ভিন্নপেশা
শিল্পীর স্বপ্ন
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫৫
লাল নীল সাদা কালো সোনালী হরেক রঙের স্বপ্ন আর সুখের খোঁজে সেই ১৯৯৮ সালে শিল্পী ঢাকায় পাড়ি জমান একটা নতুন জীবনের খোঁজে। জামালপুর থেকে আসেন তিনি। সেখান থেকে আজ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধের সব চেহারা দেখা হয়ে গেছে তার। তিনি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে চুড়ি বিক্রি করেন। চুড়ির রঙের সাথে স্বপ্নের রঙ মিলে যায়। প্রায়শই না খেয়ে থাকতে হয় ব্যবসা ভাল না থাকার কারণে। প্রতিকূল আবহাওয়া পারিপার্শ্বিক মানুষজনের সব বাধা উপেক্ষা করে সে তার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখেন। দুই ছেলে এক মেয়ে আর স্বামী নিয়ে তার সংসার। স্বামী প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি করেন নানা জায়গা ঘুরে ঘুরে। শিল্পীর আয় অন্যান্য হতদরিদ্রের মত না হলেও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া আর তাদের বড় মানুষ বানানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। তাই বেশ হিসেবি হতে হয় শিল্পীকে। পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারিতে এসব উত্সবকে কেন্দ্র করে দিনে ১৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা আয় হলেও সাধারণ সময় আয় দুই তিনশ’র বেশি হয় না। মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। মেয়েকে নিয়ে তার স্বপ্ন আকাশছোঁয়া। নিজের পেশার ওপর গর্ব আছে অনেক। তবুও শিল্পী চান তার মেয়ে শিক্ষিত হয়ে বড় কিছু করুক।
মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণীরাই তার মূল ক্রেতা। ভালোবাসা দিবস, পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি এসব উত্সবে তো বটেই সান্ধ্যকালীন অবকাশে কিংবা প্রেমময় উপহারে শিল্পী দিয়ে যায় তাদের অফুরন্ত ভাণ্ডার, চুড়ির ভাণ্ডার। বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির দিক থেকে খেয়াল করলে চুড়ির প্রচলন সেই আদিকাল থেকে। আর তার ধারক ও বাহক হিসেবে এখনকার তরুণীরা শিল্পীর মতো চুড়ির ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই তাদের পছন্দমতো চুড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিশাত তাসনীম বলেন, আমি প্রায়ই এখান থেকে চুড়ি কিনি, শুধু শখের বশেই কেনা হলেও এটা এখন আমার ও আমার বান্ধবীদের নেশার মতো হয়ে গেছে, প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও শিল্পী খালার কাছে আসা হয়। এভাবেই স্বপ্ন ফেরি করছেন শিল্পী। সাথে নিজের স্বপ্নগুলোকে রঙ দিচ্ছেন নতুন এক জীবনের আশায়।
ছবি:ইকরামুল হক ইভান