমস্যাও আছে। সীমান্ত হাটের প্রবেশ পাস শুধুই হাটের দিন সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে বিক্রি হয়। দূরদূরান্তের শৌখিন ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে সীমান্ত হাটের প্রবেশপথে পাস সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা গেলে ভালো হয়। আমি মনে করি, দুই দেশের জেলা পর্যায়ের কর্তারা এমন একটা সংরক্ষিত পাসের সরবরাহে আন্তরিক সম্মতি ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন ।
মির্জা আবু হেনা কায়সার টিপু
বাড়ি ১৪, সড়ক ০২, সেক্টর ০৬, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০