গল্প
আকাশলীনা
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ১৭:৪০
রাত দেড়টায় একটা ইনবক্স মেসেজ এল।
ফেসবুকে।
‘এত রাতে কী করা হচ্ছে?’
সুমন তার ল্যাপটপে গান শুনছিল, টিউটোরিয়াল ক্লাসের জন্য একটা লেকচার তৈরি করছিল এবং তার ফেসবুক খোলা ছিল।
ফেসবুকে সে নতুন, তার মাত্র ৪৫ জন বন্ধু এ পর্যন্ত, লেখার পাশাপাশি সে বারবার করে যাচ্ছিল ফেসবুকিং, আর দেখছিল কোনো নোটিশ আসে কিনা, কেউ কি তার কোনো স্ট্যাটাস বা ছবি লাইক করল, একটু আগে সে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছে, ‘তোমার হূদয় আজ ঘাস, আকাশের ওপারে আকাশ’, জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশলীনা’ কবিতা থেকে, তাতে কটা লাইক পড়ে তার জানতে সাধ হচ্ছে। দুটো মাত্র লাইক পড়েছে, তার বন্ধুরা এত রাতে হয়তো জেগে থাকে না। ঠিক এই সময় ফেসবুকের ইনবক্সে মেসেজ এল।
সুমন, ঢাকার একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষক, তাড়াতাড়ি তার ইনবক্স মেসেজ চেক করল।
‘এত রাতে কী করা হচ্ছে?’
সুমন প্রথমে বিস্মিত, বার্তাপ্রেরক জানল কী করে, সে এত রাতে জেগে আছে। এরপরে তার মনে পড়ল, ফেসবুকে কোন বন্ধুরা অনলাইনে আছে, সেটা হয়তো দেখা যায়। তাকে হয়তো তার বন্ধুরা দেখতে পারছে।
তবে যে তাকে বার্তাটা পাঠিয়েছে, সে তার বন্ধু নয়। তার নাম দেখাচ্ছে ‘আকাশলীনা’। প্রোফাইল পিকচারের জায়গায় নীল আকাশ আর এক টুকরা সাদা মেঘ।
সুমন বুঝল, এ তার আকাশলীনা কবিতা থেকে স্ট্যাটাস দেবার ফল।
কিন্তু তার স্ট্যাটাস তো কোনো বন্ধু ছাড়া আর কারও দেখবার কথা নয়। কে জানে, হয়তো তার স্ট্যাটাস যে দুই বন্ধু লাইক দিয়েছে, তাদের কোনো বন্ধু তা দেখে ফেলেছে। ফেসবুকের সব রহস্য সে জানে না।
সুমন ইনবক্সের মেসেজের জবাব দিল, ‘এই তো জেগে জেগে গান শুনছি। ক্লাসের জন্য লেকচার প্রিপায়ার করছি। আর ফেসবুকে আপনাকে লিখছি।’
‘বাহবা। আপনি এত কাজ পারেন?’
‘না না। এর মধ্যে একটাই তো কাজ। বাকি দুটো কাজ না। অকাজ। বাই দ্য ওয়ে। আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না।’
‘আমি? আমাকে চিনতে চান?’
‘হ্যাঁ।’
‘আমাকে চেনা তো খুব সহজ। আমি আকাশলীনা।’
‘আকাশলীনা। সে তো দেখতেই পাচ্ছি। আর কোনো পরিচয়?’
‘আর কোনো পরিচয়। আপনার কৌতূহল তো কম না!’
‘না মানে কার সঙ্গে কথা বলছি একটু জানলে সুবিধা হতো না?’
