ঈদে বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন অনেকেই

ঈদ করতে বহু মানুষ এবার বাড়ি যাচ্ছেন না। তাদের ঈদের আনন্দ মাটি করে দিয়েছে হরতাল। ঈদের পর ১২ ও ১৩ আগস্ট টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচির কারণে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন তারা। গতকাল রবিবার গাবতলী বাস টার্মিনালসহ কয়েকটি দূরপাল্লার পরিবহনের অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এমন তথ্য। এদিকে ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষ ট্রেন সার্ভিস গতকাল থেকে চলাচল শুরু করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে পৃথক পৃথক সময় ছেড়ে যায় এসব ট্রেন। তবে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম থাকায় প্রথমদিন কোনো স্ট্যান্ডিং (দাঁড়িয়ে ভ্রমণ) টিকিট বিক্রি করা হয়নি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিটের চাহিদা বাড়বে। ঈদের আরো ৫ দিন বাকি থাকতেই নৌপথের যাত্রীদেরও ভিড় বেড়েছে সদরঘাট নদী বন্দরে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী গতকাল দিনের বেলায়ও বেশ কয়েকটি লঞ্চ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট নদী বন্দরে বাড়তি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দূরপাল্লার বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে পরিবহনকর্মীরা জানিয়েছেন, এই ভিড় শুধু ঘরমুখো মানুষদের নয়। অনেকেই এসেছেন টিকিট ফেরত দিতে। ঈদের পর দুইদিনের হরতালের কারণে অনেকেই ঢাকায় ফেরার অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। সে কারণে কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত ঈদ করতে বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন। একটি ট্রাভেল এজেন্সির কাউন্টারে কথা হয় জয়পুরহাটের যাত্রী তাইজাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি চাকরি করেন তেজগাঁওয়ের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। ঈদের ছুটির পর ১২ তারিখে তার কাজে যোগদানের কথা। কিন্তু ১২ ও ১৩ তারিখ টানা হরতালের কারণে তিনি বিপাকে পড়েছেন। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী-কন্যাকে বাড়িতে পাঠিয়ে নিজের টিকিট ফেরত দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু কাউন্টার থেকে বলা হয়েছে ঈদের টিকিট ফেরত নেয়া হবে না। যদি অন্যকোনো যাত্রী চায় তখন তার কাছে বিক্রি করা হবে এই টিকিট। এরপর ৫ শতাংশ টাকা কেটে রেখে ফেরত দেয়া হবে তাইজালের টাকা। বাধ্য হয়ে ওই শর্তেই টিকিট ফেরত দিয়ে এসেছেন তিনি। মাজার রোড ও কল্যাণপুর এলাকার আরো কয়েকটি কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, হঠাত্ হরতাল কর্মসূচির কারণে যাত্রীদের অনেকেই টিকিট ফেরত দেয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন। কিন্তু ঈদ মৌসুমে বিক্রি করা অগ্রিম টিকিট ফেরত নেয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিচ্ছেন পরিবহনকর্মীরা। এ কারণে টিকিট ফেরত দেয়া নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের বিশেষ ট্রেন সার্ভিস গতকাল থেকে চলাচল শুরু করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে মোট ৭ জোড়া ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করবে। প্রথমদিন সবগুলো বিশেষ ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু তাহের। তিনি বলেন, আমাদের কাছে কেউ কেউ রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ এনেছেন। কিন্তু কোনো যাত্রী যদি তার সংগৃহীত টিকিট অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দেন সেক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কি করার থাকতে পারে? অগ্রিম প্রদানের বেলায় আমরা তো একজন যাত্রীর কাছে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় রেলওয়ের সামগ্রিক সক্ষমতা অনেক কম। সে কারণে ট্রেনের টিকিট প্রত্যাশীদের ক্ষোভ-অভিযোগ থাকবেই। আমরা রেলওয়ের সক্ষমতার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের চেষ্টা করছি। এদিকে ঈদের এখনো ৫ দিন বাকি থাকতেই মহাসড়কগুলো তীব্র যানজটের জালে আটকা পড়তে শুরু করেছে। গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রায় ৫০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েকদিন মহাসড়কের যানজট আরো ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করবে। সড়ক ব্যবস্থাপনা তথা পুলিশি ভূমিকার উন্নতি না হলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনিবার্য বলেও মন্তব্য করেন তারা।