ঈদে ই-কমার্স
ঘরে বসেই কেনাকাটা-উপার্জন
মীর রায়হান মাসুদ এবং সারারা মুশাররাত তূর্ণা
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫৬
বর্তমান যান্ত্রিক কর্মব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র আজ প্রযুক্তিনির্ভর। আর এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই নারীরাও। নিত্য-নতুন পন্থায় এই প্রযুক্তির কল্যাণেই তারা তৈরি করে নিচ্ছে তাদের নিজস্ব অবস্থান। প্রথাগত ব্যবসার পাশাপাশি তাই আজ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন ফ্যাশন হাউসগুলো। অনলাইন ফ্যাশন হাউস, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধারণাটি তুলনামূলক নতুন হলেও বর্তমানে ফেসবুক, টুইটারের মাধ্যমে মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা বেড়ে চলেছে। সময়ের অভাব, পছন্দসই ডিজাইনের সামগ্রী না পাওয়া কিংবা যানজটের ভোগান্তির কারণে শপিং মলে গিয়ে কেনাকাটায় অনাগ্রহী ক্রেতাদের বিভিন্ন সুবিধার কথা চিন্তা করে অনলাইনের মাধ্যমেই এগিয়ে যাচ্ছে এসব ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড। ফেসবুকের পেজগুলোর মাধ্যমে এসব অনলাইন শপিং স্টোরগুলোর প্রচার ও প্রসার বেড়ে চলেছে। পোশাক, প্রসাধনী, জুতো, ব্যাগ থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসই বিক্রি হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমেই। বেশ কয়েকটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের সাথে যোগাযোগ করলে দেখা যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে উত্তরোত্তর উন্নতি করে যাচ্ছেন নারীরা। ঘরে বসেই তারা অনলাইনে তাদের বিভিন্ন পণ্যের ছবি ও বর্ণনা তুলে ধরছেন যা দেখে আগ্রহী ক্রেতারা খুব সহজেই পছন্দসই সামগ্রী বেছে নিতে পারছেন। আর ফ্যাশন সচেতন তরুণীদের দৃষ্টি আকর্ষণই মূলত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রথম লক্ষ্য। আবার বেশিরভাগ ফ্যাশন হাউস চালানোর ক্ষেত্রেও এসব কম বয়সী মেয়েদের উপস্থিতিই বেশি। এক্ষেত্রে ব্লুম ফ্যাশনের কর্ণধার নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিম তামান্না সূচী বলেন, ‘প্রথাগত ডিজাইনের তৈরি পোশাককে পাশ কাটিয়ে নিজস্ব ডিজাইনের পোশাক যখন সহপাঠী কিংবা আত্মীয়দের নজর কাড়ে সেই সময়েই প্রথম এ ধরনের কার্যক্রমে আগ্রহী হই।’ এ ধরনের ব্যবসায় জড়িত থেকে নারীরা ঘরে বসেই অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন তেমনি কর্ণধাররা বিভিন্ন বয়সী নারীদের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন যাতে করে দেশে নারী সমাজের জন্য নতুন ধরনের কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হচ্ছে। শপিং মলের জনপ্রিয় দোকানগুলোর সাথে একরকম পাল্লা দিয়েই যেন এগিয়ে যেতে চাইছে এই অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। ‘ফ্যাশন হ্যাব’ নামক আর একটি ফ্যাশন হাউসের উদ্যোক্তা রুবাবা মাহমুদ জানালেন- এ বছরের শুরুর দিকে ব্যবসা শুরু করলেও ক্রমশ তাদের ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। মেলার আয়োজনের মাধ্যমেও তারা ক্রেতাদের কাছে তাদের অনলাইনে উপস্থিতির কথা তুলে ধরছেন। ভবিষ্যতে এ ব্যবসায় মহিলা কর্মচারী নিয়োগসহ তার সুদূরপ্রসারী কিছু পরিকল্পনার কথাও তার কাছ থেকে জানা যায়। ক্রেতাদের সুবিধার্থে হোম ডেলিভারিরও ব্যবস্থা রয়েছে। ‘বেহুলা শাড়িঘর’ জানায়- বাংলাদেশে এ ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নতুন বলে প্রথমদিকে প্রচার বা ‘ব্র্যান্ডিং’টাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। লাভের অঙ্ক খুব একটা বড় না হলেও এই প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান তাদের ভবিষ্যত্ সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
প্রতিটি উত্সবকে কেন্দ্র করে এসব ফ্যাশন হাউসগুলো তাদের রকমারী পণ্যের বাহার নিয়ে হাজির হচ্ছেন ক্রেতাদের সামনে। এই রমজানেও তাই তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। ড্রেস কোড, বিটিজি ফ্যাশন, ক্র্যাফট বিডি, লিসা বুটিকস, আযওয়া ফ্যাশন, প্রতিচ্ছবি, নিবাসসহ বিভিন্ন অনলাইন শপের খোঁজ পাওয়া যাবে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে। আর ঘরে বসেই হয়ত আপনি পেয়ে যেতে পারেন আপনার এবারের ঈদের মনের মত পোশাক, প্রসাধনী কিংবা ঘর সাজানোর বাহারী সামগ্রী।