‘আরও জানতে চান। তাহলে আপনি আমার প্রোফাইলে যান। জানতে পারবেন।’
তাইতো। সুমন তো বোকা আছে। প্রোফাইলে ঢুকলেই তো হয়। সে আকাশলীনার প্রোফাইলে যায়।
নাহ। তেমন কোনো সুবিধা হবে না এখানে। আকাশের ছবি ছাড়া আর কিছু নাই। আর পরিচয়ও বিস্তৃত করে কিছু বলা নাই।
সুমনের একটু প্রত্যাশাভঙ্গ হয়। ফেসবুকে মিথ্যা আইডির ছড়াছড়ি। যে কেউ যেকোনো নাম দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। আকাশলীনা তো তবু একটা ছদ্মনাম, সেটা বোঝাই যাচ্ছে, এমনও হয়, একেবারে পরিচিত কোনো নারীর নাম দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে কোনো পুরুষের সঙ্গে নানা কথাবার্তা বলে সেইসব কথার স্ক্রিনশট নিয়ে রেখে পরে আবার ফেসবুকেই প্রকাশ করে দেওয়া হয়। ওই পুরুষ মানুষটির তখন বিব্রত হওয়া ছাড়া কোনো পথ থাকে না। তার যেকোনো ছাত্র এই কাজ করতে পারে। তার সঙ্গে নানা রংঢং করে সেসব আবার প্রকাশ করে দিতে পারে। কাজেই এই আকাশলীনাকে পাত্তা না দেওয়া ভালো।
‘কী? আমার প্রোফাইল পিকচারে কিছু দেখলেন?’ বার্তা আসে।
‘না তো। তেমন কিছু নাই।’ সুমন জবাব দেয়।
‘আচ্ছা, আপনি এখন এই রাতের বেলা গরমের মধ্যে ফুলহাতা শার্ট পরে আছেন কেন?’
এইবার সুমনের চমকে উঠবার পালা। সে ফুলহাতা শার্ট পরে আছে, এই আকাশলীনা জানল কী করে?
সে তার এই জিজ্ঞাসাটাই জানিয়ে দেয়, ‘আমি ফুলহাতা শার্ট পরে আছি, আপনি জানলেন কী করে?’
‘আপনার শার্টের রং নীল।’
সর্বনাশ। সুমন চমকে ওঠে। তার ল্যাপটপের ওয়েবক্যাম চালু আছে নাকি? তাকে কি এই আকাশলীনা দেখতে পাচ্ছে?
না। তার ক্যামেরার বাতি জ্বলছে না। আর সে ভিডিও চ্যাটের অপশন অনও করেনি। তাহলে তাকে দেখা যাবার কোনো কারণই নাই।
‘আপনি জানলেন কী করে?’
‘আপনার নীল শার্টের কলারের বোতামটা ভাঙা।’
সুমন তাড়াতাড়ি কলারের বোতাম চেক করে। সত্যি তো ভাঙা।
‘আপনি জানলেন কী করে?’
‘চাইলেই জানা যায়। আপনি যদি খুব মনপ্রাণ দিয়ে কিছু চান। আপনি নিশ্চয়ই সেটা পাবেন।’
‘আপনি মনপ্রাণ দিয়ে কী চেয়েছেন? আমার বোতাম ভাঙা কিনা সেটা জানতে।’
‘শুধু সেটা নয়। এই যে আপনি আজ রাতে ভাত খাননি। পাউরুটি সেঁকে খেয়েছেন। আর এক গেলাস দুধ। এটাও আমি জানি।’
এইবার সুমনের ভয় পাবার পালা। সুমন তার এই ফ্ল্যাটে একা থাকে। তার একটা কাজের ছেলে আছে, যে কিনা ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছে। এই ফাঁকা বাসায় এই গভীর রাতে কে তাকে প্রতি পদক্ষেপে অনুসরণ করছে?
