জমে উঠেছে ঈদ বাজার
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫৬
ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলায় জেলায় জমে উঠেছে ঈদ বাজার। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি চলছে বেচাকেনার ধুম। অভিজাত বিপণী বিতান থেকে ফুটপাত পর্যন্ত প্রতিটি দোকানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে উপচেপড়া ভিড়। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো রিপোর্ট।
ঠাকুরগাঁও
শেষ মুহূর্তে ঠাকুরগাঁওয়ে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ভিড় বাড়ছে দোকানে। গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। দম ফেলার ফুরসত নেই দোকানিদের। এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁওয়ে পাকিস্তানী থ্রিপিচের আমদানি প্রচুর, বিক্রিও বেশি। দোকানীরা জানান, এবার ভারতের তৈরি পোশাকের চাহিদাও নেই, আমদানিও কম।
প্রথম দিকে থানকাপড় ও এখন বাচ্চাদের পোশাক, থ্রিপিচের দোকান ও রেডিমেড কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। শহরের নর্থ সার্কুলার রোড, হাওলাদার সুপার মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, টাউন প্লাজা, শাহজালাল শপিং মল, মসজিদ মার্কেট, মাসুদ হাইটস, আইআরএস টাওয়ার, নূরজাহান প্লাজা, আফতাবউদ্দিন চৌধুরী মার্কেট, বাসস্ট্যান্ড মার্কেট, ইয়াকুব মার্কেট, জব্বার মার্কেট, চেয়ারম্যান মার্কেটসহ সব মার্কেটে জমে উঠেছে।
ঝিলিক নামে থ্রিপিচ বিক্রি হচ্ছে বেশি। শাড়ি ও থ্রিপিচের দোকানে ভিড় বেশি কিশোরী, তরুণী ও মহিলাদের। সবাই খুঁজছে নতুন ডিজাইন ও বৈচিত্র্যময় রঙ।
নওগাঁ
নওগাঁয় শাড়ির দোকান, পাঞ্জাবীর দোকান, ছিট কাপড়, রেডিমেড পোশাক, দর্জিবাড়ি, জুতোর দোকান, প্রসাধনী সবখানেই ঈদ বাজার জমে উঠেছে। একটু হাতে সময় নিয়েই এবার ঈদ বাজারে কেনাকাটা শুরু করেছে ক্রেতারা। ১০ রমজানের পর থেকেই শহরের ছোট-বড় বিপণী বিতানগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। তবে ফুটপাত ও হকার্স মার্কেটগুলোতে এখনো ক্রেতাদের আগমন তেমন নেই।
তালা (সাতক্ষীরা)
তালা ও বাণিজ্য কেন্দ্র পাটকেলঘাটার বিভিন্ন দোকানগুলোয় ধীরে ধীরে জমে উঠছে কেনাকাটা। সব শ্রেণীর ক্রেতার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে দোকানগুলোতে। কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিন্ন সংগ্রহের কারণে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েই চলছে। অনেকাংশে দেশীয় শাড়ির জৌলুস ফিরে এসেছে। এবারের ঈদে উচ্চ মধ্যবিত্ত মহিলাদের বিশেষ নজর কেড়েছে তোরা শাড়ি। ইন্দো-ওয়েস্টার্ন কনসেপ্টের এই শাড়ি প্রতি পিচ ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ১২-১৩ বছরের শিশুদের জন্যেও আকর্ষণীয় সব পোশাক শোভা পাচ্ছে দোকানে। ছেলেদের জন্য রয়েছে বাহারি রঙের পাঞ্জাবী, শার্ট, প্যান্ট। তবে দাম চড়া হওয়ায় ক্রেতা সমাগম সত্ত্বেও প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না।
বানারীপাড়া (বরিশাল)
