শোকাবহ আগস্ট
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৩
১৯৭৫ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যাবেলা জিয়ার সাথে সাক্ষাত্ করেন মেজর ফারুক। সেদিনের সেই সাক্ষাত্কার সম্পর্কে মেজর ফারুক পরবর্তীকালে বলেন, প্রথমেই আমরা জেনারেল জিয়াকে উপযুক্ত ব্যক্তি বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ১৯৭৫ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যাবেলা তার সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করি। সেদিন জেনারেল জিয়া বলেন, আমি একজন সিনিয়র অফিসার; আমি এ ধরনের ব্যাপারে জড়িত হতে পারি না। তোমরা জুনিয়র অফিসাররা যদি এটা করতে চাও, তাহলে এগিয়ে যাও।’
১৯৭৬ সালের ২ আগস্ট যুক্তরাজ্যের আই টিভিতে প্রচারিত গ্রানাডা টেলিভিশনের ‘ওয়ার্ল্ড ইন অ্যাকশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ্যান্থনী ম্যাসকারেনহাসকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তত্কালীন মেজর ফারুক এসব কথা বলেন।
জিয়ার সাথে কি কথা হয়েছিল- এ প্রশ্নের জবাবে ফারুক বলেন, ‘সরাসরি না বলে জিয়াকে আমি কথাটা ঘুরিয়ে বলি। আমি বললাম, দুর্নীতিতে দেশ ভরে গেছে, দেশের জন্য একটি পরিবর্তন দরকার।’ এটুকু বলতেই জিয়া বলেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ চলো আমরা বাইরে লনে গিয়ে বসে আলাপ করি। সেখানে আমি তাকে জানাই যে, আমরা জুনিয়র অফিসাররা পরিবর্তন আনার সম্পর্কে পরিকল্পনা তৈরি করেছি। সব শুনে তিনি এই উক্তি করেছিলেন।
এই আলোচনা ও প্রস্তাব পেশ করার পরও তত্কালীন সামরিক বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মেজর ফারুকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির কাছে খবর পাঠাননি বা গ্রেফতার করেননি। এ প্রসঙ্গে ফারুক বলে, না, তিনি তার এডিসিকে শুধু এরপর আমাকে সাক্ষাতের অনুমতি আর না দেয়ার জন্য বলেন।
এসময় ম্যাসকারেনহাস বলেন, তাহলে সেনাবাহিনীর যে ব্যক্তির কাছে প্রস্তাব পেশ করা হয়, তিনি পিছিয়ে গেলেন কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জুনিয়র অফিসাররা নিয়োজিত থাকাকালে জেনারেল জিয়া অপেক্ষা করেন এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখেন। আট মাসের মধ্যেই জিয়ার এই কৌশল ফলপ্রসূ হয়। এই সাক্ষাত্কারে ফারুক জানান, দেশ পরিচালনার জন্য খন্দকার মোশতাক যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তা তিনি রক্ষা করেননি। দেশের যে পরিবর্তন করবেন বলে তিনি বলেছিলেন তা রক্ষা করেননি। জেনারেল জিয়াও কিছুই করেননি।