সুমন তার পড়ার টেবিল ছাড়ে। ঘরটার চারপাশে তাকায়। শোবার ঘরে যায়, বৈঠকখানা, ডাইনিং—সব ঘরে উঁকি দেয়, বাতি জ্বালায়, গেলাসে ঢেলে পানি খায়, গেটের দরজাটা লক করা আছে কিনা পরখ করে। তারপর আবার ফিরে আসে তার পড়ার ঘরে, চেয়ারে বসে, ল্যাপটপটায় চোখ রাখে, ফেসবুকে এসে দেখে আকাশলীনার সবগুলো মেসেজ মুছে গেছে। সে মেসেজ অপশনে গিয়ে সবগুলো মেসেজ চেক করে, কিন্তু একটু আগে আকাশলীনার সঙ্গে তার যে কথোপকথনগুলো হয়েছিল, তা আর কোথাও খুঁজে পায় না। ফেসবুক জিনিসটা রহস্যময় আছে, স্ট্যাটাস হারিয়ে যায়, মেসেজ বক্স ওপেন হয় না, নানা দৈবপ্রায় দুর্ঘটনা এক্ষেত্রে ঘটতে পারে। সুমন ভাবে।
এই সময় তার মোবাইল ফোনে মেসেজ আসার শব্দ হয়। সে মোবাইল ফোনটা টেবিলের এক কোণ থেকে তুলে হাতে নেয় এবং দেখে, লেখা উঠেছে, কী ব্যাপার, আপনি কই গেলেন? আকাশলীনা।
এই ক্ষুদে বার্তা দেখে তার মাথা পুরোটাই চক্কর দিয়ে ওঠে। এ কী ঘটছে, কে এই ভীষণ নিষ্ঠুর রহস্যময় খেলা খেলে চলেছে তার সঙ্গে।
সে তখন সেই এসএমএসের জবাব দেওয়া কর্তব্য বলে মনে করে। সে লেখে, আপনি কই ভাই আকাশলীনা?
আমি আকাশে।
জবাব আসে।
সুমন বলে, রহস্য করবেন না। প্লিজ বলুন আপনি কে? আপনি কই?
জবাব আসে, আপনার খুব কাছেই আমি আছি। খুব কাছে।
সুমন ল্যাপটপ বন্ধ করে।
তখন ক্ষুদে বার্তা আসে মুঠোফোনে : ল্যাপটপ বন্ধ করলেন কেন?
সুমন বাতি অফ করে।
বার্তা আসে, আপনি বাতি বন্ধ করছেন কেন? আপনি কি ভয় পাচ্ছেন?
সুমন অন্ধকার ঘরে মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমের ভান করে পড়ে থাকে। তার ঘুম আসতে চায় না। সত্যি সে ভয় পেয়েছে ভীষণ।
সকালবেলা তাকে ইউনিভার্সিটি যেতে হয়। ক্লাস নিতে হয়। ক্লাসের কোনো দুষ্টু ছেলে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে কিনা সে সবার চোখমুখের ভঙ্গি দেখে বোঝার চেষ্টা করে।
বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত। ফেরার পর সে আবার ল্যাপটপ খোলে। ফেসবুক অন করে। ফেসবুকে আবার মেসেজ এসেছে। কী ব্যাপার বাতি বন্ধ করে ল্যাপটপ বন্ধ করে পালিয়ে গেলেন কেন? আপনি এত ভীতু?
সুমন আকাশলীনার প্রোফাইলে আবার যায়। বোঝার চেষ্টা করে আকাশলীনাটা আসলে কে?
সে ভালো করে তার প্রোফাইলের সবকিছু দেখে।
তার দেয়ালের কিছু পোস্ট দেখে সুমন চমকে ওঠে :
আকাশলীনা, তুই এভাবে মারা যেতে পারিস না। রোড অ্যাকসিডেন্ট তোকে পরপারে নিয়ে গেছে, তবুও তুই আছিস আমাদের অন্তরে।
আমরা তোকে ভুলব না।
নিরাপদ সড়ক চাই, আকাশলীনার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি চাই, এসব কথা লেখা তার দেয়ালে।
সুমনের সারা শরীর কাঁপতে থাকে।
এইবার আবারও ফেসবুকে মেসেজ আসে।
সুমন, তুমি কি আমাকে চিনতে পেরেছ?
সুমন জবাব দেয়, না তো। চিনতে পারিনি।
তুমি কি আমাকে দেখতে চাও?
