৪-১-৬-৬!

ইনিংসের দ্বাদশ ওভার, নিজের চতুর্থ ও শেষ ওভারের শেষ বল। পরপর দুটো সামান্য বাঁক নেয়া ডেলিভারি করার পর এবার সোজা করলেন বলটা। একটু লাফিয়ে ওঠা বল লেগ সাইডে খেলতে গিয়েই সর্বনাশ করলেন কেভিন ও’ব্রায়েন। অসাধারণ এক ক্যাচ লুফে নিলেন কাইরন পোলার্ড। পুরো মাঠ ফেটে পড়ল উল্লাসে। জায়গায় দাঁড়িয়ে একমুখ হাসি নিয়ে চিরায়ত ভঙ্গিতে হাত দুটো আকাশে তুলে দিলেন সাকিব আল হাসান। আর টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকারের চিত্কার শোনা গেল—অসামান্য এক মুহূর্ত! এই ছোটখাটো মানুষটা এই ব্রিজটাউনকেই ইতিহাসে নিয়ে গেলেন! হ্যা, ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভাল স্টেডিয়ামকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ সময় ভোর রাতে আরেকবার ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেললেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগে স্বাগতিক বারবাডোজ ট্রাইডেন্টসকে টানা তৃতীয় ম্যাচ জেতানোর পথে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচসেরা হলেন সাকিব আল হাসান। সেই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসের দ্বিতীয় সেরা বোলিং পারফরম্যান্স করে ফেললেন। কী সেই পারফরম্যান্স? ৪ ওভার, ১ মেডেন, ৬ রান এবং ৬ উইকেটের এক অতিমানবীয় স্পেল! সাকিবের অবিস্মরণীয় এই পারফরম্যান্সের জোরে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো রেডস্টিলের (টিএনটি) বিপক্ষে ৪ উইকেটের এক জয় পেল বারবাডোজ। টিএনটিকে ১২.৫ ওভারে ৫২ রানে অলআউট করে দিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে বারবাডোজকেও খোয়াতে হল ৬ উইকেট। সবমিলিয়ে ২০.৫ ওভার স্থায়ী এই ম্যাচ দেখলো ১৬ উইকেটের পতন! বোলিং দাপটের ম্যাচে জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই আছে স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের সময় পার্থক্যের কারণেই একদিন আগের ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য হয়ে দাঁড়ায় পরদিনের ঘটনা। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ৩ আগস্টে টিএনটির বিপক্ষে যে ম্যাচটা খেললো বারবাডোজ; সেটাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হয়ে গেল ৪ আগস্ট ভোর বেলার ম্যাচ। আর একেবারে প্রত্যুষে উঠে বাংলাদেশের দর্শকরা দেখলেন অভাবনীয় এই পারফরম্যান্স। আগের ম্যাচে নতুন বলে কৃপণ বল করার পুরস্কার হিসেবে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। কালও নতুন বলে বল করতে এলেন ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে। প্রথম বলেই রস টেলরের উইকেট। নিজের দ্বিতীয় ওভারটা নিষ্ফল গেল। আর তৃতীয় ওভারেই আসলে টিএনটিকে শেষ করে দেয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়ার পথ তৈরি করে ফেললেন। ইনিংসের দশম এই ওভারে কোনো রান না দিয়ে তুলে নিলেন তিন উইকেট। প্রথম বলে ড্যারেন ব্র্যাভো, চতুর্থ বলে নিকোলাস পুরান ও ষষ্ঠ বলে কেভন কুপারকে আউট করলেন সাকিব! একেবারে আম্পায়ারের কারণেই হ্যাটট্রিক বঞ্চিত হলেন; ওভারের পঞ্চম বলেই নিশ্চিত এলবিডব্লুর আবেদন ফিরিয়ে দিলেন আম্পায়ার। তারপরও নিজের এই তৃতীয় ওভার শেষে ৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কেনসিংটন ওভালের সেরা টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স স্পর্শ করে ফেললেন। আর শেষ ওভারের প্রথম ও শেষ বলে আরও দুই উইকেট নিয়ে সাকিব নাম লেখালেন বৈশ্বিক তালিকায়! সাকিবময় এই ম্যাচে জ্যাসন হোল্ডার ও গ্যাব্রিয়েল শ্যানন উত্সবে যোগ দিয়েছিলেন ২ উইকেট করে নিয়ে। ফলে মাত্র ১২.৫ ওভারে ৫২ রানে অলআউট টিএনটি। এই রান পাড়ি দিতে গিয়েও বিপাকে পড়েছিলো বারবাডোজ। সাকিব ব্যাট হাতে দুঃসময়টা কাটিয়ে উঠতেই পারছেন না; কালও ৬ বলে সেই ১ রান করেই আউট হয়েছেন! ফিদেল এডওয়ার্ডস ২২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে একটু হলেও কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন বারবাডোজকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাকিবের দলই শেষ হাসি হেসেছে। এমন ম্যাচে হারলে সাকিবের নিশ্চয়ই দুঃখের শেষ থাকতো না! টি-টোয়েন্টির সেরা বোলিং বোলিং বোলার দল প্রতিপক্ষ সাল ৬/৫ অরুল সুফিয়া সমারসেট গ্লামারগন ২০১১ ৬/৬ সাকিব আল হাসান বারবাডোজ টিএনটি ২০১৩ ৬/৭ লাসিথ মালিঙ্গা মেলবোর্ন পার্থ ২০১২ ৬/৮ অজন্থা মেন্ডিজ শ্রীলঙ্কা জিম্বাবুয়ে ২০১২ ৬/১৪ সোহেল তানভীর রাজস্থান চেন্নাই ২০০৮ ৬/১৫ সঞ্জীবা রোশান পানাদুরা শ্রীলঙ্কা এয়ার ২০০৫ ৬/১৬ টিম সাউদি এসেক্স গ্লামারগন ২০১১ ৬/১৬ অজন্থা মেন্ডিজ শ্রীলঙ্কা অস্ট্রেলিয়া ২০১১ ৬/১৬ সিংহি মাসাকাদজা মাউন্টেনিয়ারর্স টাসকার ২০১২ সাকিবের চার ওভার ১ম ওভার: উ. ০.০.০.১.০ ২য় ওভার: ১.০.১.০.১.০ ৩য় ওভার: উ.০.০.উ.০.উ চতুর্থ ওভার: উ. ০.১.১.০.উ * উ: উইকেট