মিয়ানমারে থেমে নেই তেল পাচার

মিয়ানমারে তেল পাচার থেমে নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ঈদ ব্যস্ততার সুযোগে পাচারকারীরা বেপরোয়া হয়ে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভোজ্য তেল পাচার অব্যাহত রেখেছে। ভোজ্য তেল সরবরাহ ও বিপণনে স্থানীয় প্রশাসনের কোন প্রকার নজরদারি বা বিধি-নিষেধ না থাকার কারণে তেল পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বিজিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ইউএনওর অনুমতিপত্র নিয়ে ব্যবসায়ীরা তেল সংগ্রহ করছে। তাই আমাদের করার কিছু নেই। ইউএনওর দাবি, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদার ভিত্তিতে তেল নেয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অজুহাত তারা খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা মতো তেল বিক্রি করছে। ওই তেল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা আমাদের জানার কথা নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া সদর থেকে চাঁদের গাড়িতে করে সীমান্তের নির্ধারিত পয়েন্টের বিভিন্ন বাড়িতে এসব ভোজ্য তেল মজুদ করা হয়। পরে সুযোগ বুঝে নাফ নদী পাড় হয়ে সরাসরি মিয়ানমারে তেল পাচারের ধারাবাহিকতা চলে আসছে দীর্ঘ দিন থেকে। বিজিবি সদস্যরা মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণে ভোজ্য তেল উদ্ধার করে বালুখালী কাস্টমসে জমা দিলেও ভোজ্য তেলের বড় চালান স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় অনায়াসে পাচার করা হচ্ছে। সীমান্তের আমতলী গ্রামের বাসিন্দা নজির আহমদ (৪৫), অলি উল্লাহসহ (৩২) একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমতলী ডেইলপাড়া ও করইবনিয়া দিয়ে ৪৫-৫০ জনের একটি বহর কন্টেইনার ভর্তি ভোজ্য তেল নিয়ে মিয়ানমারের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। তাদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী আগে থেকে সব ব্যবস্থা করে রাখে। পালংখালী সীমান্তের ধামনখালী গ্রামের বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী হোছন আহমদ (২৮) ও মদন আলী (৩০) জানান, দিনে ভোজ্য তেল মজুদ করা হয়। পরে সুযোগ বুঝে কন্টেইনার ভর্তি ভোজ্য তেল রাতে নাফ নদীর হাঁটু পানি পাড়ি দিয়ে ওপারে চালান করা হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী দালাল চক্র চোরাচালানীদের নিয়ন্ত্রণ করায় পাচারে বাধা দেয়া নিরাপদ মনে করেন না বলে তারা জানান। এভাবে উখিয়ার প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমান্তের ৭টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার কন্টেইনার ভর্তি ভোজ্য তেল মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদার ওপর নির্ভর করে ১০/১২ জন পাইকারী ব্যবসায়ীকে প্রতি সপ্তাহে ৪৫ হাজার লিটার ভোজ্য তেল সরবরাহ ও বাজারজাতকরণের অনুমতি দেয়া হয়। মরিচ্যা বিজিবির সুবেদার নূরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীরা প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ লিটার ভোজ্য তেল ও হাজার হাজার প্যাকেটজাত ভোজ্য তেল নিয়ে যাচ্ছে। এসব তেলে সিংহভাগ মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, প্রশাসনের অনুমতি থাকায় ভোজ্য তেল আটক করা বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয়, চোরাচালান ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী মিয়ানমারে ভোজ্য তেল ও সার পাচারের বিষয় নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বলেন, মিয়ানমারে তেল ও সার পাচার শক্তভাবে প্রতিরোধ করতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। তিনি সীমান্তরক্ষী বিজিবি সদস্যদের আরো তত্পর হওয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তেল পাচারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় এনে এখন থেকে ব্যবসায়ীদের মনিটরিং করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।