হ্যাঁ। চাই।
তাহলে তুমি ছাদে আসো। এখনই।
সুমন বলে, আচ্ছা আসছি।
সুমন দ্রুত তাদের বিল্ডিংয়ের ছাদের দিকে দৌড় ধরে। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। তবু আকাশে লাল আভা।
তাদের বিল্ডিংয়ের পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে সে দেখে একটা নারীর অবয়ব। সাদা ওড়নায় মাথা ঢাকা।
মেয়েটি হাত নাড়ে।
সুমনও হাত নাড়ে।
সুমন দ্রুত নিচে চলে আসে। তার বুক কাঁপছে। সে পানি খায়। ল্যাপটপে যায়।
এবার মেসেজ : কী এত দ্রুত ছাদ থেকে চলে এলে যে?
আপনি কে?
আমি আকাশলীনা।
আকাশলীনা?
হ্যাঁ। আমি আকাশে থাকি।
আপনি আকাশে থাকেন মানে কী?
কয়েকদিন আগে রোড ট্রাফিক অ্যাকসিডেন্টে আমার...
সুমন অজ্ঞান হয়ে যায়।
যখন জ্ঞান হয় তখন সে হাসপাতালে।
তার পাশে একটি তন্বী তরুণী। উদ্বেগাকুলভাবে তাকিয়ে আছে।
মেয়েটি বলে, জ্ঞান ফিরল?
আপনি কে?
আমি আকাশলীনা।
মানে কী? আমিও কি মারা গেছি? আমি কি মৃত্যুর অপর পারে?
না আপনি হাসপাতালে।
আমার কী হয়েছে?
আপনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। আপনি খুব ভীতু।
আপনি কে আসলে?
আমি আকাশলীনা। এই হাসপাতালের ডাক্তার।
আপনি এই হাসপাতালের ডাক্তার। আপনার নাম আকাশলীনা?
আমার নাম আসলে লীনা। কিন্তু জীবনানন্দ দাশের কবিতার নাম থেকে আমি নিজের নামটাকে আকাশলীনা করে নিয়েছি।
সুমন আবার ধন্ধে পড়ে।
আমি এখানে কীভাবে এলাম।
আপনার দরজার বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলে আপনাকে আপনার ফ্ল্যাট থেকে বের করে আনা হয়েছে।
আমার দরজার বিকল্প চাবি কোত্থেকে এল?
আপনি নাকি আপনার কাজের ছেলে আসবে ভেবে গেটের দারোয়ানকে চাবি দিয়ে রেখেছিলেন!
হ্যাঁ। তা দিয়েছিলাম। তো কে আনল আমাকে?
আকাশলীনা এনেছে।
আকাশলীনা কে?
বললাম না আমি।
ঘটনা কী?
আপনি অসুস্থ। সুস্থ হয়ে নিন। তারপর বলব।
রহস্যের উন্মোচন না হওয়া পর্যন্ত আমি তো সুস্থ হতে পারি না। আরও অসুস্থ হয়ে পড়ব।
আচ্ছা আপনি আপনার বাসায় চলুন। আপনাকে সব বোঝানো যাবে।
সুমন হাসপাতাল থেকে বাসায় চলে এসেছে। ওই রহস্যময় চিকিত্সক মেয়েটি তাকে বাসার গেট পর্যন্ত নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে।
সুমন রাতের বেলা আবার ল্যাপটপে বসে।
আবারও সেই মেসেজ আসে ল্যাপটপে, ফেসবুকে : কী আবার ল্যাপটপে বসা হলো? আজকে আপনার গায়ে লাল টিশার্ট। আপনাকে খুব মানিয়েছে।
আপনি কে?
আমি আকাশলীনা।
সর্বনাশ। আপনি কি ভূত?
হ্যাঁ। আমি সর্বভূতেষু।
সুমন আবার পেছনে তাকায়। ঘরের মধ্যে পায়চারি করে। এবার মোবাইলে এসএমএস আসে, পায়চারি করে কী লাভ?
সুমন তাড়াতাড়ি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনে এসএমএস আসে, বাসা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন যে বড়...
