আগাম অর্থ নেয়া ফুটবলারদের সময় বেঁধে দিল বাফুফে
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:০০
ফুটবলারদের এক ক্লাব থেকে টাকা নিয়ে অন্য ক্লাবে নাম লেখানোর অভ্যাস নতুন নয়। ঢাকার ফুটবলে তারকা খেলোয়াড়দের অনেকেও এমনটি করেছেন। এই নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কম জটিলতা হয়নি। বাফুফে তাই পেশাদার লিগের দলবদলের প্রাক্কালে ফুটবলারদের জানিয়ে দিয়েছে অনিয়ম হয়ে থাকলে যেন আজ সোমবারের মধ্যে সমাধান করা হয়।
এ সমস্যা সমাধানে খেলোয়াড় দলবদলে টোকেন প্রথা চালুর পরও সমস্যাটি রয়ে গেছে। এ প্রথায় টোকেন যার হাতে খেলোয়াড় সেই ক্লাবের। এই নিয়ম প্রবর্তনের পর দুই ক্লাব থেকে আগাম টাকা নেয়ার প্রবণতা কমলেও বন্ধ হয়ে যায়নি। বর্তমানে বিদ্যমান পেশাদার ফুটবল লিগের কঠোর নিয়মের পরও দুই ক্লাব থেকে টাকার নেয়ার প্রবণতা কমেনি। এবারও অভিযোগ উঠেছে কিছু ফুটবলার দুই ক্লাব থেকে আগাম পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছেন।
এ ব্যাপারে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন জানিয়ে দিয়েছিলেন কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি, এমনকি ১০ বছরের জন্যও বহিষ্কৃৃত হতে পারেন অভিযুক্ত ফুটবলার। বাফুফে খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিয়েছে অনিয়ম হয়ে থাকলে আজ সোমবারের মধ্যে সমাধান করতে হবে। কারণ পেশাদার ফুটবলের খেলোয়াড়দের দলবদল চলবে ১৬ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর। বাফুফে চাইছে ঝুট ঝামেলাহীন দলবদল হোক। তারপরও এমনটা হবে কিনা সে নিয়ে আশংকা রয়েছে।
কারণ মোহামেডান আগাম অর্থ নেয়া ১০ জন ফুটবলারের নাম জমা দিয়েছে বাফুফেতে। এরা হলেন শেখ জামালের আরিফুল ইসলাম আরিফ, অরূপ বৈদ্য, তৌহিদুল আলম সবুজ, শাকিল আহমেদ, শেখ রাসেলের নাহিদুল ইসলাম, ইমন বাবু, জাহিদ হাসান, মামুন মিয়া, জাহিদ হাসান এমিলি এবং ব্রাদার্সের ইউসুফ সিফাত।
দলবদলের প্রাক্কালে গুঞ্জন রয়েছে এদের কয়েকজন মোহামেডানের কাছ থেকে আগাম পারিশ্রমিক নিয়েও পুরানো ক্লাব শেখ রাসেলে ফিরে গেছেন। আর এই নিয়ে মোহামেডান ও শেখ রাসেলের মধ্যে শুরু হয়েছে ঠাণ্ডা লড়াই। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিতে বাফুফে থেকে বলা হলেও গতকাল পর্যন্ত ফলপ্রসূ কিছু হয়নি বলে জানা গেছে।
শেখ জামালের উইংগার শাকিল আহমেদ মোহামেডান থেকে আগাম ১০ লাখ টাকা নিয়েও শেখ রাসেলে যোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমের কাছে। তিনি বলেছেন, পরের কিস্তির টাকা পাওয়ার জন্য মোহামেডানের সাথে যোগাযোগ করেও সাড়া পাইনি। সংবাদ মাধ্যমের কাছে তিনি স্বীকার করেন এক ক্লাব থেকে অর্থ নিয়ে অন্য ক্লাবে চলে যাওয়াটা অন্যায়। কিন্তু তিনি পরিস্থিতির শিকার। শাকিল জানিয়েছেন মোহামেডানের টাকা শেখ রাসেল বাফুফের কাছে দেবে। সেখান থেকে মোহামেডান টাকা নিবে।
এখন মোহামেডান কি ছাড় দেবে? মোহামেডান ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্য লোকমান হোসেন বলেছেন, ‘প্রশ্নই উঠে না। যারা আমাদের কাছ থেকে আগাম অর্থ নিয়েছেন তাদের মোহামেডানের জার্সি গায়ে খেলতে হবে।’ আগাম অর্থ গ্রহণের পর কিস্তির টাকা সম্পর্কে লোকমান বলেন, ‘কারো সাথে এধরনের কোনো কথা হয়নি। যারা আগাম অর্থ গ্রহণ করেছেন তারা দলবদলের সময় বাকি টাকাটা নিবেন।’
জাহিদও মোহামেডান থেকে ১০ লাখ টাকা আগাম নিয়েও শেখ রাসেলে ফিরে গেছেন। একই অবস্থা স্ট্রাইকার মিঠুন চৌধুরির। তিনিও নাকি আবাহনীর কাছে থেকে এক লাখ টাকা আগাম নিয়ে শেখ রাসেলে ফিরেছেন। একই পরিস্থিতির কারণে মামুনুল ইসলামকে শেখ রাসেল শোকজ করেছিল। এখন দেখার বিষয় আজকের সময়সীমার মধ্যে এ সমস্যার কি সুরাহা হয়।