কক্সবাজারে পাহাড় কাটছে কলেজ কর্তৃপক্ষ
আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০২
কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রস্থল ডিসি ও এসপি অফিসের মাত্র ২ কিলোমিটারের মধ্যে জনবহুল সাহিত্যিকা পল্লী এলাকায় গত ৩ দিন ধরে পাহাড় কাটা চলছে। গতকাল রবিবার বিকালে একদল সাংবাদিক এই অপতত্পরতার বিষয়টি সরজমিনে উদ্ঘাটন করেন। শহরের মধ্যে এত কাছের ঘটনা হলেও বিষয়টি তার জানা ছিল না বলে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. আজাদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘পাহাড় কাটার বিষয়ে কিছুই জানতাম না।’ জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনও প্রায় একই কথা বলেন। অবশ্য পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, দেরিতে হলেও জানতে পেরে তারা পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন।
গতকাল বিকালে সাহিত্যিকা পল্লী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক শ্রমিক এক্সকাভেটর দিয়ে কক্সবাজার সিটি কলেজ সংলগ্ন পাহাড় কেটে ফেলছে। পাহাড় থেকে কাটা মাটি পরিবহনে ডজন খানেক ট্রাক ব্যবহার চলছে। এসব ট্রাক মাটি নিয়ে শহরের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করছে। ঘটনাস্থল থেকে ফোনে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানানো হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার সময় দুই জন শ্রমিককে আটক করে। এ সময় একটি ট্রাকসহ মাটি কাটার সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরকে না জানিয়ে সিটি ডিগ্রি কলেজের মালিকানাধীন এ পাহাড়টি কাটা হচ্ছিল। পাহাড় কাটার সাথে সিটি কলেজ কর্তৃৃপক্ষ ও স্থানীয় এক সাবেক জনপ্রতিনিধি জড়িত বলে জানান তিনি। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলেও জানান।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সিটি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য এথিন রাখাইনের স্বামী ক্যা থিং অং বলেন, ‘কক্সবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে আমি পাহাড় কাটার পক্ষে। আমি চাই না কলেজের সামনে এ পাহাড় থাকুক।’ পাহাড়টি ‘সৌন্দর্য হানিকর’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আটক শ্রমিক মুহাম্মদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ ঈসমাইল জানান, তারা ৩ দিন ধরে পাহাড় কাটছেন। এই কাজে কেউ তাদের বাধা দেয়নি।