সুমন সাইকায়িট্রিস্টের কাছে যায়। পুরো ঘটনা খুলে বলে। সাইকিয়াট্রিস্টের নাম অধ্যাপক আলীমুজ্জামান। তার গালে দাড়ি, চোখে মোটা চশমা। তিনি বলেন, আপনার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। আপনি ভুল দেখছেন।
স্যার, আমার ল্যাপটপ আমি এনেছি। আপনি দেখুন। আমি ফেসবুক খুলে দেখাচ্ছি।
সুমন ফ্ল্যাটে ফেরে।
তাকে উদ্ভ্রান্ত দেখায়।
তার ভীষণ জ্বর। সে জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকতে শুরু করে।
এই সময় তার বাসার কলবেল বেজে ওঠে। সে দরজা খোলে অতি কষ্টে। দেখতে পায়, সেই ডাক্তার মেয়েটি তার সামনে দাঁড়িয়ে।
সে বলে, আপনার জ্বর?
আপনি কী করে জানলেন?
জানা যাবে না? আমি তো আকাশলীনা।
আপনি আমাকে মুক্তি দিন।
দিচ্ছি। আপনি একটু আমার সঙ্গে আসুন।
কোথায়?
আপনাদের বিল্ডিংয়ের পাশের বিল্ডিংয়ে। একই ফ্লোরে। মানে চারতলায়।
আমার জ্বর। আমি হাঁটতে পারছি না।
ওই বাসায় গেলে আপনার জ্বর ভালো হয়ে যাবে।
সুমন মেয়েটির পেছন পেছন মন্ত্রমুগ্ধের মতো হাঁটে। লিফটে নামে।
পাশের বিল্ডিংয়ের চারতলায় ওঠে তারা লিফটে।
তারপর মেয়েটি তাকে তার শোবার ঘরে নিয়ে যায়। তার মা তাকে জিজ্ঞেস করেন, কে রে তোর সঙ্গে?
একটু পরে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি মা, আকাশলীনা দাবিদার মেয়েটি বলে।
মেয়েটি তাকে জানালা দিয়ে তাকাতে বলে, আঙুল তুলে বলে, আপনার জানালার কবাটের কাচের দিকে দেখুন। কী দেখতে পারছেন? রাতের বেলা আপনার পড়ার টেবিলের প্রতিবিম্ব আপনার জানালার কাচে পড়ে। আমার ঘর থেকে সব দেখা যায়। কাজেই আপনি যখন রাতের বেলা আপনার ঘরে পড়েন, এই ঘর থেকে আমি দেখতে পাই।
সুমন বলে, কিন্তু আমার শার্টের কলারের বোতাম ভাঙা, এটা তো এতদূর থেকে বোঝা যাবার উপায় নাই।
আপনার শার্টটা বাতাসে পড়ে গিয়েছিল নিচে। আমাদের বাসার শার্ট ভেবে দারোয়ানরা ওটা একবার আমাদের বাসায় দিয়ে গিয়েছিল। আমি ওটা আপনার জানি বলেই ফিরিয়ে দিয়েছি। তখনই আমি দেখে নিয়েছিলাম আপনার কলারের বোতাম আধাভাঙা।
কিন্তু আপনার ফেসবুকের ওয়ালে কেন লেখা আপনি একসিডেন্ট করে মারা গেছেন।
আপনাকে ভয় পেতে দেখে আমার মনে হলো আপনাকে আরও ভয় দেখাই। তাই।
আর আমার অজ্ঞান হয়ে যাবার পরের ঘটনা?
আপনাকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতে দেখে আমি ছুটে গেলাম আপনাদের বিল্ডিংয়ে। বললাম, আমার জানালা থেকে আপনার জানালা দেখা যায়, আপনি পড়ে গেছেন। অজ্ঞান হয়ে গেছেন। আমি তো ডাক্তার। অসুস্থর সেবা করা আমার কর্তব্য।
আপনি তো দেখি ঘামছেন। জ্বর কমছে। মা আসো। তোমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেই। উনি সুমন মাহবুব। ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির লেকচারার। উনি আমার মা।
স্লামালেকুম...
ওয়ালাইকুম আসসালাম।