কুষ্টিয়ায় মনোনয়ন প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ দেন-দরবার শুরু
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৩, ২৩:৩৫
কুষ্টিয়া জেলায় আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও দলের টিকেট পেতে দৌড়ঝাঁপ ও দেনদরবারে তত্পর হয়ে উঠেছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে গ্রুপিং রয়েছে। কোন কোন সম্ভাব্য প্রার্থী ইতিমধ্যেই মনোনয়ন যুদ্ধে জিততে জোরালোভাবে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন।
কুষ্টিয়া জেলায় ৪টি সংসদীয় আসন রয়েছে। কুষ্টিয়া- ১ আসনে (দৌলতপুর উপজেলা ) ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে গ্রুপিং তীব্র হয়েছে। উপজেলা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহ্বায়ক করা হয়েছে সরোয়ার জাহান বাদশাকে। বর্তমান সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আফাজ উদ্দিন ও সরোয়ার জাহান বাদশা দু’জনই মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ মোল্লা বাচ্চু ও আলতাফ হোসেনের মধ্যে তীব্র গ্রুপিং চলছে। গত নির্বাচনে আলতাফ হোসেন দলীয় মনোনয়ন পান।
কুষ্টিয়া ২ আসনে (মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা) মহাজোট থেকে জাসদ সভাপতি তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মনোনয়ন পেয়ে গত সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন। এবারও তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। তিনি মাঝে মাঝে এলাকায় আসছেন। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গণসংযোগ করছেন। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী ও ঢাকা মহানগর মহিলা দল নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন। তারা সকলেই তত্পর হয়ে উঠেছেন। নানাভাবে কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। ১৮ দলীয় জোটের শরীক জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াহেদও মনোনয়ন চাইতে পারেন।
কুষ্টিয়া - ৩ আসনে (সদর উপজেলা) আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি ইদানিং কুষ্টিয়া সফর বাড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলি বলেন, দলের হাই কমান্ড থেকে গ্রীন সিগনাল পেলে ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম মাঠে নামবেন। দলীয় কর্মীদের সাথে তিনি যোগাযোগ রাখেন। কুষ্টিয়া পৌর মেয়র আনোয়ার আলিও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, হানিফ কুষ্টিয়া -১ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন। এ আসনে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে মাঠে আছেন সোহরাব উদ্দিন। তিনি প্রচারণা শুরু করেছেন।
কুষ্টিয়া - ৪ আসনে (কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা) আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সুলতানা তরুন, খোকসা উপজেলা চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান ও আব্দুর রউফ। সুলতানা তরুন ও সদর খানের মধ্যে সম্পর্ক খুবই খারাপ। দলের তৃণমূল কর্মীরাও দু’ শিবিরে বিভক্ত। দু’জনই মাঠ পর্যায়ে তত্পর রয়েছেন। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন আনসার আলি প্রামাণিক ও খোকসা পৌর মেয়র আনোয়ার আহমেদ তাতারি। জামায়াতের মাওলানা শামসুদ্দিনও মনোনয়ন চাইতে পারেন ১৮ দলীয় জোটের কাছে।
এদিকে, জাতীয় পার্টি (এ) থেকে কুষ্টিয়া - ১ আসন থেকে কোরবান আলি, কুষ্টিয়া - ২ আসন থেকে আহসান হাবিব লিংকন, কুষ্টিয়া - ৩ আসন থেকে মো. বদরুদ্দোজা গামা ও কুষ্টিয়া - ৪ আসন থেকে মিয়া মহম্মদ রেজাউল হক নির্বাচন করবেন। দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিয়া মহম্মদ রেজাউল হক বলেন, অনেক আগেই তাদের মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলি বলেন, এ জেলায় আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়নি। সরকারের সফলতাগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা করে সংগঠনের কর্মীদের চাঙ্গা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি দাবি করেন আগামী নির্বাচনে তারা জয়ী হবেন।
বিএনপি’র জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা হচ্ছে। বড় দলে গ্রুপিং থাকতে পারে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে নেতাকর্মীরা তার জন্য কাজ করবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন হলে ৪টি আসনে তারা জয়ী হবেন বলে তিনি দাবি করেন।