কুড়িল ফ্লাইওভার উন্মুক্ত হচ্ছে আজ

রাজধানীর দ্বিতীয় প্রবেশ দ্বার হিসেবে পরিচিত কুড়িল ফ্লাইওভার আজ উন্মুক্ত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় এই ফ্লাইওভারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। একুশ শতকের আধুনিক শহর পূর্বাচলকে ঢাকা মহানগরীর সাথে সংযুক্তকারী যোজক হচ্ছে এই কুড়িল ফ্লাইওভার যা এয়ারপোর্ট অঞ্চলের সকল দিকের একমুখী দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ সড়ক হিসেবে কাজ করবে এই ফ্লাইওভার। এই ফ্লাইওভারটি রাজধানীর এয়ারপোর্ট রোড ও প্রগতি সরণি সংযোগস্থলে নির্মিত হয়েছে। ফ্লাইওভার দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে পূর্বাচল নতুন শহর হতে প্রগতি সরণি হয়ে রামপুরা, বনানী, নিকুঞ্জ ও উত্তরা আবাসিক এলাকাসহ ৫টি গন্তব্যে একমুখী যান চলাচল করতে পারবে। এই ফ্লাইওভার রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ফলে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। রাজউকের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত কুড়িল ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ ২০১০ সালের ২ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। সর্বশেষ ৪টি লুপের মধ্যে ৩নং লুপের ফিনিশিং কাজ, ২টি ফুট ওভারব্রিজের ফিনিশিং কাজ, লেকের ফিনিশিং কাজ ও কিছু বিউটিফিকেশনের কাজ চলমান রয়েছে। ৩০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজউকের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। ৩০৬ কোটি টাকা প্রকল্পব্যয় ধরা হলেও ৩ কোটি টাকা সরকারের সাশ্রয় হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণ বাবদ ব্যয় ১৬৯ কোটি টাকা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় ৭৫ কোটি টাকা, ইউটিলিটি রিলোকেশন বাবদ ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জন্য মোট ১২ দশমিক ৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রেলওয়ের ১০ দশমিক ১০ একর ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির পরিমাণ ২ দশমিক ৭২ একর। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ইত্তেফাককে বলেন, উন্নয়নের মাইলফলক কুড়িল ফ্লাইওভার রাজধানীর যানজট নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা বলেন, গত সাড়ে চার বছরে রাজউক যে সকল উন্নয়নমূলক কাজ করেছে বিগত ২৫ বছরেও তা সম্ভব হয়নি। তিলোত্তমা ঢাকা মহানগরী এতদিন কথার কথা ছিলো। বর্তমান সরকার হাতিরঝিল, কুড়িল ফ্লাইওভার, পূর্বাচলসহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তা বাস্তবে রূপদান করছে।