যশোর বোর্ডে পাসের হার না কমলেও কমেছে জিপিএ-৫

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৬৭ দশমিক ৪৯। গতবার এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৮৭ ভাগ। এ বছর এ বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৭৪০ জন। গতবছর এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২২৯। শনিবার প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, যশোর বোর্ডে এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৯ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৪ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৭ হাজার ৮৬৬ জন ও ছাত্রী ৩৬ হাজার ৩৭৪ জন। পাসের হার ৬৭.৪৯ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৭৪০ শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় বহিষ্কৃত হয়েছিল ৬৬ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এই বোর্ডে ১২ হাজার ৮৩৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৩ জন। পাসের হার ৭৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৪৬ জন। মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৬৮ হাজার ৮৯১ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৪২ হাজার ৯৫২ জন। পাসের হার ৬২ ভাগ। এই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮৫ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২৮ হাজার ২৬৪ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ২১ হাজার ৯৪৫ জন। পাসের হার ৭৮ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৪০৯ জন ছাত্র-ছাত্রী। যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আবু দাউদ জানান, যশোর বোর্ডে পাসের হার অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় কিছুটা কম। কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও। মূলত সৃজনশীল পদ্ধতির সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এখনও পুরোপুরি মানিয়ে নিতে না পারায় এটি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শীর্ষে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ যশোর বোর্ডে শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে। তাদের পাসের হার শতভাগ। ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ লেঃ কর্ণেল বেনজির আহমেদ (পিএসসি, এসি) বলেন, ক্যাডেটদের পরিশ্রম, শিক্ষকদের পরিচর্যা ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা ভাল ফল করেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে খুলনার ফুলতলা মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল। তাদেরও ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ জন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ৭২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৪৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৪ জন। ৪র্থ স্থান অর্জনকারী খুলনা সরকারি গার্লস কলেজের ৫৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫২৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭১ জন। খুলনার সরকারি এমএম সিটি কলেজ ৫ম স্থানে রয়েছে। তাদের ১ হাজার ২৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ১৫০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩৭ জন। ৬ষ্ঠ স্থানে থাকা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে ১ হাজার ১৫৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১ হাজার ৫৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮৪ জন। ৭ম স্থানে থাকা খুলনা পাবলিক কলেজের ৩৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৪৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮ জন। ৮ম স্থানে আসা চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ১ হাজার ৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৩ জন। ৯ম খুলনা বিএল কলেজের ৪২৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৮৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৪ জন। ১০ম যশোর আকিজ কলেজিয়েট স্কুলের ১২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ জন। ১১তম খুলনার সরকারি পাইওনিয়ার গার্লস কলেজের ৭১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৪২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ জন। ১২তম যশোরের শার্শার ডা. আফিল উদ্দিন কলেজের ৪৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ জন। ১৩তম বাগেরহাটের সরকারি পিসি কলেজের ৭১৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জন। ১৪তম সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ৭২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৯৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৪ জন। ১৫তম খুলনার রূপসার বঙ্গবন্ধু কলেজের ৩৮২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৪৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জন। ১৬তম মাগুরার বিহারীলাল শিকদার কলেজের ৩৮৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮জন। ১৭তম খুলনা নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩০৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৮২জন উত্তীর্ণ হয়েছে, ৫৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ১৮তম যশোর সরকারি এমএম কলেজের ৪২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৩ জন। ১৯তম যশোরের বিএএফ শাহীন কলেজের ৩০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ জন এবং ২০তম হয়েছে যশোরের হামিদপুর আল হেরা কলেজ। এ কলেজের ৬১১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫৩০জন। ৪৯ জন পেয়েছে জিপিএ-৫।