ওদের ঈদ-পোশাক

গৃহকর্মীরাও আমাদের পরিবারের সদস্য — তাসমিমা হোসেন সম্পাদক, অনন্যা বিষয়টি আমাকে নতুনভাবে ভাবিয়ে তুলল। সত্যিই আমাদের ঈদ আনন্দের নেপথ্যে থেকে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তারা গৃহকর্মী। আমার বাড়িতে যারা আছে তাদের আমি পরিবারের সদস্য মনে করি। তাই ওদের টাকা দিয়ে দেই, ওরা পছন্দ করে পোশাক কিনে নেয়। কিন্তু সত্যিই ঈদ ফ্যাশনে ওদেরও অংশগ্রহণ এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। নিঃসন্দেহে বাড়িয়ে তুলবে ঈদের তাত্পর্য, ঈদের প্রকৃত ধর্মীয় অনুভূতির সৌন্দর্য। এজন্য দরকার মানসিকতার পরিবর্তন, মানবতা ও উদারতার চর্চা, সামর্থ্য অনুযায়ী জাকাতের যে প্রচলন সেইক্ষেত্রে বলব নিম্নমানের প্রিন্ট শাড়ি, লুঙ্গি বিতরণের চাইতে দশটি পরিবারকে দাঁড় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতা করা যেতে পারে। আর কাপড় বিতরণেও মানগত দিকটা দেখা দরকার। ঈদের খুশি সত্যিই সম্পূর্ণ হয় যদি সবটুকু আনন্দ আমরা ভাগ করে নেই যাদের কাছে এই দু’টি ঈদের দিনের উত্সবমুখরতাই মুখ্য, এ দু’টি দিনই যাদের কাছে খুশির বার্তা বয়ে আনে, ওদের পাশে আমরা যেন সম্মানের সঙ্গে দাঁড়াই। ওরা আমাদের দাস নয় — শম্পা রেজা অভিনেত্রী, সঙ্গীত শিল্পী গৃহকর্মীরা পেশাজীবী জনগোষ্ঠী, যারা শ্রমের বিনিময়ে আমাদের জীবনকে সাচ্ছন্দ্যময় সহযোগিতা করে থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে ওদেরকে সুখী করবার বেলায় আমাদের হিসেব-নিকেশটা অনেকটা অসম্মানজনক, অমানবতার পর্যায়ে পড়ে। আমার মনে হয় রুচি ও প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলোর জীবনে বাত্সরিক এই দু’টি ঈদের দিনের পোশাক ও আনুষঙ্গিক বিষয়টি মাথায় রেখে একটি বড় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হতে পারে। আমরা জানি যাদের জীবন দরিদ্রতা ও কঠোর শ্রমে নিযুক্ত যাদের মলিন জীবনে একটু বেশি রঙই প্রয়োজন। তাই ওদের শখ-আহলাদকে মূল্যায়ন করে আমরা যদি ওদের ঈদের কাপড় ও ফ্যাশনকে সমৃদ্ধ করি তবে আমরা নিজেরাও নিজেদের ঈদটাকে সত্যিকারভাবেই রাঙিয়ে তুলতে পারি। এজন্য প্রয়োজন একটি মানসিত বিপ্লবের ক্ষেত্র তৈরি করা। একজন কাজের মেয়ে বা গার্মেন্টসকর্মী আমাদের দাস নয়। সহযোগী বা সহকর্মী। এভাবে যদি আমরা ভাবতে শুরু করি তবে আমরা যেন দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথাকে ভেঙে নিজেদেরই মুক্তি দিতে পারি। রাজেশ্বরী প্রিয়রঞ্জিনী