আবু তোরাব, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত দোহাজারী শঙ্খ নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে শত শত ট্রাক ভর্তি করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এখানে বালু উত্তোলন করার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানছে না কেউ। একটি প্রভাবশালী মহল রাত-দিন নদীর বালু উত্তোলনের পাশাপাশি পাড়ের মাটিও কেটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্ষা শুরুর আগে এ বেপরোয়া বালু বন্ধ করা না হলে বেড়িবাঁধ ধ্বংস হয়ে জীবন ও সম্পদের মারাত্মক ক্ষয়-ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোহাজারী শঙ্খের ব্রিজের পশ্চিম পাশে শঙ্খ নদীর বুকে জেগে উঠা চরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা একাধিক উন্নয়ন কাজে সরবরাহের নাম করে এক্সকাভেটর লাগিয়ে দিন-রাত ট্রাক ভর্তি করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বেপরোয়া বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পানিপ্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়ে বর্ষা মৌসুমে নদীর গতিপথ বদলানোর পাশাপাশি বেড়িবাঁধ ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
দোহাজারীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ নোমান বেগ বলেন, বর্ষায় শঙ্খ নদীর ভাঙনে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিটে বাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। সরকারের সুদৃষ্টি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রচষ্টায় কোটি কোটি টাকার বেড়িবাঁধ দেওয়ার ফলে শঙ্খের তীর মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও এখন ভূমিদস্যুদের কারণে সরকারের উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। শঙ্খ নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে একটি মহল কালিয়াশ, বাজালিয়া, দোহাজারী চাগাচর, আমিলাইশসহ বেশ কয়েটি স্থানে ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বেড়িবাঁধ ধসে পড়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভেস্তে যেতে পারে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিবেদিতা চাকমা বলেন, আমরা জানতাম না এভাবে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ ধ্বংসের আশঙ্কা তৈরি হবে এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।