ওরা মেহেদী পরায়
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫৭
শখের বসে মেহেদী পরানো
— রুসমি মাহমুদ
ছেলেবেলা থেকেই রুসমি নিজের মেহেদী পরতে ভাল লাগতো। এখন নিজের চেয়ে অন্যের হাতে আলপনা করতেই তার বেশি আনন্দ। একে ওকে মেহেদী পরাতে পরাতে এক সময় রুসমি লক্ষ্য করেন একাজে তার বেশ কদর বাড়ছে। বিশেষ কোন উত্সব হলে বন্ধু-বান্ধব নিকট আত্মীয়রা তার কাজে আসে। নিছক সখের বসেই এবছর মমতাজ মেহেদী উত্সবে অংশ নেন তিনি। আড়াইশ’ জনের মধ্যে প্রথম দশে আসতে পেরে তার খুব ভাল লাগে। আর এখনই তিনি জানতে পারেন মেহেদী পরানোকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন অনেকে। তাই দেখে রুসমি নিজেই একে পেশা হিসেবে নেয়ার কথা ভাবেন। আগারগাঁও-এ খোলেন মেহেদী আর্ট ক্যানভাস নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্বামী থাকেন নিউজিল্যান্ডে। সেখানেও যাওয়ার পরিকল্পনা আছে তার। তবে যতদিন আছেন এই মেহেদী পরানোর কাজটাকে তিনি গুরুত্ব দিয়েই করবেন।
অষ্টম শ্রেণি থেকে মেহেদী পরাই
— তাসনুভা মেহজাবিন
মেহেদী নিয়ে কোন প্রতিষ্ঠান করার কথা ভাবছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শিক্ষার্থী তাসনুভা মেহজাবিন। মেহেদী পরাতে ভাললাগে এই যা। প্রতিযোগিতায় খুব একটা অংশ নেয়া হয় না তার। তবে নিজের সাথে চলে প্রতিযোগিতা। একটি হাতে আলপনা করার পর যখন অন্য হাত ধরেন, তখন নিজের মনে হয় এর শৈল্পীক দিক যেন আগেরটাকে ছাড়িয়ে যায়। ময়মনসিংহের মেয়ে তাসনুভা থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে। বন্ধু-বান্ধবতো আসেই আরও এই ঐ হল থেকে মেয়েরা আসে তার কাছে হাত রাঙাতে। এটা উপভোগও করেন তিনি। পড়াশুনার ব্যস্ততা না থাকলে তিনি আগুন্তুকদের হাতে আঁকতে বসেন। আর এই এভাবেই মেহেদী নিয়ে আঁকাঝোকা করতে চান চান পেশাগত জীবনেও। তিনি বলেন, অনেক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। এই প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশগ্রহণ করে শিখেছি অনেক কিছু।
ছেলেবেলা থেকে তার মেহেদী পরার শখ
— শামিমা ইসলাম লাবণ্য
শামীমা বিডিআর মুন্সি আব্দুর রউফ স্কুল এন্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছেলেবেলা থেকে তার মেহেদী পরার শখ। মেহেদী বিভিন্ন উত্সবে তার কাছে অন্যরকম একটা আবেদন রাখে। নিজের আর অন্যদের হাতে মেহেদী পরাতে পরাতে কখন যে এই কাজে পারদর্শী হলেন নিজেই বুঝতেও পারেননি। সবাই যখন বলে লাবণ্য ভাল মেহেদী পরায় তখন আত্মবিশ্বাস এত বেড়ে যায় যে মেহেদী উত্সবে অংশগ্রহণ করেন। লাবণ্যের জন্য অংশগ্রহণই শেষ কথা নয়, তিনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর মুকুটও মাথায় পরেন। লাবণ্য বলেন, মেহেদী পরানোর প্রতিযোগী তায় যখন প্রথম দ্বিতীয় হই তখন ভাল লাগে। কারণ অনেকেই তাকে নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে, মেহেদী লাগাতে আসে। মেহেদী লাগানোকে পেশা হিসেবে নেয়ার কথা না ভাবলেও লাবণ্য এমন প্রতিযোগিতায় আরও অংশগ্রহণ করতে চান।