এবারের ঈদের কেনাকাটায় মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষদেরও সাড়া দিতে দেখা যাচ্ছে। অভিজাত মার্কেট ছাড়াও বানারীপাড়ার মধুচাক, থানার সামনে, বন্দর বাজারের বিভিন্ন রাস্তার মোড়সহ বিভিন্ন ফুটপাতে অল্প আয়ের মানুষেরা ভিড় জমাচ্ছেন। তারা পবিত্র ঈদ উদযাপন করার জন্য যার যার পছন্দ অনুযায়ী জিনিসপত্র কিনছেন। ধনী ও মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি পেছনে নেই অল্প আয়ের মানুষও। ফুটপাতের এসব দোকানে মিলছে ছেলেদের পাঞ্জাবী, শার্ট, প্যান্ট, বেল্ট, লুঙ্গি, টুপি, সুগন্ধী থেকে শুরু করে নারী ও শিশুদের পাঞ্জাবী, থ্রিপিচ, ফ্রক, স্কার্ট, প্যান্ট ও গেঞ্জিসহ সব পোশাকই। দাম অপেক্ষাকৃত একটু কম হওয়ায় এখানে নিম্ন আয়ের লোকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর)
বেশ কয়েকদিন ভাণ্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের কেনাকাটা। তবে এবারে তরুণীদের আকর্ষণীয় থ্রিপিচ ইন্ডিয়ান মিরা, নওশিন, রিমঝিম, সুইচফিল, ঝিলিক, চোরাবালী, মাসুকা, হানিবানিসহ হরেক রকমের নামের দিকে ঝোঁক বেশি। দাম প্রকারভেদে ১৫শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৯/১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। মহিলাদের জামদানী, জয়েন্ট কাটিংনেট, সুতী, টাঙ্গাইল, জরজেটসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়। মূল্য প্রকারভেদে ৫শ’ থেকে সর্বোচ্চ ১২/১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এদিকে ছেলেদের চাইনিজ প্যান্ট, শার্ট, আড়ংয়ের পাঞ্জাবী উল্লেখযোগ্য। তবুও আরও শেষের দিকে জমবে ঈদ বাজার এমনটাই ধারণা দোকানীদের।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাহারি নমুনার শাড়ি, সালোয়ার-কামিজসহ ছেলে-মেয়েদের পোশাক কেনাকাটায় বিপণী বিতানে জমে উঠেছে ভিড়। উপজেলার শমশেরনগর ও ভানুগাছ বাজারের বিভিন্ন কাপড় দোকানে মহিলা ও শিশুদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও দাম বেশি থাকায় নিম্নবিত্তরা ফুটপাত থেকে পোশাক ক্রয় করে হলেও চাহিদা মেটাচ্ছেন। বিপণী বিতানের পাশাপাশি জুতার দোকানেও মধ্যবিত্ত প্রবাসী পরিবারের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভারতীয় বাংলা হিন্দি ধারাবাহিকের বিভিন্ন নামে ও বাংলা ছবির নামে শাড়ির চাহিদা রয়েছে বেশি।
এদিকে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী পরিবারের মহিলা ও শিশুদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। তবে বাজারের ভেতরের গলির কাপড়ের দোকানগুলোতে স্বল্প আয়ের মানুষের ভিড় বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)
শাহজাদপুরে ঈদের কেনাকাটাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে উত্সবের আমেজ। পরিবার পরিজনের জন্য ঈদের নতুন জামা-কাপড়, জুতা স্যান্ডেল ও কসমেটিকস কিনতে ঈদের বাজারে ছুটছেন সব শ্রেণী পেশার মানুষ। সাধ আর সাধ্যের সঙ্গে মিল রেখে আপনজনদের জন্য কেনাকাটা করছেন এসব মানুষ। তবে মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বল্প আয়ের মানুষেরা তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। শাহজাদপুরে উচ্চবিত্তের কেনাকাটার জন্য যেমন রয়েছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক শপিং মল তেমনি সাধারণ মানুষের কেনাকাটার জন্য রয়েছে হকার্স মার্কেট। এবারের ঈদ উপলক্ষে বাজারে নতুন এসেছে লেহেঙ্গা, ঝিলিক, জিপসী, লেহেঙ্গা শাড়ি এবং স্যান্ডেলের মধ্যে এসেছে পোড়ামণ, প্রেম প্রেম পাগলামী, মালেকা সুন্দরী, ঝিলিক, মনপুরা, রূপসী বাংলাসহ হরেক রকমের ও ডিজাইনের জুতা স্যান্ডেল। এসব পোশাক ও স্যান্ডেল জুতার নামকরণ করা হয়েছে সিনেমা ও টিভি সিরিয়ালের অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের ব্যবহূত পোশাকের নাম অনুসারে।